ফরিদপুর পৌরসভার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের তৃতীয় দিনে এক ঘটনায় ট্রাকচালককে মারধরের প্রতিবাদে শহরের তিতুমীর বাজার ও চকবাজার এলাকায় ময়লা অপসারণ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। পৌরসভার ময়লাবাহী ট্রাকচালক ও শ্রমিকরা দাবি করেন—আক্রান্ত trাকচালককে মারদরের ঘটনায় অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তারা ওই দুই এলাকায় ময়লা তোলার কাজ শুরু করবেন না।
কোন কোন স্থানে ময়লা জমেছে?
শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে গতকাল থেকে ময়লা স্তূপ জমে আছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়লা অপসারণ বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বিশেষ করে সকালে ও সন্ধ্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নিচে ওই এলাকায় ময়লা না উঠার ফলে সমস্যাযুক্ত কিছু জায়গার বিবরণ দেওয়া হলো—
- তিতুমীর বাজার সংলগ্ন ফলপট্টি
- চকবাজার ও থানার মোড়
- ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনে মোড়
- ময়রাপট্টি
- আলীমুজ্জামান সেতুসংলগ্ন এলাকা
পৌরসভার কার্যক্রম এবং শ্রমিকদের দাবি
পৌরসভার একজন কর্মকর্তা জানালেন যে সাধারণত প্রতিদিন ভোরে একটি তিন টন ধারণক্ষমতার ময়লাবাহী ট্রাকে চারজন শ্রমিক দুই দফায় রাতের জমে থাকা ময়লা অপসারণ করেন। কিন্তু শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে নিয়মিত ওই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং সুচারুভাবে ময়লা সংগ্রহ করা হচ্ছে না।
“সেবা বন্ধ করে দেয়া মানে জনগণকে জিম্মি করা। ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ ব্যবস্থা নিক, এতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে সেবাধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান সেবা বন্ধ করে দেবে, এটি কাম্য নয়।”
এই মন্তব্যটি চকবাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে এম কিবরিয়া স্বপনের। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; তবুও মৌলিক সেবা বন্ধ রাখা সঠিক নয় এবং এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
ঘটনার বিবরণ ও প্রেক্ষিত
গত রবিবার থেকে ফরিদপুর পৌরসভা শহরের জনাকীর্ণ অংশগুলিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার ছিল অভিযানের তৃতীয় দিন। বিকেলে চকবাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়েন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় ট্রাকচালক সবুজ প্রামাণিককে মারধর করা হয়। পরে তিনি ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং রাতে নিজেই কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য ফলাফল
ময়লা অপসারণ বন্ধ রাখার প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাজারে কাজ করা ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর। নীচে উল্লেখযোগ্য প্রভাবগুলো সংক্ষেপে—
- ব্যবসায়িক পরিবেশে দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি;
- পথচলাচলে বাধা ও স্যানিটেশন সমস্যা;
- ক্রেতা কমে ব্যবসা-আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা।
পৌরসভা ও সংশ্লিষ্টরা এখন জোর দিচ্ছেন আইনি ব্যবস্থা ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দিকে। তবে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার পূর্বে ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের শংকা শোনার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই জনগণের স্বার্থে অপরিহার্য বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| উচ্ছেদ অভিযান | চলমান (তৃতীয় দিন) |
| ময়লা অপসারণ | তিতুমীর ও চকবাজারে স্থগিত |
| ট্রাকচালক আহত | হ্যাঁ—সবুজ প্রামাণিক; হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা |
| মামলা | হ্যাঁ—কোতোয়ালি থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের |
এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুতভাবে তদন্ত করে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করবে এবং পৌরসেবা পুনরায় অবাধে চালু করে দেবে যাতে সাধারণ জনগণ স্বাস্থ্য ও জীবিকা সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পায়।
ফরিদপুর প্রতিনিধি
WE NEWS