কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) মঙ্গলবার বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে। জব্দকৃত সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য বলে জানা গেছে ৩০ লাখ ৬ হাজার ৩শ’ টাকা, কী পরিমাণ ও কী ধরনের পণ্য জব্দ হয়েছে তা ব্যাটালিয়ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযানের পরিধি ও তৎপরতা
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নির্দেশনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও কসবা এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে পৃথকভাৱে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কসবা, মঈনপুর, মাদলা, খাদলা, সালদানদী, শংকুচাইল ও খারেরা বিওপি’র টহলদল অভিযানগুলো পরিচালনা করে।
জব্দকৃত সামগ্রী ও আনুমানিক মূল্য
বিজিবি জানায়, অভিযানে ভারতের বিভিন্ন পণ্য সহ মাদক ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত প্রধান পণ্যের মধ্যে রয়েছে বাসমতি চাল, রেডবুল এনার্জি ড্রিংকস, গরু, বাজি, সেগুন কাঠ, আকাশি কাঠ, শাড়ি ও গাঁজা।
| জব্দকৃত পণ্য | বিবরণ (সূত্র অনুযায়ী) |
|---|---|
| বাসমতি চাল | ভারতীয় অবৈধ আমদানি |
| রেডবুল এনার্জি ড্রিংকস | বক্স আকারে জব্দ |
| গরু | অনুপ্রবেশকৃত পশু |
| বাজি | চোরাইভাবে আনা আতশবাজি |
| সেগুন ও আকাশি কাঠ | কাঠের বিভিন্ন চালান |
| শাড়ি | বাজারজাত পণ্যের চালান |
| গাঁজা | মাদক দ্রব্য |
| মোটরসাইকেল | একটি যানবাহন জব্দ |
বিজিবি’র বক্তব্য
“সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী ও শিশু পাচার রোধ এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার ঠেকাতে বিজিবি’র নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এসব চোরাচালানী পণ্য জব্দ করা হয়,”
এই কথা বলেন সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও সীমান্তে চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত চোরাচালান স্থানীয় বাজার এবং গৃহস্থালি আয়-রোজগারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চোরাচালানী চাল ও সস্তা পণ্যের প্রবাহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি করে। অপরদিকে মাদক ও অবৈধ পশু পারাপার জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
- অভিযান থেকে স্পষ্ট যে— সীমান্তে গোয়েন্দা ভিত্তিক নজরদারি সম্প্রসারণ পেয়েছে।
- জব্দকৃত পণ্যের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য দেখায় যে পাচারকারীদের কৌশল বহুমাত্রিক।
- স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে সীমান্ত নিরাপত্তায় আরও সচেতন হওয়া দরকার।
পরবর্তী করণীয় ও প্রত্যাশা
বিজিবি জানিয়েছে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, বন সেবা ও পুলিশি পর্যায়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাঠ ও মাদকসহ অন্যান্য চোরাচালান বন্ধে উদ্যোগ নেয়া জরুরি। যারা সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাস করেন তাদের সচেতনতা বাড়ানো এবং সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়াই এই সমস্যা মোকাবিলার উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত জব্দকৃত পণ্যের বিস্তারিত তালিকা, সংরক্ষিত মালামালের হেণ্ডলিং এবং সম্ভাব্য গ্রেপ্তার সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য বিজিবি প্রদান করলে তা পরে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
রিপোর্ট: হাবিবুর রহমান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, WE NEWS