দুই প্রতিষ্ঠানে এক দিনে প্রাণহানি, পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা সদরে গত একদিনের মধ্যে দু’টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবার গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে দুইজনের অকাল মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে। নিহত রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন যে ঘাটুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নিরাময় ক্লিনিক নামের এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও জরুরি সেবার ব্যবস্থা না থাকায় প্রাণহানি ঘটেছে।
স্বজনদের অভিযোগ ও সমালোচনা
নিহতদের স্বজনরা হাসপাতালে পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন চিকিৎসা ও জনবল না থাকা, আইসিইউ ও জরুরি অপারেশনের সুযোগের অভাব, এবং ক্লিনিকগুলোকে আবাসিক বাসা ভাড়া করে পরিচালনা করার মতো অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, এসব ক্লিনিক ও হাসপাতাল কীভাবে অনুমোদন পায় এবং যারা স্বাস্থ্যসেবার মান পর্যবেক্ষণের দায়ে রয়েছেন তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
“একদিনে দুটি প্রাণ ঝরে গেল। এদের মধ্যে একজন আমার বোন। চিকিৎসাসেবার নামে এখানে মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা চলছে। পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন চিকিৎসক ছাড়াই নার্স ও অপ্রতুল জনবল দিয়ে হাসপাতাল চালানো হচ্ছে। আবাসিক বাসা ভাড়া নিয়ে গঠিত এসব ক্লিনিকে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা কিংবা আইসিইউ সুবিধা না থাকলেও প্রশাসনের নজরদারি নেই।”
স্থানীয়দের দাবি ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে তৎপর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—
- জেলার সকল বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স ও সুযোগ-সুবিধা পুনঃযাচাই করা।
- অনিয়ম ধরা পড়লে কেবল জরিমানা নয়, ক্লিনিক বন্ধসহ কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
- আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার (OT) এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
সমস্যার প্রকৃতি ও স্থানীয় প্রভাব
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর এলাকায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার উপর অনেক রোগী নির্ভরশীল। অনেকে জরুরি বা বিশেষ ধরনের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ক্লিনিক ও ছোট হাসপাতালের উপর নির্ভর করে থাকেন। স্থানীয় পর্যায়ে ক্লিনিকগুলো যখন পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও কুশলতার অভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তখন জরুরি অবস্থায় রোগীর জীবন রক্ষার সম্ভাবনা সংকুচিত হয়। এমন পরিস্থিতি সমাজে আস্থা ক্ষুন্ন করে এবং রোগী পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিক ঝুঁকি বাড়ায়।
তথ্য ও পরবর্তী প্রক্রিয়া
প্রতিষ্ঠানগুলোর কোন কোন দিক থেকে অব্যবস্থা ছিল এবং সেগুলোর পরিণতি হিসেবে কী অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগ অনুযায়ী তারা দ্রুত এবং কাঠামোগতভাবে তদন্ত চালিয়ে সত্যানুসন্ধান ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।
| প্রতিষ্ঠান | উল্লেখিত অভিযোগ |
|---|---|
| ঘাটুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | চিকিৎসাসেবা-অব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত জনবল নেই বলে অভিযোগ |
| নিরাময় ক্লিনিক | আইসিইউ/জরুরি সুবিধা অনুপস্থিতি ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক-নার্সের অভাব |
স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে যেন কোনো পরিবারকে এমন ভাবে স্বজন হারাতে না হয়, এজন্য স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা ও ‘মাফিয়া’ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ কী ব্যবস্থা নেবে—এটি জেলাবাসীর চোখে রাখা বিষয় হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে প্রতিবেদন করেছেন, হাবিবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, WE NEWS।