সমাজ ভোলা ভোলা (36)

ভোলা শহরের প্রাহীন বাস টার্মিনাল: ৩৮ বছরে সংস্কারের অভাবে যাত্রী ও শ্রমিক বিভ্রান্তি

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল ইতিমধ্যে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়েছে; যানজট, পানি-কাদা ও নিরাপত্তাহীনতায় নাভিশ্বাস নেয় যাত্রীরা। পৌর প্রশাসন আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের ডিপি তৈরির কথা বললেও অনিশ্চয়তার আবহ টিকে আছে।

ভোলা শহরের প্রাহীন বাস টার্মিনাল: ৩৮ বছরে সংস্কারের অভাবে যাত্রী ও শ্রমিক বিভ্রান্তি
©অলংকরণ রেহানা পারভীন / we-news.com

টেকসই সংস্কারের অভাব—দৈনন্দিন দুর্ভোগ

বরিশাল বিভাগের ভোলা শহরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তাফা কামাল বাস টার্মিনাল দীর্ঘকাল—প্রায় ৩৮ বছর—বড় সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ না হওয়ায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়েছে। টার্মিনালের ভেতরের সড়ক ও প্ল্যাটফর্ম ভেঙে চিহ্নিত বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে, বৃষ্টি হলে সেগুলোতে পানি ও কাদা জমে যানবাহন ও পথচারীর জন্য চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাস মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীর অভিযোগ—টাঙ্গানো কোনো ছাউনি নেই, পাবলিক টয়লেট নেই, শ্রমিকদের বিশ্রামকক্ষ নেই এবং টার্মিনালের চারপাশের সীমানা প্রাচীর বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। এর ফলে রাতের বেলায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং বিভিন্ন সময় বাসের যন্ত্রাংশসহ চুরির ঘটনা ঘটার কথা ওঠে এসেছে।

যাত্রী ও শ্রমিকদের কষ্ট

নারী যাত্রী ও অভিভাবকরা বিশেষভাবে সমস্যায় পড়েছেন। একজন নারীযাত্রী অভিযোগ করেছেন যে টার্মিনালে গৃহীত কোনো নিরাপত্তা বা সুবিধা নেই, ফলে তাদের জন্য ভোগান্তি বাড়ে, বিশেষত বাচ্চা নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় রাস্তায়।

“এই টার্মিনালে নারীদের জন্য কোনো নিরাপত্তা বা সুযোগ-সুবিধা নেই। শিশুদের নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।”

বাস শ্রমিকরা বলছেন, বেহাল সড়ক ও ভাঙা প্রাচীরের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। বর্ষা মৌসুমে সমস্যাগুলি আরও তীব্র হয়—সড়কে জমে কাদা-জল, ফলে চলাচলে ঝুঁকি ও পরিচ্ছন্নতা সংকট তৈরি হয়। মালিক পক্ষ থেকে পৌরসভার কাছে বহুবার সমস্যা জানানো হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।

পৌর প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা

ভোলা পৌরসভার প্রশাসক জানান, একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ডেভেলপমেন্ট প্রস্তাব (ডিপি) তৈরি করা হয়েছে এবং সেটি মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে আছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ডিপি এ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদিত হলে কাজ শুরু করা হবে। তবে এই ঘোষণা বাস্তবে কখন কার্যকর হবে তা এখনও অনিশ্চিত।

অবস্থান অবস্থা
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তাফা কামাল বাস টার্মিনাল ৩৮ বছর ধরে বড় সংস্কার ছাড়াই জরাজীর্ণ
উন্নয়ন পরিকল্পনা ডিপি মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে; এডিপি অনুমোদন হলে কাজ শুরু

প্রভাব ও সমাধান চাই

এই অবকাঠামোগত অবহেলা কেবল যাত্রীদের দুর্ভোগই বাড়ায় না, শহরের অর্থনীতি ও সড়ক নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করে। টার্মিনালটি শহরের একটি প্রধান যাতায়াত কেন্দ্র হওয়ায়, এর সুষ্ঠু সংস্কার ও আধুনিকায়ন হলে সুবিধাভোগী হবে হাজারো যাত্রী, বাস মালিক, শ্রমিক ও পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ীরা।

  • তাত্ক্ষণিক প্রয়োজন: জরুরি সংস্কার—গর্ত ভরাট, সড়ক সমতলকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল মেরামত।
  • স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা: নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা ছাউনির ব্যবস্থা, মোবাইল টয়লেট ও নিরাপত্তা প্রহরা।
  • দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: নির্মিত আধুনিক টার্মিনাল ও ব্যবস্থাপনা ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ।

স্থানীয় মালিক ও শ্রমিকদের বক্তব্য, পৌর প্রশাসনের ঘোষণার বাস্তবায়ন ছাড়া বছরের পর বছর এই সমস্যা অনসোধিত থাকলে শহরের পরিবহন ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে সংকটময় হবে। ফলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সাধারণ জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকটি ব্যবসায়ী ও যাত্রী সংগঠন।

ভোলা শহরের প্রধান নগর সম্ভ্যতা বজায় রাখতে ও নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে এখনই পরিকল্পিত ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার জরুরি। টার্মিনালের যত দ্রুত সংস্কার সম্ভব, তত দ্রুত শহরের নিত্যপ্রয়োজনীয় চলাচল ও নিরাপত্তা মেরামত হবে।

রিপোর্ট: ভোলা প্রতিনিধি, WE NEWS

রেহানা পারভীন
রেহানা এআই ভোলা প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি রেহানা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

36ভোলা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো ভোলা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব