আখাউড়ার খড়মপুরে অবস্থিত বিশ শতকী প্রাচীন কেল্লা বাবার মাজার থেকে চারটি দানবাক্স খুলে ১,03,351 টাকা নয়, বরং আরও বিশদভাবে গণনা করে পাওয়া গেছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা নগদ। মাজার পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, ভক্তদের দেওয়া নগদ, স্বর্ণালংকার, রুপা এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা মিলিয়ে এই অংক বের হয়েছে।
তারি ও গণনার প্রক্রিয়া
সাত দিনব্যাপী ওরসের শেষ পর্যায়ে সোমবার সকাল ৯টায় চারটি দানবাক্স খোলার কাজ শুরু করা হয়। দানবাক্স খোলার ও টাকা গণনার পুরো প্রক্রিয়াটি নেতৃত্ব দেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি।
গণনা কাজ চালানোর জন্য সোনালী ব্যাংক লিমিটেড থেকে প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা ও মাজার শরিফ মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী এবং কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টা ধরে কাজ অব্যাহত রেখে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৪টার দিকে গণনা সম্পন্ন করা হয়।
কী পাওয়া গেছে — পরিমাণ ও ধরণ
গণনা শেষে চারটি দানবাক্স থেকে প্রায় ১২ বস্তা নগদ টাকা বের করা হয়েছে। নগদের পাশাপাশি পাওয়া গেছে স্বর্ণালংকার, রুপা এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা। এছাড়া মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের দেওয়া পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাবও চলছে এবং এসব সামগ্রী বর্তমানে মাজার কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে রাখা রয়েছে।
- নগদ অর্থ: ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা (গণনা শেষে)
- স্বর্ণালংকার ও রুপা: মাপে-প্রকারে আলাদা করে সংরক্ষণ ও হিসাব চলছে
- বৈদেশিক মুদ্রা: বিভিন্ন দেশের নোট পাওয়া গেছে
- অন্যান্য: ভক্তদের দেওয়া পশুপাখি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী
পূর্ববর্তী বছরের তুলনা
মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (ওরফে মিন্টু খাদেম) জানান, গত কয়েক বছরে দানবাক্সে পাওয়া টাকার ধারাবিকতা ছিল নিম্নরূপ:
| বছর | দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকার পরিমাণ |
|---|---|
| ২০২১ | ৬১ লাখ টাকা |
| ২০২২ | ৬৪ লাখ টাকা |
| ২০২৩ | ৮৪ লাখ টাকা |
| ২০২৪–২০২৫ (এ বছর) | ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা |
মাজারের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো যে দানবাক্স থেকে কোটি টাকার বেশি অভাবনীয় পরিমাণ পাওয়া গেল। স্থানীয়রা বলেন, মাজারটি প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো; ওরসের সময় প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান এখানে সমাগম করে।
অর্থের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা
গণনার পর পাওয়া নগদ অর্থ মঙ্গলবারই সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। মাজার পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা প্রশাসন মিলিয়ে দানবাক্স খোলা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যাংক কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন।
মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, এর আগেও দানবাক্সে লক্ষাধিক টাকা পাওয়া গেছে, কিন্তু কোটি টাকার ঘর ছুঁয়েছে এবারের দান। বর্তমানে জিম্মায় রাখা সব সামগ্রী ও অর্থের তালিকা তৈরি ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, বিদেশ থেকে আগত ভক্তদেরও দর্শনীয় ভক্তি আর সহানুভূতিই এই দানের পরিমাণ বাড়িয়েছে। মোটা অংকের দানবাক্স খোলার ঘটনা এলাকায় গুরুত্ব পেয়েছে, তাই ভবিষ্যতে দানসংগ্রহ ও হিসাবরক্ষণে আরও স্বচ্ছতা বজায় রাখার অনুরোধও উঠেছে।
মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমাকৃত অর্থ ও উপকরণ কীভাবে ব্যবহার করা হবে—তার বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা ও হিসাব প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দানবাক্স খোলার নিয়মাবলি এবং স্থানীয় ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণের কড়কড়ি বাড়ানো হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
কেল্লা বাবার মাজার ওরস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আগত ভক্তদের এই উদারতার ফলে এই অঞ্চলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন ও মাজার পরিচালনা কমিটি মিলিয়ে যে পদক্ষেপ নেবে তা স্থানীয়ভাবে প্রত্যাশিত নজরদারির দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।