চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ—গোমস্তাপুর সড়কের পুসকিনী সীমান্ত এলাকায় গতকাল রাতের একটি সশস্ত্র ডাকাতি ঘটনার ফলে তরকারি ব্যবসায়ী রাজপতি (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক)-এ রেফার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয় অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতের কোনো এক সময় পুসকিনী এলাকায় ভ্রাম্যমাণভাবে তরকারি বিক্রি করছিলেন রাজপতি। ওই সময় একটি ডাকাত দল তাকে অপ্রত্যাশিতভাবে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে পিঠে রামদা দিয়ে আঘাত করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহতের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসেছে; তাদের উপস্থিতিতে ডাকাতরা পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা রাজপতিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে তার অবস্থা জটিল বললেও সুস্পষ্ট বিবরণ দেননি। পরে রেফার করে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী ও পরিবার
আহত রাজপতি ভোলাহাট উপজেলার নামো মুশরীভোজা (বিন্দুপাড়া) গ্রামের ওকিলের ছেলে। ঘটনায় তার পরিবারের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলেন, সড়কের এই ধরনের সশস্ত্র হামলা এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ভীতি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।
পুলিশ তদন্ত ও প্রতিশ্রুতি
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীর ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলায় জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
“ডাকাত দলের হামলায় আহত রাজপতিকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে,”
স্থানীয়দের দাবি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
পুসকিনী ও আশপাশের এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। তাঁরা বলছেন, সড়কটিতে বহনকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রাতে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা করেই জীবিকা নির্বাহ করেন; সে কারণেই সাইডে নিরাপত্তাহীনতা থাকলে আর্থিকভাবে ক্ষতি ও শারীরিক অনিশ্চয়তা বাড়ে।
- আহত: রাজপতি (৩৫), ভোলাাহাট এলাকার বাসিন্দা
- স্থান: পুসকিনী, শিবগঞ্জ-গোমস্তাপুর সড়ক (সীমান্ত এলাকা)
- চিকিৎসা: প্রথমে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে রামেক-এ রেফার
ঘটনার প্রভাব ও পরবর্তী ধাপ
এ ধরনের সশস্ত্র হামলা স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা রাতে কাজ করতে ভয় পান, ফলে পণ্যের সরবরাহ ও আয়ের উৎস সংকুচিত হতে পারে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্কুলগামী ও কমিউটিং মানুষের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন যদি দ্রুত সড়ক পাহারা বাড়ায়, পণ্যবাহী যানবাহনের পারাপারের সময় নির্দিষ্ট করে দেয় এবং মোবাইল টহল বাড়ায়, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব।
| ঘটনার স্থান | ভুক্তভোগী | চিকিৎসা কেন্দ্র | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| পুসকিনী (শিবগঞ্জ-গোমস্তাপুর সড়ক) | রাজপতি (৩৫) | গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স → রামেক | গুরুতর, উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার |
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তিশালী পদক্ষেপ কামনা করছেন। প্রশাসন ও থানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা প্রত্যাশা করে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমরা চেষ্টা করছি রামেক হাসপাতাল ও থানা পক্ষের আরও মন্তব্য পেতে; পাওয়া মাত্র এ প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।