দিনাজপুরে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকেই অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। পরিবহন শ্রমিকরা জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, বাসস্ট্যান্ড ও থানার সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করায় শহরের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল ব্যাপকভাবে বন্ধ হয়েছে। আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন—গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিক নেতা মজিবুর রহমান মুজিবকে মুক্তি দিতে হবে এবং তার শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতিবাদ ও দাবি
শ্রমিকদের দাবি ও অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসির কক্ষে মামলার তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার সময় মজিবুরের এবং সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক নওবুর রহমানের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ আছে যে মজিবুর ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে থাপ্পড় দেন; পরে তাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। আন্দোলনকারীরা বলেন, আটক করার পর মজিবুরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং তাতেই তাদের পাল্টা প্রতিবাদ।
আন্দোলনকারীদের দাবি— “অবিলম্বে গ্রেপ্তার শ্রমিক নেতা মুজিবকে মুক্তি দিতে হবে এবং নির্যাতনের ঘটনায় সিআইডি পরিদর্শক নওবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
কোথায় আন্দোলন চলছে — কোথায় সমস্যা
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থান ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে। আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেছেন দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা এবং সাধারণ শ্রমিকরা।
- নিমনগর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড — বাস ও কোচ চলাচল বন্ধ
- দিনাজপুর সরকারি কলেজ মোড় — অটোরিকশা ও শহরসেবা ব্যাহত
- মেডিকেল মোড় — চূড়ান্ত ব্যস্ত কেন্দ্র; যানজট ও ভোগান্তি
- বালুয়াডাঙ্গা মোড় — মোড়জুড়ে পথ অবরোধ
- কোতোয়ালি থানার মোড় — থানা সংলগ্ন প্রধান অবরোধকেন্দ্র
| অবস্থান | প্রভাব |
|---|---|
| নিমনগর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড | দূরপাল্লার কোচসহ সকল রুটে চলাচল বন্ধ |
| দিনাজপুর সরকারি কলেজ মোড় | শহরব্যাপী অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যাহত |
| কোতোয়ালি থানার মোড় | স্থানীয় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষের সম্ভাব্য কেন্দ্রবিন্দু |
চলমান কার্যক্রম ও নেতৃত্ব
আজকের আন্দোলনে অংশ নেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সাধারণ সদস্যরা। উপস্থিত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম, আসন্ন নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোন্নাফ মুকুল, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ শওকত আলী তোতা, সাবেক সহসভাপতি এনামুল হক সহ অনেকে। নেতারা সাংবাদিকদের বলেছেন যে তারা যদি সুষ্ঠু তদন্ত ও দাবিগুলি মানা না হয় ততদিন বার্হিভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে; অনেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন, এবং ব্যবসায়ীরা লোকালজোরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে যদি দাবি মেনে নেয়া না হয় বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
নজরদারি ও সম্ভাব্য পরিণতি
গ্রেপ্তার এবং নির্যাতন—উভয় দাবিতেই শ্রমিকরা যে অনড়, তা প্রতীয়মান। প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এখনও প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী ধর্মঘট চালিয়ে গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি পরিবহন সেবার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। শহরের ব্যস্ত মোড়গুলোতে সড়ক অবরোধে জরুরি যানবাহন ও পরিবহণ ব্যাহত হলে তা নাগরিক জীবনে বাস্তব হুমকি হিসেবে দেখা দেবে।
স্থানীয় আদালত ও প্রশাসন কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবেন এবং শ্রমিকদের বেআইনি নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত কেমন হবে—এই দুটি প্রশ্নের উত্তরের ওপরই আগামী দিনের খাদ্য ও সড়কচলাচল সচল রাখার চাবিকাঠি নির্ভর করছে।
WE NEWS দিনাজপুর স্থানীয় কার্যালয় থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করে পাঠকদের অবগত করা হবে।