কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী এইবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে ফেনী জেলা শীর্ষে অবস্থান করেছে। জেলায় মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ১৪,৯০০ জন পরীক্ষার্থী; তাদের মধ্যে ১০,৮২১ জন পাস করেছে; জেলায় পাসের হার ৭২.৬২ শতাংশ। বোর্ডের সার্বিক গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৫.৪২ শতাংশ।
জেলার সার্বিক চিত্র ও প্রধান সংখ্যাগুলো
ফেনী জেলার মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংখ্যা ছিল ১৮৯টি। পাসের পাশাপাশি জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১,১৩৯ জন শিক্ষার্থী। ফল ঘোষণার পরিস্থিতি ও উপজেলা অনুযায়ী পারফরম্যান্সে উত্থান-পতন দেখা গেছে।
উপজেলা ভিত্তিক ভিন্নতা
ফেনী জেলার ভেতরে উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে স্পষ্ট বৈচিত্র্য দেখা যায়। জেলার বিভিন্ন উপজেলার পারফরম্যান্স নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হল:
- ফেনী সদর: ৬৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৬,৬৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ; পাস করেছে ৫,১৪৮ জন — পাসের হার ৭৭.০৯%; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৯২ জন।
- ছাগলনাইয়া: ৩০টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১,৫৮৫ জন অংশগ্রহণ; পাস ১,২০৯ জন — পাসের হার ৭৬.২৮%; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯১ জন।
- দাগনভূঞা: ২৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২,৫৯৫ জন অংশগ্রহণ; পাস ১,৮৫৮ জন — পাসের হার ৭১.৬০%; জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩১ জন।
- ফুলগাজী: ২২টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১,২৫২ জন অংশগ্রহণ; পাস ৮৮৫ জন — পাসের হার ৭০.৬৯%; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭ জন।
- সোনাগাজী: ২৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১,৭৮২ জন অংশগ্রহণ; পাস ১,১৬৫ জন — পাসের হার ৬৫.৩৮%; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ জন।
- পরশুরাম: ১৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১,৮০৮ জন অংশগ্রহণ; পাস ৫৫৬ জন — পাসের হার ৫৫.১৬%; জেলা পর্যায়ে সর্বনিম্ন।
ফল বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ঘোষিত ফলের আলোকে দেখা যায়, ফেনী জেলার সফলতা বর্ধিত হলেও উপজেলা ভিত্তিক বৈষম্য রয়েছে। সদরের তুলনায় সীমান্তবর্তী পরশুরামে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা, সমন্বিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীর উপকরণাদির মধ্যে পার্থক্য ইঙ্গিত করে যে উন্নত ফল ধরে রাখতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
| উপজেলা | পরীক্ষার্থী | পাস | পাসের হার | জিপিএ-৫ |
|---|---|---|---|---|
| ফেনী সদর | ৬,৬৭৮ | ৫,১৪৮ | ৭৭.০৯% | ৭৯২ |
| ছাগলনাইয়া | ১,৫৮৫ | ১,২০৯ | ৭৬.২৮% | ৯১ |
| দাগনভূঞা | ২,৫৯৫ | ১,৮৫৮ | ৭১.৬০% | ১৩১ |
| ফুলগাজী | ১,২৫২ | ৮৮৫ | ৭০.৬৯% | ৩৭ |
| সোনাগাজী | ১,৭৮২ | ১,১৬৫ | ৬৫.৩৮% | ৫৮ |
| পরশুরাম | ১,৮০৮ | ৫৫৬ | ৫৫.১৬% | — |
বাড়তি বিশ্লেষণ ও পরামর্শমূলক ভাবনা
ফেনীর দিকে তাকালে বোঝা যায় যে শহরকেন্দ্রিক ও কিছু কোর প্রতিষ্ঠান ভালো ফল ধরে রাখতে সক্ষম হলেও আরো সমগ্র জেলার মানোন্নয়নের দিকেও নজর দেয়া দরকার। শিক্ষা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয়ভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকের সংখ্যার সামঞ্জস্য ও শিক্ষার্থীদের সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ফেনী জেলা ও উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি ও জেলা পর্যায়ে সমান সাফল্য নিশ্চিত করতে হলে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতা জরুরি। স্থানীয় বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত মানোন্নয়ন কার্যক্রম, দুর্বল অধ্যায়ে অতিরিক্ত সহায়তা ও অনলাইন-অফলাইন টিউটোরিয়াল কার্যক্রম বর্ধিত করলে সর্বস্তরে শিক্ষার মান বাড়বে বলে শিক্ষা বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
ফেনী থেকে আবদুল হালিম, WE NEWS।