কুষ্টিয়া থেকে মঞ্জুর: কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের ওপর সমাবেশ চলাকালে সংঘটিত হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালীর মাইজদী এলাকায় মশাল মিছিল ও সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন একই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এই কর্মসূচি সোমবার রাত ৮টায় জেলা কার্যালয় থেকে শুরু করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবারো কার্যালয়ের সামনে সমাপ্ত হয়।
মশাল মিছিল ও সমাবেশের বিবরণ
মিছিলের পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ওসমান গনি রুবেল, সদর উপজেলার সভাপতিপদে থাকা সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক শরিফুল রাজু। বক্তারা কুষ্টিয়ায় গত শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে অনুষ্ঠিত পূর্বঘোষিত সমাবেশে আগুন, ধাওয়া ও শারীরিক আক্রমণের ঘটনা ব্যাখ্যা করেন এবং ঘটনার নাগরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঘটনা ও অভিযোগ
বক্তারা জানান, কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়স্থ শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যের সময় হঠাৎ করেই সংসদ সদস্য আমির হামজা ও আশপাশের জামায়াত শিবিরের কর্মীরা সেখানে এসে অতর্কিতভাবে আগুন ও শারীরিক হামলা শুরু করেন। এ সময় বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। বক্তারা নির্দিষ্টভাবে দাবি করেন যে, একজন কর্মীর পায়ের দুটো রগ কেটে দেওয়া হয়েছে, অন্য এক নেতার নাক ও কপালের হাড় ভেঙে গেছে।
“এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আমির হামজাকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করা উচিত,”
উল্লেখ্য, সমাবেশে হামলার পরে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মহলে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগে নাম নিলেও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।
দাবি ও পরবর্তী দাবি
সমাবেশে বক্তারা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে দ্রুত তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। তাদের দাবি ও প্রস্তাবগুলোর মূল বিষয়গুলো ছিল:
- ঘটনাস্থল ও অভিযোগের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত।
- সংসদ সদস্য আমির হামজার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর পদ বাতিলের ত্বরান্বিত প্রক্রিয়া।
- হামলাকারী সকল ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা।
| বিষয় | প্রকাশিত অভিযোগ |
|---|---|
| সমাবেশের সময় | ১৫ আগস্ট, বিকেল |
| ঘটনার স্থান | কুষ্টিয়া শহর, ছয় রাস্তার মোড় |
| অভিযোগে অভিযুক্ত | সংসদ সদস্য আমির হামজা ও আশপাশের জামায়াত শিবিরের কর্মীরা |
| প্রতিবাদ স্থল | নোয়াখালীর মাইজদীর দলীয় কার্যালয় |
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া এলাকায় রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ও সভা-সমিতি করার স্বাভাবিক অধিকার রক্ষার প্রশ্ন তুলছেন। স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, বিচ্ছিন্নভাবে না রেখে এই ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচার ও জবাবদিহি প্রদর্শন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগপ্রাপ্ত পক্ষদের পক্ষ থেকে যে কোনো প্রতিক্রিয়া বা প্রশাসনের প্রাথমিক ব্যবস্থা সম্পর্কে স্থানীয় সূত্রে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ যাতে দ্রুত ঘটনা তদন্ত করে উদ্বেগের বিষয়গুলো পরিষ্কার করেন—এটাই মিছিল ও সমাবেশে বক্তাদের মূল আহ্বান ছিল।
কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই ঘটনার প্রভাব, স্থানীয় নিরাপত্তা-বিধান ও ভবিষ্যতের শান্তি-সহাবাস্থা কেমন প্রভাবিত হবে, তা নজরদারির বিষয় বলে তারা উল্লেখ করেছেন।