কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে এক ভূমি বিরোধের প্রাথমিক তদন্তের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওই সরকারি তদন্ত দলের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে নারীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কি ঘটলো — তদন্ত পুলিশের বর্ণনা
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, মওদুদ স্কুল রোড এলাকার হাবা সফিদের বাড়ির সামনে ওই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, দারুল ইহছান মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগে একই এলাকার মানিক মিয়া ও অন্যান্যের নাম উল্লেখ করে আরও ৯-১০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছিল। অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য যাচাই করতে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ মহিউদ্দীনসহ একটি দল ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফিরে যাওয়ার সময় অভিযোগকারী পক্ষ ফোন করে জানায় যে বিবাদীরা নির্মাণাধীন ভবনের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করছে। তখন আবার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিবাদীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি-চড়াও করে। পুলিশের এক বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে যে হামলায় কয়েকজন সদস্য জখম হয়েছিলেন।
“তদন্তে গিয়ে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে,”
আহত ও গ্রেপ্তার — কী তথ্য মিলেছে?
পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে রয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ মহিনউদ্দিন ও কনস্টেবলরা মো. ইছাক, মো. ইউছুফ এবং শাহাদাত হোসেন। আহতরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী পরবর্তীতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে নারীও আছেন। গ্রেপ্তারদের নামগুলো হলো:
- ছেমনা খাতুন
- বিয়াধুনি
- মনোয়ারা
- আয়েশা
- অজি উল্লা
- আবু সুফিয়ান
- বোবা জাবের
পুলিশ জানিয়েছে, মাদ্রাসার নির্মাণাধীন ভবনের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিবাদী পক্ষ জমিটি নিজেদের মৌরসী সত্ত্ব দাবি করে নোয়াখালীর দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছে; অপরদিকে অভিযোগকারী পক্ষ জমিটি ক্রয় সূত্রে মালিক দাবী করেন। ঘটনার উপরে এখন মামলার প্রক্রিয়া চলছে — অভিযোগ দায়ের করেছেন দারুল ইহছান মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার।
| শ্রেণি | প্রতিবেদন করা নাম |
|---|---|
| আহত পুলিশ সদস্য | মঞ্জুর আহামেদ, আরিফ মহিনউদ্দীন, মো. ইছাক, মো. ইউছুফ, শাহাদাত হোসেন |
| গ্রেপ্তার | ছেমনা খাতুন, বিয়াধুনি, মনোয়ারা, আয়েশা, অজি উল্লা, আবু সুফিয়ান, বোবা জাবের |
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নগুলো
এই ঘটনার ফলে কোম্পানীগঞ্জে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের একটি উত্তেজক অধ্যায় সামনে এসেছে। প্রশ্ন জাগে—এই ধরণের মামলাগুলোতে কীভাবে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে মধ্যস্থতা করা যেতে পারে যাতে সাধারণ প্রশাসনিক তদন্ত প্রক্রিয়া হস্তক্ষেপে বাধাগ্রস্ত না হয়? স্থানীয়দের উদ্বেগের কথা গুরুত্ব দিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে কি না, এবং আহত পুলিশ সদস্যদের পড়া চিকিৎসা খরচ ও নিরাপত্তা নিয়ে কি ব্যবস্থাপনা নেওয়া হবে?
পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী কি অতিরিক্ত তৎপরতা দেখাবে—এই বিষয়গুলো এখন নজর রাখা প্রয়োজন।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে এই রিপোর্ট — ঘটনা ও গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তথ্যগুলি কোম্পানীগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষ থেকে সংগৃহীত করা হয়েছে।