গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোদাবক্স মৌজায় এলজিইডি সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে থাকা একটি বড় রেইনট্রি গাছ অনুমতি ছাড়া কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, গত ২৭ জুলাই ওই গাছটি কেটে নেয়া হয়; এরপর স্থানীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তারা ঘটনার তদন্তে নেমেছেন।
ঘটনার ধরণ ও অভিযোগ
স্থানীয়রা জানান, গাছটি দীর্ঘ দিন এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির সহায়তায় মৃত বানা মিয়ার ছেলে গাবুর আলী গাছ কেটে নেয়। কাটা গাছের গুঁড়িগুলো পরে বাড়ির আঙিনায় পড়ে ছিল; কিছু অংশ বিক্রির উদ্দেশ্যে সরানোর চেষ্টা চলছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
ঘটনায় সরাসরি অভিযুক্ত গাবুর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টায় তাকে পাওয়া যায়নি। তবে গাবুর আলীর ভাই আমজাদ আলী স্থানীয় সংবাদকর্মীদের বলেন, ওই গাছটি তাদের দখলে থাকা জমির মধ্যে ছিল, ফলে তারা কেটেছে।
“রাস্তার পাশের রেইনট্রি গাছটি তাদের মালিকানা জমিতে ছিল। যা তারা কেটে নিয়েছেন,” — আমজাদ আলী।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন মদত করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভাতগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সেলিম। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাঠে গিয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে মাপজোক করে দেখা হবে কাদের স্বার্থ সেখানে জড়িত—সরকারি জমি ছিল নাকি ব্যক্তিগত।
ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান বলেন, প্রথম চেহারা থেকেই গাছটি মালিকানাগত মনে হচ্ছে; তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় জনমত ও পরিবেশগত প্রভাব
স্থানীয়রা বলছেন, বড় গাছ কাটা গেলে সেখানকার ছায়া, বাতাস-প্রবাহ ও জলবিঞ্চনের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষত রাস্তার পাশে থাকা গাছগুলি ক্ষয়ক্ষতি কমাতে, মাটির ক্ষয়রোধে ও গ্রীষ্মে তাপমাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই গাছ কাটা হয়ে গেলে স্থানীয় পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
- ঘটনা: রেইনট্রি গাছ অনুমতি ছাড়া কাটা
- তারিখ: গাছ কাটার অভিযোগ মে় করা হয় ২৭ জুলাই; ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয় ৯ আগস্ট
- স্থিতি: খোদাবক্স মৌজা, ভাতগ্রাম ইউনিয়ন, সাদুল্লাপুর উপজেলা
আইনগত ও প্রশাসনিক দিক
সরকারি বা সড়কপ্রাচীরাভুক্ত গাছ কাটার বিষয়ে সাধারণত সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলায় নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। যদি গাছ সরকারি জমিতে অবস্থিত থাকে, তাহলে তা কেটে ফেলা অবৈধ বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তার মাঠনিরীক্ষার রিপোর্টই ভবিষ্যতে আইনি সিদ্ধান্ত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কি প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী
স্থানীয়দের দাবি, যদি প্রমাণ হয় গাছটি সরকারি জায়গায় ছিল, তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কাটা গাছের ক্ষতিপূরণসহ ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা উচিত। কেউ কেউ দাবি করছেন, সার্বজনীন ক্ষতির পরিপূরক হিসেবে নতুন গাছ রোপণ ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| কাটার তারিখ | ২৭ জুলাই (অভিযোগ অনুসারে) |
| পরিদর্শন | ৯ আগস্ট — ভাতগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী |
| অভিযুক্ত | গাবুর আলী (লোকাল অভিযোগ অনুযায়ী) |
পরবর্তী ধাপ
ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম সেলিম জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত অবস্থা নিরূপণে সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে মাপজোক করা হবে। মাপজোকের ফলাফল অনুসারে কেবলই সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন—চাই তা হয় জরিমানা, পুনরায় রোপণ অথবা অপরাধমূলক কটূক্তিতে আইনের আওতায় নেয়া।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি ঝাড়ছেন, যাতে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে পাবলিক সম্পত্তি ও পরিবেশগত উপাদান বিনষ্ট করা বন্ধ করা যায়।