নোয়াখালীর গ্যাস সরবরাহ বুধবার দুপুর থেকে পুরোপুরি থেমে গেছে। জেলা ও শহরের বাসিন্দারা ও চাহিদাধর ব্যবসায়ী–রেস্তোঁরা সমস্যায় পড়েছেন। এলএনজি টার্মিনালে তৈরি হওয়া ত্রুটিকেই প্রাথমিকভাবে দায়িত্বশীলরা গ্যাস বন্ধের কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন।
কত ক্ষতিগ্রস্ত ও কোথায়?
জেলা জুড়ে প্রায় ২৯ হাজার ৩৫০ জন গ্রাহক বর্তমানে গ্যাস পাচ্ছেন না বলে স্থানীয় প্রশাসন ও গ্যাস বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে জেলার ৭টি সিএনজি স্টেশন গ্যাস সঙ্কটে পড়েছে। স্থানীয় গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, নোয়াখালীতে সাধারণত দিনে গড়ে ১৬-১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকে—কিন্তু সরবরাহের এই বিভ্রাট পুরো ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।
কারা বলছে কী?
বাখরাবাদ এলাকায় কাজ করা গ্যাস বিভাগের একজন কর্মকর্তা স্থানীয়ভাবে জানিয়েছেন যে ফেনীর গ্রিড থেকে মূল লাইনে শিডিউল বদলে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী অঞ্চলে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং এর পেছনে এলএনজি টার্মিনালের সমস্যাকে দায়ী করা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করতে পারছে না কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
"গত সপ্তাহে গ্যাস সংকট ছিলো, কিছু এলাকায় এসপ্লাই ছিল; কিন্তু আজ দুপুর থেকে পুরো জেলায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে," — স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুন নাহার।
দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
রাস্তার পাশে রেস্তোঁরা ও দোকানগুলো দুপুর পর্যন্ত স্বল্প পরিমাণে রান্না চালাতে পারলেও এরপরই গ্যাস চলে যাওয়া শুরু করে। একাধিক ব্যবসায়ী ও গৃহবধূ অভিযোগ করেছেন যে মূল খাবার তৈরির সময় গ্যাস না থাকায় তাদের দৈনন্দিন কাজ, বিক্রয় ও আয়ের সঙ্গে সঙ্গে অস্বস্তি বেড়েছে।
- আবাসিক গ্রাহক: প্রায় ২৯ হাজার
- বাণিজ্যিক গ্রাহক: প্রায় ৩৫০
- সিএনজি ফিলিং স্টেশন: ৭টি
কী বলছেন কর্মকর্তারা?
বাখরাবাদ নোয়াখালীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ব্যবস্থাপক নূর করিম জানিয়েছেন, ফেনী গ্রিড থেকে প্রধান লাইনে গ্যাস সরবরাহকে স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এলএনজি টার্মিনালে যে ধরনের সমস্যার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি কখন নাগাদ পুরো সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা
নির্দিষ্ট সময় জানানো না হওয়ায় বহু গৃহিণী ও ব্যবসায়ী প্রশ্ন তুলছেন—রান্না, দোকানপাট পরিচালনা ও সিএনজি চালানো কীভাবে চলবে? জরুরি চিকিৎসা ও হাসপাতালগুলো কোন পর্যায়ে আছে—এমন প্রশ্নও উঠেছে, যদিও সূত্রগুলো বলছে মৌলিক জরুরি সেবা সরবরাহের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা হলেও তা জেলাভিত্তিকভাবে পর্যাপ্ত নয়।
পরবর্তী করণীয়—কীভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে?
স্থানীয় প্রশাসন ও গ্যাস বিভাগী কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিয়মিত আপডেট দিতে হবে। গ্রাহকদের জন্য জরুরি টিপস যা কাজে লাগতে পারে:
- তাত্ক্ষণিক বিকল্প হিসেবে সরকারি নির্দেশনা না হলে বৈকল্পিক জ্বালানি ব্যবহার পরিকল্পনা করুন।
- রেস্তোঁরা ও ছোট ব্যবসায়ীরা খাবার সংরক্ষণ ও সূক্ষ্ম সময়সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন।
- গ্যাস ফেরার আগে লিক-চেক বা সেফটি ইনস্পেকশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ রাখুন।
নোয়াখালীর সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতের উপর এই গ্যাস বিভ্রাটের প্রভাব বেশ সরাসরি। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত ও স্পষ্ট পথে তথ্য না দিলে দুর্ভোগ আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা আছে। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটির প্রকৃতি কী, তা কত দ্রুত মেরামত হবে, এবং ভবিষ্যতে এমন বিভ্রাট রোধে কি স্থায়ী পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে কি না?
এই ঘটনায় জেলার বাসিন্দারা আপডেট পেতে ও জরুরি নির্দেশনায় আস্থা রাখার অপেক্ষায়। স্থানীয় গ্যাস বিভাগ, প্রশাসন ও কন্ট্রোল রুম যে কোনো নতুন তথ্য জানালে তা পাঠকদের কাছে তুলে ধরা হবে।