শেরপুর সদর উপজেলার রামেরচর হাই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ-প্রদর্শনে নামেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। স্কুল থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৭৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২১ জন উত্তীর্ণ হওয়ায় ক্ষোভ উন্মোচিত হয় এবং একপর্যায়ে তারা শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে বন্দি করে বাইরে তালা লাগিয়ে দেন।
হঠাৎ উত্তাল পরিবেশ
ঘটনাটি সোমবার দুপুরে ঘটে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দাবি করেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় না, বেশিরভাগ শিক্ষক সময়মতো আসেন না এবং দায়িত্বশীলতার অভাবে প্রতিনিয়ত অসংখ্য শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হচ্ছে। অভিযোগ শোনার পর স্থানীয়রা এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
শেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর সমাধান হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেষে শিক্ষকেরা লিখিত অঙ্গীকারপত্র দিলে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তাদের অবরুদ্ধ অবস্থান থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
স্কুল-নির্দিষ্ট ও জেলা পর্যায়ের ফলের চিত্র
রামেরচর হাই স্কুল থেকে মোট ৭৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ উত্তীর্ণ এবং ৫৭ ফেল করেছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে একও শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হলেও বিজ্ঞান বিভাগে ৪৩ জন ফেল করেছে।
| পর্যায় | পরীক্ষার্থী | উত্তীর্ণ | পাস হার (%) |
|---|---|---|---|
| রামেরচর হাই স্কুল | ৭৮ | ২১ | — |
| শেরপুর জেলা (এসএসসি) | ১৪,৯৩৭ | ৮,২৭৭ | ৫৫.৪১ |
| দাখিল | ৩,০১৪ | ১,৩৯৯ | ৪৮.১৫ |
| কারিগরি বোর্ড | ১,১৬২ | ৬২৬ | ৫০.৭৩ |
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দাবি
- বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা,
- শিক্ষক অনুপস্থিতি ও উপযুক্ত নজরদারি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা,
- এবার ফেল হওয়া শিক্ষার্থীদের বোর্ড চ্যালেঞ্জ ও পুনঃপরীক্ষার খরচ শিক্ষকরা বহন করবেন—শিক্ষকরা লিখিতভাবে এ অঙ্গীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগে বলেছে যে বছরের পর বছর এই অবহেলা চললে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে তারা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
পুলিশ ও শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করেন। পরে উভয়পক্ষের লিখিত অঙ্গীকারের ভিত্তিতে সমাধান সম্ভব হয়।
শেরপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চান মিয়া বিষয়টিকে গুরত্বসহকারে দেখার কথা বলেছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। (প্রতিবেদনে চান মিয়ার বিবৃতি সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়নি)।
স্থানীয় প্রভাব ও ভবিষ্যৎ করণীয়
রামেরচর হাই স্কুলের এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে স্থানীয়ভাবে শিক্ষা মানে যে সংকট তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শুধু ওই স্কুল নয়—পাশাপাশি জেলার সার্বিক পাস হারও পর্যালোচনার দাবি তুলছে। শিক্ষাব্যবস্থায় কার্যকর সরেজমিন মনিটরিং, শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পাঠদানের মান বাড়ানো হলে এসব ফলদোষ কমবে।
অবশেষে, শিক্ষকরা লিখিতভাবে বোর্ড চ্যালেঞ্জের ফি ও পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ফি বহন করায় সম্মত হওয়ায় তা সাময়িক শান্তি পেলেও দীর্ঘমেয়াদী উত্তরণে কার্যকর নীতিমালা ও পুনরায় ব্যবস্থাপনা জরুরি।
এ ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার স্থানীয় ত্রুটিগুলো সামনে এনেছে—অত্যন্ত প্রয়োজন সঠিক মনিটরিং, নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ ভূমিকা ও দায়িত্বশীলতা যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা অপ্রত্যাশিতভাবে তাদের ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত না হয়।