ফেনী সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম এবং পক্ষপাতের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় চত্তরে বুধবার বিকেলে বিএনপি নেতারা বিক্ষোভ করেছেন। তারা দাবি করেছেন—মেধা ও যোগ্যতা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, ফলে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন।
বিক্ষোভে যোগ্যতার জনস্বার্থবিরোধী দাবি
বিক্ষোভে উপস্থিত স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি নেতারা বলছেন, এসব নিয়োগে দলের লোকজনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। তারা দাবি করেন, সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে নিয়োগপ্রাপ্তদের বেশির ভাগই ‘অচেনা’ এবং অনেক শিক্ষিত কুমিল্লার ছেলেরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েও নির্বাচিত হয়নি। তারা দাবি করছেন, নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়—তাই বিতর্কিত ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ প্রদান করা উচিত।
“নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা লীগ ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী রয়েছেন… আমরা চাই, এমন দলীয় লোক নিয়োগ না দিয়ে দলের বাইরের শিক্ষিত ছেলেদের নিয়োগ দেওয়া হোক।”
বিক্ষোভে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন বালিগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আইয়ুব আলী, সদস্যসচিব কাজী কামরুল, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর নবী মেম্বার, লেমুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রিপন মেম্বার, ছনুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, ফাজিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক ও মোটবী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম।
প্রধান সমস্যাসমূহ ও দাবি
বিক্ষোভকারীরা প্রধানত তিনটি দাবির ওপর জোর দিয়েছেন:
- বিবাদিত নিয়োগের ফলাফল বাতিল করা
- স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়মে পুনর্নিয়োগ করা
- নিয়োগ প্রক্রিয়ার তথ্য ও পরীক্ষার নথি প্রকাশ করা
কাজী কামরুল অভিযোগ করেছেন যে কিছু নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি এলাকার পরিচিত নন এবং তাদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন, যারা আগের নির্বাচনে দলীয় কাজ বা পোলিং এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। বিক্ষোভ শেষে তাঁরা বলেছে, আগামী রোববার একটি প্রতিনিধিদল ইউএনওর সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ জমা দেবে; অভিযোগ ন্যায়সংগতভাবে সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রশাসনের প্রতিস্বরে বিতর্কিততা 'বিব্রতকর' বললো তারা
অপরদিকে উপজেলা প্রশাসন বলেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া সরকারি নীতিমালা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নিয়োগকে ৪৫ দিনের অস্থায়ী কর্মসুচি হিসেবে উল্লেখ করে জানানো হয়েছে যে ওই পরিসরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রদর্শন করা “বিব্রতকর”।
ইউএনও বা উপজেলা প্রশাসনের উক্তব্যে বলা হয়েছে, নিয়োগে কোনো পক্ষপাত বা অনিয়ম থাকলে তা যাচাই করে দেখা হবে; প্রয়োজন হলে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে তারা একই সঙ্গে তীব্ররিকারের অভিযোগপ্রতিহত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেছে—সরকারি নির্দেশনা মেনে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
কোন ইউনিয়ন থেকে প্রতিনিধিরা ছিলেন — তালিকা
| ইউনিয়ন | প্রতিনিধির পরিচয় |
|---|---|
| বালিগাঁও | আহ্বায়ক আইয়ুব আলী, সদস্যসচিব কাজী কামরুল |
| পাঁচগাছিয়া | সাধারণ সম্পাদক নুর নবী মেম্বার |
| লেমুয়া | সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রিপন মেম্বার |
| ছনুয়া | সাধারণ সম্পাদক নুর আলম |
| ফাজিলপুর | সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক |
| মোটবী | সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম |
পাশাপাশি যে প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে
স্থানীয় রাজনৈতিক কারিগরি ও প্রশাসনিক পরামর্শে দেখা যায়—এ ধরনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে সাধারণত যে বিষয়গুলো উদ্বেগ তৈরী করে:
- প্রদত্ত শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি ও নির্বাচনী মাপকাঠি প্রকাশ হয়েছে কি না
- নিয়োগে পরীক্ষার বা সাক্ষাৎকারের মান নির্ধারণ কীভাবে করা হয়েছে
- নিয়োগপত্র ও ফলাফল সংক্রান্ত আপিল ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে কি না
স্থানীয় পর্যায়ে এই অভিযোগ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে। প্রতিনিধিদলকে ইউএনও যদি লিখিতভাবে গ্রাহ্যতা না দেয়, তাহলে বিক্ষোভকারী দল আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে বলে নেতারা জানিয়েছেন।
এই ঘটনার সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হিসাবে বর্তমানে প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই ও অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়া কেন কেমন হবে—এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া হয়নি। তদন্ত বা আপিল প্রক্রিয়া শুরু হলে তার ফলাফল স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও সরকারি সুবিধা বিতরণে প্রভাব ফেলবে।
ফেনী-র স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনীতির নৈকট্য ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে এই বিষয়টি নজর রাখা প্রয়োজন—বিশেষ করে যখন নিয়োগ অস্থায়ী হলেও এতে এলাকার তরুণদের জীবিকা ও সরকারি কর্মসূচির প্রতি আস্থা জড়িত।