ব্রাহ্মণবাড়িয়া — জেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে গত সোমবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো ও বিশেষত হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারকারী যানবাহনগুলো শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং কিছু হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান ও বলপ্রয়োগ
জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ওই অভিযানে মোবাইল কোর্ট দ্রুতগতিতে তদন্ত ও রায় ঘোষণা করে। অভিযানে মোট তিনটি পৃথক মামলায় তিনটি পরিবহনের বিরুদ্ধে মোট ৪,৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এছাড়া সড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহন থেকে মোট ৫টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে তা বিনষ্ট করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চেতনা বৃদ্ধির উদ্যোগ
শুধু জরিমানা কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; মাঝে মধ্যে চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নেয়া কর্মকর্তারা প্রায় ১০টি বাস, ট্রাক ও অটোরিকশার কবারনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সচেতনতামূলক স্টিকার প্রদান ও তা লাগিয়ে দেন যাতে চালকরা অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন।
- অভিযানস্থল: কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশ)
- মামলা: ৩টি পৃথক মামলা
- জরিমানা মোট: ৪,৫০০ টাকা
- জব্দ করা হাইড্রোলিক হর্ন: ৫টি (বিনষ্ট)
“শব্দদূষণ বর্তমানে শুধু বিরক্তির বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. রাখিবুল হাসান অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমানা আক্তার মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশ মোবাইল কোর্টকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় পরিস্থিতি ও প্রভাব
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্যতম ব্যস্ত ও আগমন-বহিঃপ্রবাহযুক্ত সড়ক। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে দূরপাল্লার অসংখ্য বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও অটোরিকশা চলাচল করে। অধিকাংশ যানবাহনে উচ্চদ্ব্যুৎক হর্ন, বিশেষত হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার পথচারী, যাত্রী ও আশপাশের আবাসিক এলাকায় স্থায়ী শব্দদূষণ সৃষ্টি করছে। এই সমস্যার নোংরা প্রভাব সরাসরি স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানে প্রতিফলিত হচ্ছে—রাত্রে বিশ্রবিধ্বংস, শ্রবণশক্তির ঝুঁকি, ও মানসিক চাপ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানায়, মহাসড়কের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত হর্ন বাজানো হওয়ার ফলে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে শান্তি কমে যায় এবং যানজট অবস্থায় চালকেরা বারবার হর্ন ব্যবহার করেন যেটা জনস্বাস্থ্যগতভাবে উদ্বেগজনক।
আগামীর পরিকল্পনা ও সতর্কতা
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে এবং হাইড্রোলিক হর্নের মতো বিধিবিরুদ্ধ যন্ত্রপাতির ব্যবহার রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি অভিযানগুলো জোরদার করার পরিকল্পনা আছে বলেও একাধিক সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে।
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| অভিযানস্থল | কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশ) |
| জরিমানা | ৩টি মামলায় মোট ৪,৫০০ টাকা |
| জব্দকৃত হর্ন | ৫টি (বিনষ্ট) |
জরিমানা ও হর্ন ধ্বংসের এই কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে সাময়িক সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে প্রয়োজন থাকবে রাজনৈতিক উদ্যোগ, নিয়মিত বাস্তবায়ন এবং চালক-পরিবহন মালিকদের সাথে স্থায়ী চুক্তিমূলক সচেতনতা কার্যক্রম, যা শব্দদূষণ সমস্যা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবেশবিষয়ক এই ধরনের অভিযান আগামীদিনে কেমনভাবে পরিচালিত হবে এবং তার ফল কতটা স্থায়ী হবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।