রংপুর নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার একটি গ্যারেজ মালিককে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় র্যাব-১৩ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনায় নিহতের পরিবার তাজহাট থানায় হত্যা মামলা করলে র্যাব তদন্তে নামলে দ্রুত গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করা সম্ভব হয় বলে র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
| নাম | বয়স | ঠিকানা/সংক্ষিপ্ত পরিচয় |
|---|---|---|
| দুলাল মিয়া | ৪৫ | রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ পূর্বখাসবাগ এলাকার হায়দার আলীর ছেলে |
| ফিরোজা বেগম | ৫৫ | লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী গ্রামের নাসির উদ্দিনের মেয়ে |
| রেজাউল ইসলাম | ৫৫ | লালমনিরহাটের একই গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে |
র্যাব বলেছে, রংপুর নগরীর তাজহাট বাবুপাড়ার আনছারীর মোড় এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুর রহমান (৬৫) নামে ওই ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহবাহী গ্যারেজের মালিককে বুধবার রাতের কোনো একসময় কুপিয়ে হত্যার পর ফেলে রাখা হয়। নিহতের পরিবার পরে তাজহাট থানায় হত্যা মামলা নথিভুক্ত করেন।
র্যাবের তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান
র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে দুলাল মিয়া গ্রেফতার করা হয়। এরপর ভোর সাড়ে চারটার দিকে ফিরোজা বেগম ও রেজাউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ড স্বীকার করেছে। অভিযোগ অনুসারে হত্যার পেছনে পারিবারিক ও আর্থিক বিবাদ জড়িত ছিল। পড়তি অনুবৃত্তিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনার আগেকার দিন বিশেষত অর্থ সংক্রান্ত দাবিদাওয়ার জড়িততা লক্ষ্য করা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট — সম্পর্ক ও আর্থিক বিবাদ
র্যাব সূত্রে পাওয়া বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে ফিরোজা বেগমের স্বামী মারা যান। এরপর এক পর্যায়ে দুলাল মিয়া গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমানের কাছে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালাতেন। সূত্রে বলা হয়, গত কয়েক মাস আগে আব্দুর রহমানের স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে গেছেন; এরপর দুলাল মিয়া আর্থিক সুবিধা দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে এবং গোপনে ফিরোজা বেগমের বিয়ের আয়োজন করেন।
বিবরণে বলা আছে, বিয়ের কয়েকদিন পরেই আব্দুর রহমান ফিরোজা বেগমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরোজা বেগম সংসার করবে না বলে জানান। হত্যাকাণ্ডের সাত দিন আগে দুলাল মিয়ার মধ্যস্থতায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়। পরে দুলাল বিভিন্ন অজুহাতে ফিরোজার কাবিনের ৫০ হাজার টাকা নিজে রেখে দেন। ঘটনাস্থলের ঠিক আগেরদিনও দুলাল অটোরিকশা উদ্ধারের কথা বলে ফিরোজার কাছে চার হাজার টাকা দাবি করেন; ফিরোজা টাকা না দিলেও তাকে একটি অটোরিকশা দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশা উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেন।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া
কোনো শরণ-পাল্টা অভিযোগপত্র দায়ের বা আদালতে আত্মসমর্পণের তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় পুলিশ ও র্যাবের সহযোগিতায় ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এ মামলায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে র্যাব জানিয়েছে।
- ঘটনার সময় ও স্থান: বুধবার রাতে কুপিয়ে হত্যা; মরদেহ উদ্ধার বৃহস্পতিবার সকালে, তাজহাট বাবুপাড়া, আনছারীর মোড়
- নিহত: আব্দুর রহমান, বয়স ৬৫
- গ্রেফতার: তিনজন—দুলাল মিয়া, ফিরোজা বেগম, রেজাউল ইসলাম
স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনাগুলো কমিউনিটিতে নিরাপত্তা অনুভূতিতে প্রভাব ফেলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সামাজিক ও মানসিক সাহায্য প্রয়োজন হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের সম্মুখীন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
র্যাব-১৩ প্রতিনিয়ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শক্তপোক্ত সূত্র প্রস্তুত করছে; আদালতপ্রক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ভবিষ্যতে আরেকটি অফিসিয়াল ব্রিফিং হতে পারে।