রংপুরে একটি অটোরিকশা গ্যারেজ মালিককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় র্যাব ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত ব্যক্তি ওই গ্যারেজের মালিক আব্দুর রহমান (৬৫)। র্যাব-১৩ সূত্রে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
র্যাবের অভিযানের ধরণ ও গ্রেপ্তারকৃতের পরিচয়
র্যাব-১৩ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অভিযুক্তদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
| নাম | বয়স | ঠিকানা / পরিচয় |
|---|---|---|
| দুলাল মিয়া | ৪৫ | রংপুর মহানগর, মাহিগঞ্জ থানাধীন পূর্বখাসবাগ — হায়দার আলীর ছেলে |
| ফিরোজা বেগম | ৫৫ | লালমনিরহাট, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী গ্রাম — নাসির উদ্দিনের মেয়ে |
| রেজাউল ইসলাম | ৫৫ | উল্লেখিত একই গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে |
হত্যার পটভূমি ও সম্ভাব্য কারণ
র্যাবের অভিযানের বিবরণ অনুযায়ী ঘটনাটি শুরু হয় ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের জটিলতার সঙ্গে। প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত দুলাল মিয়া নিহত গ্যারেজ মালিকের গ্যারেজ থেকে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালাতেন।
র্যাব জানিয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে ফিরোজা বেগমের স্বামী মারা যান। পরে দুলাল মিয়া ফিরোজা বেগমকে প্রলোভন দেখিয়ে একপর্যায়ে বিয়ে করিয়েছেন—নিজেকে আইনগত প্রতিনিধি বা গোপন পিতা বলে পরিচয় দিয়ে। বিয়ের ৫-৭ দিন পর গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমান ফিরোজা বেগমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করলে সে সংসার করতে অস্বীকার করেন। এরপর দুলাল-মধ্যস্থতায় প্রায় সাতদিন আগে গ্যারেজ মালিক ও ফিরোজা বেগমের মধ্যে তালাক হয় বলে র্যাব উল্লেখ করেছে। গণমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য অনুযায়ী, তালাকের বিনিময়ে এক লক্ষ টাকা নেওয়ার কথাও ছিল। ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে এসব পারস্পরিক বিবাদকে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।
পুলিশি ব্যবস্থা ও মামলার পরিস্থিতি
গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাজহাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা (প্রাথমিকভাবে) দায়ের করা হয়। র্যাব মামলা ও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩।
- ঘটনার সময়: বুধবার রাতের কোনো এক সময় নিহতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
- মরদেহ উদ্ধারের সময় ও স্থান: বৃহস্পতিবার সকাল রংপুর মহানগরীর তাজহাট আনছারীর মোড় এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমানের মরদেহ পাওয়া যায়।
- গ্রেপ্তার সময়: দুলাল মিয়াকে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়; ফিরোজা ও রেজাউলকে ভোর সাড়ে চারটার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় প্রভাব ও অনুসন্ধান
স্থানীয় গ্যারেজ মালিক ও অটোরিকশা চালকদের মধ্যে ঘটনাটি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গ্যারেজ কক্ষ নির্বাচন ও ভাড়া কে দখল করে নেওয়া, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা থেকে আগত বিবাদ—এসব বিষয় পরিবহনখাতে অনিশ্চয়তা ও অনভিপ্রেত পরিস্থিতির কারণ হতে পারে।
র্যাবের দাবি অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে; তবে আনুষ্ঠানিক মামলা ও আদালতের প্রক্রিয়ায় ঘটনাটির সম্পূর্ণ দিক উন্মোচিত হবে। পুলিশ ও র্যাব উভয় প্রতিপক্ষের বিবরণ যাচাই ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালত-নির্ধারিত অভিযোগের রূপ ও শাস্তি সম্পর্কে চূড়ান্ত কিছু বলা যায় না।
এই হত্যাকাণ্ড ও গ্রেপ্তারের ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য র্যাব ও স্থানীয় পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তদন্তকারীরা বলছেন, অপরাধের পেছনে আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও গ্রেপ্তার করা হতে পারে।