ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখার অভ্যন্তর থেকে সোমবার দুপুরে একটি চোর চক্র এক গ্রাহকের ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়—এ খবর নিশ্চিত করেছে ব্যাংক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা। ঘটনার পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।
ঘটনার ধরণ ও সময়রেখা
প্রত্যক্ষদর্শী এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওই গ্রাহক ব্যাংকে এসে টাকা জমা দেওয়ার জন্য একটি ব্যাগ নিয়ে ক্যাশ কাউন্টারের সামনে ট্যাবিলের পাশে বসে ভাউচার পূরণ করছিলেন। ভাউচার পূরণের সময় তিনি ব্যাগে নজর না রাখায় সুযোগ বুঝে চোর চক্রের একজন ওই ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায়।
- সময়: সকাল ১১টার দিকে (প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা অনুযায়ী)
- টাকার পরিমাণ: ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা
- স্থান: সোনালী ব্যাংক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখা
- প্রয়াস: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চক্র সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা
ব্যাংক ও পুলিশ কীরতকর্ম
সোনালী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখার প্রধান মো. শরীফুল হক ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে বলেন, “গ্রাহক টাকার ব্যাগটি ক্যাশ কাউন্টারের সামনে রেখে ভাউচার লিখছিলেন। এ সময় টাকার দিকে তার নজর না থাকায় চোর চক্রটি কৌশলে ব্যাগটি নিয়ে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যায়।” তিনি আরও জানান, ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করা কয়েকজন চক্রের সদস্য গ্রাহকের ভূমিকায় ছিল এবং তাদের মধ্যে একজন সুযোগ বুঝে ব্যাগটি নিয়ে যায়।
“সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চোর চক্রের সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ,”
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে চক্রের পরিচয় বের করার পাশাপাশি ব্যাংক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
ঘটনাটি জানাজানি হলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক গ্রাহক ব্যাংকে টাকা নেওয়া বা জমা দেওয়ার সময় নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন। স্থানীয়রা বলছেন, ব্যাঙ্কের কন্সাল্ট্যান্ট বা নিরাপত্তা কর্মীরা কেন এমন নমনীয় পরিস্থিতি অনুমোদন করেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| চুরি হওয়া টাকা | ৭,৮০,০০০ টাকা |
| ঘটনাস্থল | সোনালী ব্যাংক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া করপোরেট শাখা |
| তদন্তকার্য | সিসিটিভি পর্যালোচনা ও পুলিশের তদন্ত |
অপরদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের অবহেলা ঘটনাটির একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে নিরাপত্তা তদারকির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো সংবেদনশীল এবং দায়িত্বশীল হওয়ার আবেদন উঠেছে। স্থানীয় সীমান্তহীন আধিকারিক ও গ্রাহক প্রতিনিধিরা বলছেন, নগদ লেনদেনে ব্যাঙ্কগুলোর ভিতরে স্পষ্ট ও কঠোর নিরাপত্তা প্রণালী থাকা প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সহায়ক হয়।
স্থানীয় পুলিশ জানায় তারা সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের জমা করা অভিযোগ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।
ঘটনাটির ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সচেতনতা বেড়েছে। তদন্ত চলমান—চুরির ঘটনা দ্রুত খতিয়ে দেখে দোষীদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করা না পারলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ আরো বাড়বে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।