আখাউড়ার খড়মপুর এলাকায় অবস্থিত শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্স খুলে নগদ, স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ মোট ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা পাওয়া গেছে। মাজার পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে এসব অর্থ সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে জমা রাখা হয়েছে।
গণনা ও প্রক্রিয়া
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৯টায় মাজারের চারটি দানবাক্স খুলে গণনা শুরু করা হয়। মাজার পরিচালনা কমিটি এবং আখাউড়া উপজেলা প্রশাসনের অংশগ্রহণে এই কাজটিকে প্রকাশ্য ও স্বচ্ছভাবে চালানো হয়। টাকার হারানো-খোঁজ বা কোনো অনিয়ম না ঘটে তা নিশ্চিত করতে গণনার কাজে সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এবং মাজার শরিফ মাদ্রাসার প্রায় অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত ছিলেন। গণনা প্রায় সাড়ে উটের দিন স্থায়ী করে—সকাল থেকে শুরু করে রাত্রি সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলে।
দানবাক্সে পাওয়া সামগ্রী
চারটি দানবাক্স থেকে শুধু নগদ টাকা নয়, স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন দেশের বিদেশী মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এছাড়া মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের দেওয়া পশুপাখি ও অন্যান্য উপহার সামগ্রীরও হিসাব রাখা হচ্ছে এবং তা মাজার কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
- দানবাক্স খোলা শুরু: সকাল ৯টা
- গণনায় অংশ নেয় সোনালী ব্যাংক ও মাদ্রাসার স্বেচ্ছাসেবীরা
- গণনা সময়সীমা: সকাল থেকে রাত সাড়ে চারটা পর্যন্ত
ওরস ও ভক্তদের উপস্থিতি
মাজারে ওরস চলাকালে দেশ-বিদেশ থেকে হাজার-হাজার আস্থাভাজন ও দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন। মাজার কমিটি জানায়, এ বছর সপ্তদিবসব্যাপী ওরস অনুষ্ঠিত হয় এবং এর শেষ পর্যায়ে আখেরি মোনাজাতেও ব্যাপক ভক্তসমাগম ছিল। মাজার খোলার দিনগুলোতে অনেক ভক্ত তার সত্যানুপাতে দানণ করেছেন, যার ফলে এবার দানবাক্সে প্রথমবারের মতো কোটি টাকার ওপরে অর্থ জমা পড়ে।
বছরভিত্তিক তুলনা
| বছর | গণনা করা টাকা (প্রায়) |
|---|---|
| ২০২১ | ৬১ লাখ |
| ২০২২ | ৬৪ লাখ |
| ২০২৩ | ৮৪ লাখ |
| ২০২৪/২০২৬ (বর্তমান) | ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা |
উপরের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে গত কয়েক বছরে মাজারে দানের পরিমাণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এবার এটি প্রথমবার এক কোটি টাকার উপরে পৌঁছেছে।
প্রশাসন ও পরিচালনা কমিটির মন্তব্য
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়ার নেতৃত্বে মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্যরা দানবাক্স খোলা ও গণনার কাজ পরিচালনা করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্সগুলো খুলে পাওয়া নগদ টাকা এবং সোনালী-বৈদেশিক মুদ্রাসহ অন্যান্য জিনিস এখন ব্যাংকে জমা করা হয়েছে।
মাজার পরিচালনা কমিটি এবং প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলেও ভবিষ্যতে আর্থিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যে আরও কড়া পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড-রক্ষণ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী ব্যবহার
এমন বিশাল পরিমাণ অনুদান স্থানীয় অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষত স্থানীয় সেবা, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম ও মাজার সংরক্ষণে। মাজার কর্তৃপক্ষ জানান যে, এই অর্থের ব্যবহার ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ করা হবে এবং তা সম্মানাভিলাষীভাবে মাজার পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় লাগবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মাজারের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য এবং ভক্তদের দানের উচিত ব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা চেয়েছেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: মাজারের দানে এত বড় অঙ্ক উঠে আসায় স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে জবাবদিহিতার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে আলোচিত হতে পারে। জনসাধারণও জানতে চায় যে এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব-নিকাশ কবে জনসমক্ষে অনবরত উন্মুক্ত করা হবে।
---
সদ্য সংবাদ, আখাউড়া থেকে