নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের চরপানা উল্যাহ সড়ক সংস্কারের দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সড়কের অবস্থার অবনতি ও বর্ষা মৌসুমে দ্রুত হাঁটুপানিতে জল জমার ফলে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয়দের চলাচলে ব্যাপক কষ্ট হচ্ছে—এই অভিযোগ সামনে এনে কয়েক শতাধিক ভুক্তভোগী মানববন্ধনে অংশ নেন।
কেন আন্দোলন?
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তে হাঁটু পানিতে জল জমে যায়। ফলে গ্রামের সঙ্গে শহর যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি সেবা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নাগরিকরা জানান, সড়কটি ঠিক থাকলে শিক্ষার্থীরা ও শিক্ষাবোঝো পরিবারের লোকজন নিরাপদে চলাচল করতে পারতেন।
“হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও নির্মাণের দাবি জানান।”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জহিরুল ইসলাম, আতিকুর রহমান বাদশা, লোকমান হায়দার, হাসান পাটোয়ারী, মনির হোসেন, মরিয়ম, নুর নবী, নার্গিস, হানিফ মোল্লা, শামীম হোসেন, নুহিন আক্তার, সুফিয়া বেগম এবং বিবি মহিমা। তারা সড়কটি দ্রুত মেরামত করে জনদূর্ভোগ দূর করার দাবি জানায়।
স্থানীয় পরিপ্রেক্ষিত ও বাস্তবিক প্রভাব
চরজব্বরের বাসিন্দারা বলছেন, এ সড়কের উপর দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে সড়কের উপরের পানি ঠিকমতো নিস্কাশন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে বাজারজাতকরণ, কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করাও জটিল হয়ে ওঠে।
- মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা: কয়েক শতাধিক (স্থানীয়রা বলে)
- প্রধান দাবি: সড়কটি সংস্কার ও নির্মাণ
- বিশেষ প্রেক্ষিতে: সড়কটি আগে যোদ্ধা হাসানের নামে নির্মাণের কথা ছিল, তবে এখনও কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | চরজব্বর ইউনিয়ন, চরপানা উল্যাহ সড়ক, সুবর্ণচর, নোয়াখালী |
| ঘটনার সময় | শুক্রবার সকাল (ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন) |
| অংশগ্রহণকারী | স্থানীয় নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী—কয়েক শতাধিক |
নাগরিকদের অভিযোগের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এ সড়কটি আগে যোদ্ধা হাসানের নামে নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা উপজেলা ও জেলা-level প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত তদবির করে কাজ শুরু করার আহ্বান জানায়।
পন্থা ও সম্ভাব্য বাস্তবায়ন
মানববন্ধন শেষে তারা জানান, যদি সরকার ও জনপ্রতিনিধি দ্রুত সংস্কার ও নতুন নির্মাণের উদ্যোগ না নেন, ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়রা চান, সঠিকভাবে প্রকৌশলাভিত্তিক কাজ করে সড়কের পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা হোক এবং যে নামকরণ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা বাস্তবে রূপান্তরিত করা হোক।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন বা সড়ক বিভাগ থেকে অফিসিয়াল কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোজিত নীতিনির্ধারক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার চেষ্টা করা হবে এবং প্রয়োজনে পরের প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বরবাসী প্রশ্ন করেন—সরকারি প্রতিশ্রুতি কি কার্যকর করা হবে, নাকি তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও দাবি অনুগামী হয়ে থেকে যাবে? স্থানীয়দের এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়াই প্রধান চাহিদা।