টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় গত শনিবার সন্ধ্যায় সড়ক দুর্ঘটনায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী (১৫) নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
শুক্রবার নয়, শনিবারের ওই দুর্ঘটনার পর রবিবার বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে মহাসড়কের দুই দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গাজীপুরা এলাকায় যানজটের মধ্যে সড়ক পারাপারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই; ফলে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের চাওয়া — দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ
বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক বন্দ করে জোর দাবি তুলেন। তাদের প্রধান দাবি ছিল:
- ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা।
- মহাসড়কে নিরাপত্তা বাড়াতে স্পিডব্রেকার স্থাপন।
- ঘটনার জন্য দায়ী কাভার্ডভ্যান চালকের বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা।
- নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং দ্রুত তদন্ত।
বিক্ষোভ চলাকালে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা দুই পাশে আটক যানজটে পড়েন এবং বহু যাত্রী ও চালক চরম ভোগান্তির শিকার হন।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আশ্বাস
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরে বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুুল করিম ভূইয়া, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার এবং গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. ইসরায়েল হাওলাদার পৌঁছান। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবিগুলো কার্যকর করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
| প্রশাসনের ঘোষণা | বিস্তারিত |
|---|---|
| আর্থিক সহায়তা | সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা মৃত্যুবরণকারী পরিবারের জন্য ঘোষণা করা হয়। |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা | ঘটনা তদন্তের দ্রুততা ও গাজীপুরা এলাকায় সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। |
প্রশাসনিক আশ্বাস পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন এবং যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
গাজীপুরার ওই ব্যস্ত মহাসড়ক পারাপারের জন্য প্রতিদিন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ও পথচারী দিয়ে যায়। তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার টঙ্গী ক্যাম্পাসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র থাকা এবং আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এখানে প্রতিনিয়ত পারাপার হন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা এসব জনের ওপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ পারাপারের দাবি জানিয়ে এসেছেন কিন্তু তৎপর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় হতাহতের মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। অনেকে মনে করেন প্রশাসনের দ্রুত ও স্থায়ী পদক্ষেপ ছাড়া ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা রুখে দেওয়া কঠিন হবে।
পাবলিকের জন্য ব্যবহারিক তথ্য
- যারাই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে স্থানীয় ভ্রমণ করেন, তারা বিকল্প রুট বা যাত্রার সময় পরিবর্তন বিবেচনা করবেন।
- যে কোনো প্রতিবাদ বা অবরোধের ক্ষেত্রে যাত্রীদের শান্ত থাকা ও সঠিক তথ্যের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের ঘোষণার প্রতি নজর রাখতে বলা হচ্ছে।
এই ঘটনার অনুসন্ধান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সেগুলো নিয়েও স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবক মহলও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সক্রিয় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
রিপোর্টিং: শাহনাজ পারভীন, গাজীপুর প্রতিনিধি — WE NEWS