ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প বসেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে বুধবার অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র গ্রহণ করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় মোট ৩২ জনকে ছানি (ক্যাটারাক্ট) রোগী হিসেবে শনাক্ত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
আয়োজক ও সহযোগী সংস্থার ভূমিকায়
ক্যাম্পটি আয়োজন করেন বিলঘর গ্রামের কৃতিসন্তান ও কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক সোহাগ ভূঁইয়া। কার্যক্রমে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা পরিচালনাসহ আন্তর্জাতিক সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল। আয়োজকরা জানিয়েছেন, লেন্স সরবরাহ ও ছানি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এই সমিতি এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।
স্থানীয় নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ
উদ্বোধনী ও পরিচালনা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি হাজী নুরুল ইসলাম নান্নু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াস এবং বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কসবা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফ আলী, কসবা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল খায়ের স্বপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন প্রমুখ। স্থানীয় সামাজিক প্রতিনিধি ও সাবেক নেতা-জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে কার্যক্রমকে সমর্থন দেন।
প্রদানকৃত সেবা ও কার্যক্রমের পরিধি
ক্যাম্পে রোগীদের মধ্যে চোখের পরীক্ষা, ছানি রোগ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং লেন্স প্রদান ইত্যাদি সেবা সম্পন্ন করা হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রত্যেক রোগীর কাছে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে যাতে কেউ অর্থের অভাবে চোখের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।
- চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়
- ছানি (ক্যাটারাক্ট) রোগীর চিহ্নিতকরণ ও উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্বাচন
- প্রয়োজনে চশমা/লেন্স প্রদান
- বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ
সংখ্যায় অভিজ্ঞান
| বিষয় | সংখ্যা / বিবরণ |
|---|---|
| সেবা নেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা | প্রায় ২০০ |
| ছানি শনাক্তকৃত রোগী | ৩২ জন |
| আয়োজক | মো. এমদাদুল হক সোহাগ (স্থানীয় ব্যবস্থাপক) |
| প্রধান সহায়ক | বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা; অরবিস ইন্টারন্যাশনাল |
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
বিলঘর ও আশপাশের এলাকায় চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য না হওয়ায় এমন ক্যাম্প স্থানীয়দের কাছে খুবই কার্যকর বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আয়োজকরা বলেন, গ্রামের গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষদের জন্যই এই আয়োজন করা হয়েছে যাতে মৌলিক চক্ষু সেবা তারা পেতে পারেন। উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাবেক সদস্যরা এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি মুহাম্মদ ইলিয়াস অনুষ্ঠানে বলেন, দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সমাজের একজন সংবাদিক ও জননেতার দায়িত্বও হতে পারে; বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিদেরও এ কাজে এগিয়ে আসা উচিত। আয়োজক মো. এমদাদুল হক সোহাগ ভূঁইয়া বলেন, ভবিষ্যতেও ওই এলাকার মানুষের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন তিনি।
পরামর্শ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
আয়োজকদের মতে, চক্ষু স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রয়োজন যাতে সময়মতো রোগ ধরা পড়ে। যারা ক্যাটারাক্ট রোগীদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের উন্নত চিকিৎসা ও অপারেশন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে এবং লেন্স সংযোজনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কসবায় এ ধরনের স্থানীয় উদ্যোগ পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয়দের জন্য এটি ইতিবাচক সংবাদ। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন যদি সমন্বয়ে কাজ করে, তাহলে আরো বড় পরিসরে জনগণের চক্ষুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।