টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী (১৭) নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে মাদ্রাসার শতাধিক ছাত্রী-ছাত্র রাস্তার দুই পাশ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাদ্রাসা প্রধান ফটকের সামনে ও গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে যান, ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
পরিবেশনা অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় বাসস্ট্যান্ডের সামনে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যান ইয়াসিনকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইয়াসিন পাবনার সুজানগর থানার নিয়াপাড়া এলাকার রিপন মিয়ার ছেলে এবং পরিবারসহ টঙ্গীর গাজীপুরা কাজীপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
ক্ষুব্ধ ও শোকাহত সহপাঠীরা দাবি করেছে, ওই এলাকাটি ব্যস্ত সড়ক হওয়া সত্ত্বেও ফুটওভারব্রিজ বা পারাপারের নিরাপদ কোনো ব্যবস্থা নেই। দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের কারণে নিরন্তর দুর্ঘটনার ঝুঁকি বলেও তাদের অভিযোগ। তাই তারা দ্রুত একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ ও কার্যকর গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান
দুর্ঘটনা ও অবরোধ সম্পর্কে গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বলেন—
“ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের জন্য পুলিশ কাজ করছে।”
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সরানোর চেষ্টা করেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এরপরও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ থাকায় সড়ক কিছু সময় ধরে বন্ধই ছিল।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও ভোগান্তি
অবরোধের সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। যাত্রীরা ও চালকরাও দীর্ঘ যানজটে দুর্ভোগ পেয়েছেন। স্থানীয় দোকানপাঠ ও পরিবহন শ্রমিকরা জানান, ট্রাফিক বন্ধ থাকায় ব্যবসা ও ওয়ার্কশিডিউল ব্যাহত হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির ন্যাকামি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন জারি রাখবেন বলে জানিয়েছেন। তারা এলাকায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধী কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
প্রাসঙ্গিক নিরাপত্তা ও নীতিগত প্রশ্ন
ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত ঘাটতি ও রাস্তায় নিরাপত্তার অভাবকে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্কুল ও মাদ্রাসা-সংলগ্ন এমন ব্যস্ত সড়কে জনপদ পারাপারের জন্য ফিটনেস সম্পন্ন পদচারণা ও গতিরোধক ব্যবস্থা থাকলে অপ্রাপ্ত্য দুর্ঘটনা অনেকটাই কমত—স্থানীয়রা এভাবেই দাবি করছেন।
- দাবি: দ্রুত একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ।
- দাবি: কার্যকর স্পিডব্রেকার বা অন্যান্য গতিরোধক স্থাপন।
- দাবি: অভিযুক্ত যানবাহনের চালকের বিচারের দাবি ও পারিবারিক ক্ষতিপূরণ।
আবার প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে সড়কের ওই অংশে অতিরিক্ত ট্রাফিক আইনশৃঙ্খলা, জোরদার চেকপোস্ট এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার।
পরবর্তী প্রত্যাশা
শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের দাবি মেনে না নিলে তারা আন্দোলন তীব্রতর করবেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ ও দাবি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। তবে বাস্তবায়ন কবে হবে—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাস্থল ও প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই।