ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ও দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের সংযুক্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন—বহু ফসলি জমি, বসতঘর ও দোকানপাট ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভোলা শহরও হুমকির সম্মুখীন হবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও দফায় দফায় ক্ষতি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, চলতি বর্ষায় মেঘনা নদীর পানি যেন রূপ বদলে দিয়েছে; ভাঙন গত কয়েক বছরে জোরালোভাবে বাড়ছে। কয়েক দফা ভাঙনের পরেও উন্নত ও স্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ বারবার জিওব্যাগ ডাম্পিং করে সমস্যার সাময়িক মোকাবিলা করার চেষ্টাও করেছে—তবে তা আর কার্যকর হচ্ছেনা।
শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় আবুল কালাম জানান, একের পর একবার ভাঙনের শিকার হতে হয়েছে। মালেক মিয়া বলেন, তিনবার ভাঙনের ফলে তিনি নিজের ফসলি জমি ও বসতঘর হারিয়েছেন এবং বর্তমানে সরকারি জমিতে ভাঙচুরের আশ্রয়ে অসুখী পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন।
কেন জিওব্যাগ যথেষ্ট নয়?
বাস্তবে জিওব্যাগ ডাম্পিং অস্থায়ী ব্যবস্থা। স্থানীয়রা বলছেন, কয়েকদিনের মধ্যেই জিওব্যাগ নদীর স্রোতে ভেসে যায় এবং আবার ভাঙন শুরু হয়। ফলে তারা সিসি ব্লক দিয়ে শক্ত ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
“দ্রুত সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ না হলে শিবপুর ও মেদুয়া দুই ইউনিয়নই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে; এতে ভোলা শহরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।”
শিবপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রুবেল এবং মেদুয়া ইউনিয়নের মাঝিরহাট সংলগ্ন এলাকার মো. হেলাল উভয়েই নদীর ভাঙন গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এবং বলে দিয়েছেন ভাঙনটি এখন মূল বেড়িবাঁধের কাছে চলে এসেছে—এটি নিয়ন্ত্রণে না এলে বড় ধরনের ক্ষতি এবং জনজীবন বিপর্যয় ঘটবে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও পরিস্থিতি
সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি হলো শিবপুরের ভোলার খাল মৎস্য ঘাট সংলগ্ন অঞ্চল থেকে মেদুয়ার মাঝিরহাট বাজার সংলগ্ন অংশ পর্যন্ত। এখানকার ফসলি জমি, বসত ও দোকানপাট নৌগর্ভে বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাস্তবে মেঘনার ভাঙনে ইতোমধ্যে শিবপুরের ভোলার খাল মৎস্য ঘাটও নদীর গর্ভে চলে গেছে।
- প্রভাবিত ইউনিয়ন: শিবপুর, মেদুয়া
- ক্ষতির ধরন: ফসলি জমি, বসতঘর, দোকানপাট, মৎস্যঘাট
- বর্তমান প্রতিকার: পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিওব্যাগ ডাম্পিং
| উপজেলা/ইউনিয়ন | প্রতিকার |
|---|---|
| শিবপুর | জিওব্যাগ ডাম্পিং (অস্থায়ী) |
| মেদুয়া | জিওব্যাগ ডাম্পিং (অস্থায়ী) |
স্থানীয়দের দাবি ও পরবর্তী করণীয়
স্থানীয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আর্জি জানিয়েছেন দ্রুত সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের। তাদের যুক্তি, শুধুমাত্র জিওব্যাগে ভর করে থাকা আর টিউব ফেলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বড় ধরনের ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়; এজন্য সেতুবন্ধন ও কংক্রিট-ভিত্তিক স্থায়ী কাজ জরুরি।
স্থানীয়দের আরও বক্তব্য—আগ্রাসী ভাঙন রোধে দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থায়ন জরুরি, যাতে জনগণকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর বা পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেয়া যায় এবং ব্যবসা-কর্ম ও জীবিকা রক্ষায় কার্যকর সহায়তা যায়।
বর্তমানে ভাঙনশীল অংশগুলোতে পর্যবেক্ষণ ও জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ চলছে বলে জানালেও স্থানীয়রা বলছেন তা পর্যাপ্ত নয়। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি সময়োপযোগী ও স্থায়ী ব্যবস্থ না নেওয়া হয় তাহলে শুধু গ্রাম নয়—ভোলা শহর পর্যন্ত ঝুঁকির সম্মুখীন হবে।
পানিসহায়ক প্রকৌশল ও স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করা হয়েছিল; তবে রিপোর্ট টাইমের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভাঙন কিভাবে ঠেকানো যায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কী সহায়তা দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে ভবিষ্যতে নেয়া উদ্যোগের ওপর স্থানীয়দের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
রিপোর্টার: রেহানা পারভীন, ভোলা প্রতিনিধি