রাজনীতি গাইবান্ধা গাইবান্ধা (27)

পৌর কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স আদায়ে বাধা—গাইবান্ধায় ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিক্ষোভ, ৯ দফা দাবি

গাইবান্ধা পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স ও নম্বর প্লেটের নামে অবৈধ আদায়ের অভিযোগ তুলে ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালকরা শহরজুড়ে মিছিল, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করেছেন। তাদের দাবি—লাইসেন্স ও নিবন্ধন বিআরটিএর আওতায় নেওয়া, অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ।

পৌর কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স আদায়ে বাধা—গাইবান্ধায় ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিক্ষোভ, ৯ দফা দাবি
©অলংকরণ রফিকুল ইসলাম / we-news.com

গাইবান্ধা পৌরসভা কর্তৃক ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মিশুক চালকদের ট্রেড লাইসেন্সনম্বর প্লেট প্রদানের নামে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে শহরের ডিবি সড়কের গানাসাস মার্কেটের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে গাইবান্ধা ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ ও ফুলছড়ি উপজেলা রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা ইউনিয়ন।

আন্দোলনের দাবি ও কর্মসূচি

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নেতারা প্রধান সড়ক কিছু সময়ের জন্য অবরোধ করলে সড়কের দুই পাশে যানচলাচল প্রায় অর্ধঘণ্টা স্থবির হয়ে পড়ে। তীব্র রোদে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা তাদের মূলত ৯ দফা দাবির ওপর জোর দেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য几点:

  • ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকগুলোর লাইসেন্স, নম্বর প্লেট ও রুট পারমিট পৌরসভার অধীন নয়, বরং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)র আওতায় দিতে হবে।
  • পৌরসভা কর্তৃক লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট প্রদানের নামে যে অর্থ আদায় করা হচ্ছে তা বন্ধ করা।
  • দেশে চলছে যে লোডশেডিং, তা বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

বিক্ষোভ শেষে একই স্থানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তৃতা করেন গাইবান্ধা জেলা ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা গোলাম রব্বানী, ফুলছড়ি ইউনিয়নের সভাপতি আফরুজা আব্বাস, সদর উপজেলার সহসভাপতি আনারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক লাভলু মিয়া। আন্দোলনকারীরা জানান যে পৌর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম বন্ধে তারা জেলা প্রশাসক ও পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিয়েছেন, কিন্তু তাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি।

পৌরসভার প্রতিক্রিয়া

গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর হানিফ সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, পৌরসভা ইজিবাইক, অটোরিকশা বা মিশুক থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে না। তিনি লাইসেন্স ফি‑সংক্রান্ত নিয়ম ব্যাখ্যা করে জানান যে নতুন গাড়ির জন্য বার্ষিক ৪৬০০ টাকা এবং পুরাতন গাড়ির লাইসেন্স নবায়নের জন্য ৩৪০০ টাকা নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, পৌর এলাকায় বর্তমানে প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মিশুক চলাচল করে এবং লাইসেন্স না থাকায় অন্যান্য উপজেলার গাড়ি শহরে এসে ভিড় করে যা যানজট বাড়ায়।

“আমরা ইজিবাইক, অটোরিকশা বা মিশুক থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছি না,”

স্থানীয় প্রভাব ও প্রশাসনিক জবাবদিহি

অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ ও পরিবহন নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক শহরের যাতায়াত ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে। চালকদের দাবি বাস্তবায়নে হলে কর্তৃপক্ষকে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে—নইলে আন্দোলন তীব্রতর হওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পৌরসভা বলছে, লাইসেন্স বিধি মেনে নেওয়া হচ্ছে এবং শ্রমজীবী চালকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না হলে যানজট বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

প্রশাসনিক ও আইনি দিক

আইনগতভাবে যানবাহন নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষমতা কোন পর্যায়ের কতটুকু—এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। চালকদের অনুরোধটি বিআরটিএর অধীনে নেওয়ার হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যকার সমন্বয় প্রয়োজন হবে। স্থানীয়ভাবে অনুমোদিত নীতিতে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও পৌর কার্যালয়ের সমন্বিত ভূমিকা ও সময়সীমা নির্ধারণ প্রয়োজন।

নাগরিক নিরাপত্তা ও পরিষেবা বিবেচনা

ইজিবাইক ও অটোরিকশা শহরের নিত্যসঞ্চালনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের লাইসেন্সকরণ ও রুট ব্যবস্থাপনা না থাকলে যানজট, যানবাহনের অনিয়ম ও সম্ভাব্য সড়ক দুর্ঘটনা বাড়তে পারে। অন্যদিকে চালকদের আয়ের ওপর অতিরিক্ত, অনিয়মমূলক চার্জ চাপলে তাদের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়ে।

বিষয় সূত্রভিত্তিক তথ্য
পৌর এলাকার ইজিবাইক/অটোরিকশা সংখ্যা ১২–১৪ হাজার (পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার তথ্য)
নতুন লাইসেন্স ফি ৪৬০০ টাকা/বছর
লাইসেন্স নবায়ন ফি ৩৪০০ টাকা

স্থানীয় প্রশাসন ও চালক সংগঠনের মধ্যে সরাসরি সংলাপ না হলে বিষয়টি সহজে সমাধান হবে না—এ কথা বলছেন স্থানীয় চারপাশের ক্ষতিগ্রস্ত অংশীদাররা। আন্দোলনকারীরা জরুরি ভিত্তিতে তাদের দাবিগুলি বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে পাঠকরা স্থানীয় কর-নীতি, যানবাহন নিবন্ধন ও আইনগত অধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে বিআরটিএ ও পৌর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বা লিখিত নীতিমালা দেখতে অনুরোধ করা হবে। প্রশাসন ও চালক সংগঠনের মধ্যে ন্যায্য সমঝোতা না হলে শহরের জনদূরভোগ বাড়বে—এই সতর্কবাণী স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা দিচ্ছেন।

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল এআই প্রধান সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি রফিকুল, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

27গাইবান্ধা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো গাইবান্ধা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব