পঞ্চগড় সদর উপজেলার কুচিয়ামোড় এলাকায় অবস্থিত মামা-ভাগিনা খালের ওপর নির্মিত স্লুইসগেট সেতু গত বছরের ভারী বর্ষণ ও প্রবল স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর থেকে স্থায়ী সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেতুটির পাশে তৎকালীনভাবে নির্মিত কাঠের অস্থায়ী সেতু ব্যবহার করলেও বর্তমানে তা নড়বড়ে হয়ে পড়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।
দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব
স্থানীয়রা বলছেন, সেতুর ভাঙার পরে চলাচল স্বাভাবিক নয়। বহু পথ ঘেঁটে আসতে হচ্ছে, মালামাল পারাপারে অতিরিক্ত শ্রম ও সময় খরচ হচ্ছে এবং জরুরি সেবা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, সেতুর ভাঙার সময় পাঁচটি দোকান পানিতে ভেসে গিয়েছিল, তার মধ্যে তার দোকানও ছিল। তিনি বলেন, "এক বছর ধরে লোকজন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, স্থায়ী সমাধান মেলেনি।"
অন্যদিকে ভ্যানচালক রফিকুল বলেন, "সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর যাত্রী ও মালামাল নিয়ে চলাচল করা যায় না। অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হয়। অ্যাম্বুলেন্সও আসতে পারে না।" ভ্যানচালক জরিফুল বলেন, কৃষকের মালামাল নিয়ে কাঠের সেতু পার করা যায় না; মালামাল নামিয়ে এক পাশে নিয়ে যেতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা হাসিবুরও উল্লেখ করেছেন, রাতে পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও ভ্যান-লোড করা যানবাহন পার হতে পারেনা।
এ সেতুর স্থানীয় গুরুত্ব
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, স্লুইসগেটটি ২০০৪ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল সেচ সুবিধা এবং চলাচলের সুবিধার্থে। এটি কুচিয়ামোড়, বন্দরপাড়া ও কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের মূল যোগাযোগ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেতু হারিয়ে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় এলাকার কৃষি, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যসেবা প্রভাবিত হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
পঞ্চগড় সদর উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, গত বর্ষায় পানির প্রবল চাপে স্লুইসগেটটির দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙে যায় এবং সেতুটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি জানান, বিষয়টি সমাধানে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং সর্বশেষ এ নিয়ে গত এপ্রিলেও জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
"আমি বেশ কয়েকবার ঢাকায় চিঠি দিয়েছি। সর্বশেষ গত এপ্রিলেও বিষয়টি জরুরি উল্লেখ করে চিঠি দেওয়া হয়েছে,"
প্রধান সমস্যাগুলো
- পরিবহন বিঘ্ন: ভ্যান, অটোরিকশা ও জরুরি বাহন পারাপারে সমস্যা।
- আর্থ-সামাজিক ক্ষতি: দোকানপাটা ভেঙে যাওয়া এবং ব্যবসায়িক লেনদেন ব্যাহত।
- কৃষি সমস্যায় অপ্রতুলতা: মালামাল পারাপারে অতিরিক্ত শ্রম ও সময় ব্যয় হচ্ছে।
- সুরক্ষা ঝুঁকি: নড়বড়ে কাঠের সেতুতে রাতে পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রভাবিত এলাকার তথ্য
| প্রভাবিত অঞ্চল | মুখ্য অসুবিধা |
|---|---|
| বারুনী | চলাচলে বিঘ্ন, কৃষি পণ্যের পরিবহণ জট |
| অখরাবাড়ি | দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত, ব্যবসা কম |
| চৌধুরীহাট | রাতে পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ, জরুরি সেবা বিলম্ব |
স্থানীয়দের দাবি ও প্রত্যাশা
স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ দাবি করছেন। তারা জানান, অস্থায়ী কাঠের সেতু পর্যায়ক্রমে উপযোগী নয়; বিশেষত বর্ষা ও রাতে এর ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এলাকাবাসীর অনুরোধ, সরকারি সংশ্লিষ্ট দফতর দ্রুত তদারকি করে স্থায়ী সমাধান দেয় যেন প্রতিদিনের কাজকর্ম স্বাভাবিক হয় এবং জীবন-জীবিকা নিরাপদ থাকে।
পরবর্তী করণীয়
এই সংবাদ প্রকাশের সময় এলজিইডির প্রাথমিক বক্তব্য রয়েছে—চিঠিপত্র করা হয়েছে এবং পুনর্মার্মত নিয়ে যোগাযোগ চলছে। স্থানীয়দের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয় জরুরি বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
সড়ক-সেতু সংক্রান্ত বিষয়গুলো ন্যূনতম সময়েই না থাকলে, এলাকার মানুষ শুধু দৈনন্দিন ভোগান্তিতেই নয়, জীবাণু ও জরুরি চিকিৎসা সেবায়ও বিপাকে পড়তে পারেন—এমন বাস্তবতা কুড়িয়ে উঠেছে কুচিয়ামোড় স্লুইসগেট সেতুর ক্ষতবিক্ষত অবস্থার সঙ্গে।