পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে গত কয়েক মাস ধরে সমাপ্ত বলে ঘোষণা করা সেতু মারফত চলাচল করতে গিয়ে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে বাঁশের খাড়া সাঁকো ব্যবহার করছে। মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাপ্রোচ রোড — মানে সেতুটির সংযোগ সড়ক — নির্মাণ না হওয়ায় সেতু বাস্তবে জনগণের কাজে আসছে না।
স্থানীয়দের দৈনন্দিন কষ্ট
চলনবিলের যোগাযোগ সহজ করার উদ্দেশ্যে নির্মিত এই সেতুটির ফলে মোটামুটি একাধিক গ্রামের মানুষের প্রত্যাশা ছিল কমে আসা দুর্ভোগ। কিন্তু সংযোগ সড়কের অনুপস্থিতি সেতুকে নিজস্বভাবে বিপদসঙ্কুল করে তুলেছে। গ্রামবাসীরা বলছেন, সেতুতে উঠতে গেলে খাড়া বাঁশের সাঁকোতে চড়তে হয়, বারবার পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্পে এক কোটি টাকারও বেশি ব্যয় দেখালেও কাজের এই অসম্পূর্ণ অবস্থা অধরাই রয়ে গেছে।
ঠিকাদার ও তদারকিতে কি ভ্রান্ত আছে?
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়সীমা বাড়িয়ে প্রকল্প সম্পন্ন না করেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকে বলছেন, বালুসংকটসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ঠিকাদাররা ঝেঁকিয়ে দিয়েছে। তদারকাকারী প্রশাসনও যথাযথ তৎপরতা দেখায়নি—নির্দিষ্ট সময় পেরোয় কেবল নোটিশ বা তাগিদ দিয়ে কাজ চলছে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।
অর্থ ও সুবিধা জনস্বার্থে আটকে
এই সেতু নির্মাণের প্রকৃত লক্ষ্য ছিল চলনবিলের ১০টি গ্রামের জনগণের যোগাযোগ সহজ করা; কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রকল্পের সুবিধা কাজে লাগছে না। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি তহবিল ও জনবহুল প্রত্যাশা এমন অসম্পূর্ণ কাজে আটকে থাকলে প্রকৃত উন্নয়ন কখনই বাস্তবায়ন হবে না।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্প ব্যয় | এক কোটি টাকার বেশি |
| লক্ষ্যভূগোল | চলনবিলের ১০টি গ্রাম |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতর | দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় |
স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ
উপজেলা প্রশাসন শেষ পর্যন্ত ঠিকাদারের চূড়ান্ত বিল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এটিকে গ্রামবাসী ও এলাকাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছে। তবে শুধু বিল আটকে রাখলেই সমস্যা মিটবে না বলে তারা মনে করেন। অনেকেই বলছেন, এ ধরনের ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কেবল আর্থিক শাস্তি নয়, ভবিষ্যতের সরকারি কাজে কালো তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা করা উচিত যাতে পুনরাবৃত্তি রোধ হয়।
- দ্রুততম সময়ে অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ নিশ্চিত করা।
- ঠিকাদারদের দায় স্বীকার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
- স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী নিরাপদ পল্লীগত ব্যবস্থা করা।
নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন
সেতুতে উঠতে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন—এমন অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে জননিরাপত্তা ও সময়মতো পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সর্তক ও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া না হলে কেবল নির্মাণের কঙ্কালই থাকবে; বাস্তব সুবিধা কখনই পৌঁছবে না।
এখানকার মানুষ মনে করেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হলো কাজে না থাকলে—অর্থ ফেরত বা অন্যান্য সাজা দিয়ে নয়—উইঠে শর্ত সাপেক্ষে প্রকল্প শেষ করা এবং যারা দুর্ভোগের মাঝেই জীবন চালায় তাদের ঝুঁকি কমানো। এই দাবিই এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
সেতুটিতে এবং তার আশপাশে দেখা সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, ঠিকাদার ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বাক্যালাপ করতে চেষ্টা করা হলেও নির্বাচিত বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এমন সময়ে জনস্বার্থে জরুরি কর্ম পরিকল্পনা ও তদারকির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে কেবল বিল আটকে রাখা বা তাগিদ দেয়াই যথেষ্ট হবে না—এটাই এবারের পরিস্থিতির মূল শিক্ষা।
বিপ্লব সরকার
ফরিদপুর প্রতিনিধি, WE NEWS