পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া দাখিল মাদরাসা-র ২০২৬ সালের দাখিল (এসএসসি সমমান) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মিলেছে অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক একটি অবস্থা—এই প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য।
সংখ্যায় কী দেখা গেছে
প্রকাশিত ফলাফলে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই মাদরাসার ইআইআইএন নম্বর ১২৬১৮৫; মাদরাসাটিতে মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ২১ জন। পরীক্ষা হলে উপস্থিত ছিলেন ১৮ জন। তবুও কাউকে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করা সম্ভব হয়নি—ফল শূন্য এসেছে।
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠার বছর | ১৯৯০ |
| ইআইআইএন | ১২৬১৮৫ |
| নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী | ২১ |
| উপস্থিত | ১৮ |
| পাস | ০ |
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকায় যারা মাদরাসাটি ঘনঘন গমন করেন তারা জানান, মাদরাসাটি দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত নয়। এমপিওভুক্ত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বেশিরভাগ সময়ে শিক্ষকমহল নিয়মিত উপস্থিত থাকে না এবং পাঠদান অনিয়মিত হয়। তারা বলছেন, শিক্ষকের অনুপস্থিতি ও পাঠদানে গাফিলতির ফলে শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট প্রস্তুতিহীন হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে—এরই ফলাফল হিসেবে পাসের হার শূন্য এসেছে।
- অভিভাবকদের অভিযোগ: শিক্ষক অনুপস্থিতি ও পাঠদানের গাফিলতি।
- প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো: দীর্ঘদিন এমপিওভুক্ত না থাকা; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনিয়মিতভাবে খোলা-বন্ধ থাকে বলে স্থানীয়দের দাবি।
- উপস্থিতি বনাম ফলাফল: ১৮ জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত থাকার পরও কেউ উত্তীর্ণ হয়নি।
প্রশাসন ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সম্পর্কিত তথ্য
রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাদরাসাটির সুপারিনটেনডেন্ট মোজাফফর হোসেইনকে কল করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে পাওয়া যাননি। এই মুহূর্তে বিদ্যালয় প্রশাসন পক্ষ থেকে অফিসিয়াল কোনো ব্যাখ্যা রিপোর্টে পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা ও প্রভাব
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতকরা হার শূন্য থাকা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তোলে। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও এলাকার শিক্ষাগত মান নির্দেশ করে। তেঁতুলিয়া দাখিল মাদরাসার এই ফলাফল এলাকার শ্রেণীজীবী ছাত্র-ছাত্রী, তাদের পরিবার ও শিক্ষার পরিবেশ সম্পর্কে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
শিক্ষা প্রদান ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনিয়ম হলে তা সরাসরি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত, স্থানীয় শিক্ষার মান ও সমাজে বিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে প্রয়োজন শিক্ষা কর্তৃপক্ষ, বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ যাতে শিক্ষার মান উন্নত করা যায় এবং শিক্ষক সরবরাহ ও পাঠদানে গুনগত পরিবর্তন আনা যায়।
আগামী করণীয়—এখানে কী করা জরুরি
এ অবস্থায় কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ বিবেচনা করা যেতে পারে:
- মাদরাসার কার্যক্রম, শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদানের রেকর্ড যাচাই করা।
- জরুরি ভিত্তিতে বোর্ড বা জেলা শিক্ষা অফিসের পর্যবেক্ষণ ও সমীক্ষা করানো।
- অভিভাবক ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধান বৃদ্ধি।
রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সতর্কতার শোভা দেখায় এবং শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা যদি দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এলাকার তরুণ সমাজের ওপর এর প্রতিকুল প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে।
WE NEWS, পঞ্চগড় রিপোর্টিং টিম এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়ার জন্য মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে।