আখাউড়া উপজেলার খড়মপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) বা কেল্লা বাবার মাজারের চারটি দানবাক্স খুলে মোট ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা পাওয়া গেছে। দানবাক্স খোলার ও টাকা গণনার কাজ চলতি সপ্তাহে শুরু হয়ে প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টা ধরে চলেছে।
গণনা ও জমা: সরকারি ও স্থানীয় অংশগ্রহণ
মাজার পরিচালনা কমিটি এবং আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে দানবাক্স খোলার কাজ শুরু করা হয়। গণনায় অংশ নেন মাজার শরিফ মাদ্রাসার স্বেচ্ছাসেবী এবং সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা। গণনা শেষে পাওয়া নগদ অর্থ সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে জমা দেওয়া হয়েছে।
মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে মিন্টু খাদেম সূত্রে জানা যায়, দানবাক্স থেকে কেবল নগদই নয়, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও রুপাও পাওয়া গেছে। মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন প্রাণী-পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাবও করা হচ্ছে এবং তা মাজার কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
ওরস ও ভক্ত-সমাগম
মাজারে সাত দিনব্যাপী ওরসের আয়োজন করা হয়েছিল। গত ১০ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ওরস চলাকালে ১৪ আগস্ট রাতে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়; এতে দেশের নানা স্থান এবং সীমান্ত পার হয়ে বাইরে থেকেও হাজারো ভক্ত অংশগ্রহণ করেন। ওরসের আনুষ্ঠানিকতা ১৬ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত চলে। উৎসবের সময় ভক্তরা ঐতিহ্যগতভাবে দানবাক্সে নগদ ও মূল্যবান জিনিসাদি দান করেন, ফলে প্রতি বছর এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা হয়।
ঐতিহাসিক হিসাব—গণনা ও তুলনা
মাজার পরিচালনা কমিটির দেওয়া পুরনো হিসাব অনুযায়ী গত কয়েক বছরে দানবাক্সে পাওয়া অর্থ ছিল—
| বছর | দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ (টাকা) |
|---|---|
| ২০২১ | ৬১ লাখ |
| ২০২২ | ৬৪ লাখ |
| ২০২৩ | ৮৪ লাখ |
| ২০২৪ | ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ |
উপরের হিসাব থেকে স্পষ্ট যে, এবারের পাওয়া অর্থ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মাজারের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো দানবাক্সে কোটি টাকার বেশি পাওয়া ঘটনা।
দলবল ও স্বচ্ছতা
বানিজ্যিক এবং প্রশাসনিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা মিলিয়ে গণনা সম্পন্ন করেছেন। মাজার পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দানবাক্স খোলার প্রক্রিয়া এবং পরে ব্যাংকে জমা পর্যন্ত কাজটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও তদারকিতে করা হয়েছে।
- দানবাক্সগুলো খোলা শুরু: সকাল ৯টা (শনিবার/সোমবার অনুযায়ী আয়োজনকাল)
- গণনা শেষ: রাত সাড়ে ৪টা (প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টা পর)
- সংশ্লিষ্ট সংস্থা: আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন, মাজার পরিচালনা কমিটি, সোনালী ব্যাংক
মাজার কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে যে, দানবাক্সের সঙ্গে পাওয়া স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাবও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া মাজারের সম্পদে ভক্তরা যারা বিভিন্নভাবে উপহার দিয়েছেন—তারও তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও সমাজিক প্রভাব
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো এই মাজারে প্রতিবছর ওরস সময়ে বিপুলসংখ্যক ভক্ত সমাগম করে। মাজারে যে অর্থ ও সম্পদ জমা হয় তা স্থানীয় জীবিকা, ধর্মীয় কার্যক্রম ও মাজার পরিচালনার কাজগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খালাকালীন অর্থব্যবস্থায় এমন জমা স্থানীয় অর্থচলাচলে প্রভাব ফেলে।
মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আগেই מדיই প্রশ্ন উঠত—এবার ব্যাপক গণনা ও ব্যাংকজমা প্রক্রিয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে সম্পর্কিতরা মনে করছেন। প্রশাসনিক তদারকি থাকায় ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় আকারের দান ব্যবস্থাপনাও নিয়মিতভাবে হয়তো আরও স্বচ্ছ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় মাজার পরিচালনা কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যাংক কর্মকর্তা—তিন পক্ষের সমন্বয়ে যে ধাপ নেওয়া হয়েছে তা স্থানীয় দানসংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে রিপোর্ট করেছেন — হাবিবুর রহমান