কলাপাড়া, পটুয়াখালী — জেলা আওয়ামী যুবদলের স্থানীয় নেতৃত্বপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি এই উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর ও দক্ষিণ চরপাড়ায় বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর সময় জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে আিক্ষেপিত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে প্রায়ই উত্তর ছোঁয়া হলেও স্থানীয়রা বলছেন, অভিযোগের মাত্রা বড় এবং এতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ: বাধ্যতামূলকভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে
ভুক্তভোগীরা জানায়, সম্প্রতি পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় ওই এলাকায় খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু করলে একাংশ লোক উপস্থিত থেকে খুঁটি পরিবহন ও স্থাপনের খরচের কথা বলে প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে প্রতিটি পরিবার ২ হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিটার সংযোগ নিশ্চিত করার আগেই বাড়তি আরও ২ হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয়দের বড় অংশের দাবি, দুই গ্রামের মোট শতাধিক পরিবার এখনও বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আর খুঁটি বসানোর কাজে সরাসরি জড়িত না থাকা কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে এসব অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেউ কেউ জানান, তারা নাকফুল বন্ধক রেখে বা ধানচাষের অগ্রিম টাকা থেকে, আবার কেউ সংসারের জরুরি খরচ কমিয়ে টাকা দিয়েছেন।
কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা
অভিযোগে একজন নাসির উদ্দিন নামে স্থানীয়ের উল্লেখ পাওয়া গেছে; তিনি বলেন, নির্ধারিত টাকা দিতে না পারায় তার বাড়ির পাশে বসানো খুঁটিটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তিনি রাতেই খুঁটির জন্য আংশিক অর্থ দিলে পরদিন খুঁটিটি সেখানে স্থাপন করা হয়। এই ধরণের ব্যক্তিগত আচরণ ভুক্তভোগীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং অসাম্য তৈরি করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন।
অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া
মুঠোফোনে অভিযুক্ত মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রিয়াজ সিকদারের সঙ্গে কথা বললে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি শ্রমিকদের খাবারের জন্য কিছু টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং অন্যান্য অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
“অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে কলাপাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদের কথাবার্তা সংবাদে উঠে এলে তিনি সতর্কভাবে বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংগঠনগত ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ লাইনের কাজ চলমান রয়েছে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই।
“সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ লাইনের কাজ চলমান রয়েছে। এ কাজের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যা বলা হয়েছে পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদারের পক্ষ থেকে
পল্লী বিদ্যুতের সাব-ঠিকাদার সুমন ঘটনার প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে রিয়াজ সিকদারের মাধ্যমে যে টাকা নেওয়া হয়েছে তা ওই গ্রাহকদের সঙ্গে সমন্বয় করে নেয়া হয়েছে—তবে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় কাজ চলার সময় গ্রাহকদের থেকে অর্থ আদায়ের কোনো অধিকার নেই এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- অভিযোগিত ব্যক্তি: মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রিয়াজ সিকদার (নাম অনূর্ধ্বতন সূত্র থেকে)।
- ভুক্তভোগী পরিবারের সংখ্যা (প্রকৃত দাবী): প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ; দুই গ্রামে মোট শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎবিহীন।
- আদায়্যকৃত অর্থ: প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ২ হাজার টাকা; মিটার সংযোগের জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা দাবি।
কী করবে ক্ষতিগ্রস্তরা এবং পরবর্তী করণীয়
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীরা মামলা বা লিখিত অভিযোগ করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে অনুরোধ করতে পারেন। স্থানীয় নেতাদের মন্তব্য থেকে প্রাপ্ত প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে প্রশাসনের তদন্ত শুরু হলে অনেকে প্রত্যাশা করছেন দ্রুত ব্যবস্থা হবে।
| প্যারামিটার | সূত্রভিত্তিক তথ্য |
|---|---|
| আদায়ের পরিমাণ | ২,০০০ টাকা প্রতি পরিবার (প্রাথমিক), + ২,০০০ টাকা মিটার সংযোগের আগে বলে দাবি |
| ভুক্তভোগী পরিবারের সংখ্যা | অর্ধশতাধিক গ্রাহক অভিযোগকারী; দুই গ্রামে মোট শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎবিহীন |
| প্রতিক্রিয়া | অভিযুক্ত অস্বীকার; উপজেলা যুবদল ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার কথা বলেছেন |
রিপোর্টটি তৈরির সময় স্থানীয় প্রশাসন বা থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহণ হয়েছে কি না তার চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীদের দাবি এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিবেচনায়, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—এটাই স্থানীয় মানুষজন আশা করছে। ঘটনাস্থল ঘেঁটে দেখা গেলে এই ধরনের আর্থ-সামাজিক চাপ বিশেষত দরিদ্র পরিবারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা চলতি কাজের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি করে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, উপজেলা যুবদল ও ভুক্তভোগীদের অবস্থান পরবর্তী রিপোর্টে বিস্তারিত জানানো হবে।