ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাস সরবরাহের তীব্র ঘাটতি চলছে। পাইপলাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বাসাবাড়ি, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্যাস পৌঁছাচ্ছে না; রাস্তায় বসবাসকারীদের পাশাপাশি যাত্রীসেবায়ও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
অবরোধ ও সড়কজট
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে অবরোধ তুলে নেওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ
বাসিন্দারা জানান সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘরের চুলায় গ্যাস সরবরাহ ছিল না; বিকেলের দিকে পাইপলাইনে গ্যাস আসলেও চাপ কম থাকায় রান্নাবান্না করা যাচ্ছে না। অনেকে মাটির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। অপরপক্ষে সিএনজি চালকরা বলছেন, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস মেলছে না; ফলত দূরপাল্লার ও আঞ্চলিক ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
"সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নাই। তাই ভাড়া বেশি নিতে হচ্ছে,"
এক যাত্রী বলেন, প্রথমে কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত ভাড়া ছিল ৫০ টাকা; আজ একই দূরত্বে ৭০ টাকা দিয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়ে গেছে।
গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির তথ্য
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায় যে, জেলা জুড়ে আবাসিক গ্রাহক সংখ্যা ২৩,১৭৮ এবং ক্ষুদ্র কুটিরশিল্প ও রেস্টুরাঁসহ বাণিজ্যিক গ্রাহক ১৬১ জন। তাদের অনুযায়ী দৈনিক সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যেখানে প্রকৃত চাহিদা প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট।
| বিষয় | পরিমাণ |
|---|---|
| আবাসিক গ্রাহক | ২৩,১৭৮ |
| বাণিজ্যিক গ্রাহক | ১৬১ |
| দিনে সরবরাহ | ৩ মিলিয়ন ঘনফুট (প্রায়) |
| প্রয়োজনীয় চাহিদা | প্রায় ৮ মিলিয়ন ঘনফুট |
স্থানীয় প্রভাব ও সামাজিক ফলাফল
গ্যাস সংকটের ফলে বাড়িতে রান্নাবান্না না হওয়া, রেস্তোরাঁ ও কুটিরশিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সিএনজিচালিত পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের সংসারের জন্য এটি অনত্যাহ্য চাপ সৃষ্টি করছে। বহু পরিবার বিকল্প উপায়ে রান্না করতে বাধ্য হওয়ায় সময়, শ্রম ও জ্বালানি ব্যয়ের বৃদ্ধিও ঘটেছে।
কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান
গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সূত্র জানায় সরবরাহের বর্তমান মাত্রা ও চাহিদার ফারাকই মূল কারণ। পাইপলাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় সমগ্র জেলায় সিস্টেমগতভাবে গ্যাস পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য:
- সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করা দরকার।
- গ্যাস নিয়ন্ত্রণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করে জরুরি গ্রাহককে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।
- অস্থায়ীভাবে বিকল্প জ্বালানির ব্যাবস্থা ও গৃহস্থালীদের জন্য সহায়তা প্যাকেজ বিবেচনা করা উচিত।
সরকারি বা সংস্থাগত কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনের সময় সাথে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন, সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে সামাজিক অসন্তোষ বাড়তে পারে, কারণ গ্যাস-সংক্রান্ত সীমাহীন অনিশ্চয়তা দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এই সংকট মামলার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসন ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার সমন্বয় ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে।
সংবাদদাতা: হাবিবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি