রাজনীতি গাইবান্ধা গাইবান্ধা (27)

গাইবান্ধায় ইজিবাইক-অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভ: ট্রেড লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট নিয়ে বিতর্ক তীব্র

গানাসাস মার্কেটের সামনে আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ও সমাবেশে গাইবান্ধা ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ ও ফুলছড়ি ইউনিয়নের নেতারা পৌরসভার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেন; প্রশাসন দাবি করছে নির্ধারিত ফি নেয়া হচ্ছে।

গাইবান্ধায় ইজিবাইক-অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভ: ট্রেড লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট নিয়ে বিতর্ক তীব্র
©অলংকরণ রফিকুল ইসলাম / we-news.com

গাইবান্ধা পৌরসভার বিরুদ্ধে ট্রেড লাইসেন্স ও নম্বর প্লেটের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা (মিশুক) চালকদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ সমন্বিত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শহরের ডিবি সড়কের গানাসাস মার্কেটের সামনে সময় বেশ কিছুক্ষণ প্রধান সড়ক বন্ধ থাকায় যানযট ও যাত্রী অসুবিধা তৈরি হয়।

আন্দোলন ও অভিযোগ

গাইবান্ধা ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ এবং ফুলছড়ি উপজেলা রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা ইউনিয়ন যৌথভাবে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চালকরা দাবি করেন যে পৌরসভা ট্রেড লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট ইস্যু করে অনিয়মভাবে অর্থ আদায় করছে। তাদের основных দাবি: লাইসেন্স ও নিবন্ধন সরাসরি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) আওতায় নিতে হবে এবং পৌর কর্তৃপক্ষের এই ধরনের চাপানো ফি বন্ধ করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে ব্যাটারিচালিত যানগুলোর কাজকর্ম নাভিশ্বাসে পড়ে; সময়মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে কর্মক্ষেত্রে সমস্যা বেড়ে যাবে। সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, তাদের দাবি না মানা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন করা হবে।

কর্মসূচির ধরণ ও প্রভাব

  • দুপুরে তারা মিছিল করে এবং প্রধান সড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে।
  • বিক্ষোভের কারণে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ যাত্রীরা তীব্র ভোগান্তি বরণ করেন।
  • রোদ ও গরম থাকা সত্ত্বেও সমাবেশে উক্ত অভিযোগ তুলে বক্তব্য রাখা হয়।

বিক্ষোভ শেষে একই স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তব্যে উপস্থিত নেতারা পৌর প্রশাসনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার সমাধানে প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা না নেওয়ার আড়াল অপসারণের আক্ষেপ করেন।

প্রধান বক্তারা ও সংগঠনের দাবি

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা গোলাম রবব্বানী, ফুলছড়ি ইউনিয়ন নেতা আফরুজা আব্বাস, সদর উপজেলার আনারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক লাভলু মিয়া। প্রাথমিকভাবে তাদের দাবি সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়:

দাবিসংক্ষিপ্ত বিবরণ
লাইসেন্স-নম্বর প্লেট বিতরণপৌরসভার বদলে বিআরটিএর অধীনে লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন প্রদান
অবৈধ আর্থিক দাবি বন্ধট্রেড লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট ইস্যুতে অনিয়ম বন্ধ করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা
বিদ্যুৎ সরবরাহলোডশেডিং বন্ধ করে ন্যায্য ও অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত

পৌরসভার প্রতিক্রিয়া

গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর হানিফ সরদার বিক্ষোভের বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে বলেন যে পৌরসভা ইজিবাইক বা অটোরিকশা চালকদের থেকে অবৈধ অর্থ আদায় করছে না এবং কর্ত্রব্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফি নেওয়া হচ্ছে। তিনি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে নতুন যানবাহরের লাইসেন্স ফি বার্ষিক ৪,৬০০ টাকা এবং পুরাতন যানবাহরের নবায়নে ৩,৪০০ টাকা ধার্য করা আছে।

"আমরা ইজিবাইক, অটোরিকশা বা মিশুক থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছি না। নিয়ম অনুযায়ী নতুন গাড়ির লাইসেন্স করতে গেলে বাৎসরিক চার হাজার ৬শত‌র ষাট টাকা এবং পুরাতন গাড়ির লাইসেন্স নবায়ন করতে তিন হাজার চারশত টাকা নেওয়া হচ্ছে,"

পৌর প্রশাসন আরও জানিয়েছে যে পৌর এলাকা বর্তমানে আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ হাজার ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মিশুক চলাচল করে, যা লাইসেন্স না থাকলে অন্য উপজেলা থেকে ঢুকে শহরে ভিড় তৈরি করে এবং যানজট বাড়ায়। এ কারণেই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন

আন্দোলনকারীরা বলছে, দাবি না মানলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে পারে। অপরদিকে পৌরসভার তর্ক যে লাইসেন্স গ্রহণ না করলে অতিরিক্ত যানবাহন শহরে ভিড় বাড়াবে—এই দ্বৈত তর্কেই মূল বিষয়টা বিবেচ্য।

এই ইস্যুতে কয়েকটি বাস্তব বিষয় নজরে রাখার মতঃ

  • চালকদের অভিযোগ প্রমাণিত হলে পৌর কর্তৃপক্ষকে অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে।
  • বিআরটিএ ও পৌরসভা উভয়ের মধ্যে দায়-দায়িত্ব স্পষ্ট না হলে নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব চলবে।
  • নাগরিক পরিবহন ও নগর দুর্ভোগ কমাতে দীর্ঘমেয়াদী নীতি প্রয়োজন—যাতে লাইসেন্স, রুট পারমিট ও নিরাপত্তা একযোগে নিশ্চিত করা যায়।

এ ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে কি সমন্বয় হবে তা নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন। বিক্ষোভ সমাধান না হলে ওই সংগঠনরা কবে ও কী ধরনের আন্দোলন করবেন তা তাদের ঘোষণায় স্পষ্ট করা হবে বলে নেতারা জানিয়েছেন।

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল এআই প্রধান সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি রফিকুল, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

27গাইবান্ধা

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো গাইবান্ধা, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব