শিক্ষা বোদা পঞ্চগড় (31)

পঞ্চগড়ে তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি; একটিতে ২১ জনসহ মোট অকৃতকার্য

পঞ্চগড় জেলার বোদা ও তেঁতুলিয়া উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সকল পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। শিক্ষার্থী উপস্থিতি, এমপিওভুক্তি ও সিস্টেমগত অনিয়ম নিয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা।

পঞ্চগড়ে তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি; একটিতে ২১ জনসহ মোট অকৃতকার্য
©অলংকরণ ফারহানা রহমান / we-news.com

পরীক্ষা ফল ও মাঠপর্যায়ের চিত্র

পঞ্চগড়ে এইবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনটি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষার্থীরই কৃতকার্য ফল আসেনি। জেলা শিক্ষা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা সূত্রে জানা যায়, বোদার বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এক জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল এবং সে অকৃতকার্য হয়েছে। একই উপজেলার বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনজন পরীক্ষার্থীরও কেউ পাস করেনি। আরও একটি প্রতিষ্ঠান—তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা—থেকে ২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল; তাদেরও কেউ কৃতকার্য হতে পারেনি।

ফল প্রকাশের পর স্থানীয় পর্যায়ে সরেজমিনে গেলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা উদ্বেগজনক বলে ধারণা যায়। বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত আনুমানিক একশো হিসেবে দর্শানো হলেও কাগজে থাকা নামের চেয়ে বাস্তবে উপস্থিতি অনেক কম—দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে সেখানে মাত্র প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী এবং ৩ জন শিক্ষক পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি ও প্রাত্যহিক পাঠদানের অনিয়ম স্থানীয়দের প্রশ্ন তুলেছে।

এছাড়া দুইটি বিদ্যালয়েরই কোনো সাইনবোর্ড নেই এবং বলরামহাট স্কুলটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনও এমপিওভুক্ত নয়। লোকালদের একাংশের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিকে এমপিওভুক্তির আশায় মাত্র রক্ষিত রেখেই কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে; ফলে নিয়মিত পাঠদান ও তদারকি ভাটা পড়েছে।

বিক্ষিপ্ত অবকাঠামো ও তথ্যের ঘাটতি

বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও মিলছে অনুরূপ চিত্র। সেখানে বিদ্যালয়ের মূল শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ দেখা গেছে। পাশে থাকা একটি টিনের ছাউনি দিয়ে আস্তরণ করা বড় ঘরটি অবশ্য আছে, কিন্তু সেটির দরজা-জানালা ও পার্শ্ববতী বেড়া নেই—অর্থাৎ পরিবেশটি নিরাপদ ও শিক্ষণর উপযোগী নয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকেও এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্যাদির অভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দেখা যায়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মন্তব্য

"এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী বোদা উপজেলায় দুটি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি... বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এই চরম ব্যর্থতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।"

উক্ত মন্তব্যটি বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুর ইসলাম সূত্রে পাওয়া। তিনি ভিন্ন দিক থেকে বিষয়টি তদন্ত করে সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান মেসেজের আশ্বাস দিয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত তথ্যসারণী

প্রতিষ্ঠানের নাম উপজেলা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পাসকারী
বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় বোদা
বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় বোদা
তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা তেঁতুলিয়া ২১

স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ

এই ফলাফল স্থানীয়ভাবে কয়েকটি প্রবল উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে—প্রধানত পড়াশোনার ধারাবাহিকতা, শিক্ষক উপস্থিতি ও অবকাঠামো সংক্রান্ত। বিশেষত মেয়েদের শিক্ষাই যখন চর্চার বাইরে পড়ছে এমন বিদ্যালয়ে, তখন স্থানীয় সমাজে দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষা ক্ষতি ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কমে আসতে পারে। অভিভাবক ও স্থানীয়রা বলছেন, বিদ্যালয়গুলো কার্যত খন্ডকালীনভাবে রক্ষিত হয়ে আছে; সক্রিয় তদারকি ও যথাযথ এমপিওভুক্তির মাধ্যমে না করলে শিক্ষার মান উন্নত হবে না।

  • অনুপস্থিতি ও অনিয়ম: বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতি লেখা ও বাস্তবের মধ্যে ফারাক তৈরি করছে।
  • এমপিওভুক্তি নেই: এমপিওভুক্তি না হওয়ায় সরকারি তহবিল ও নিয়মিত তদারকির অভাব দেখা যায়।
  • অপর্যাপ্ত অবকাঠামো: তালাবন্দি কক্ষ, ভাঙা দরজা-জানালা ও অনুপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষত এমপিওভুক্তি, শিক্ষক নিয়োগ ও বিদ্যালয় তত্ত্বাবধানে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। স্থানীয় অভিভাবক ও সমাজকর্মীরা বলছেন, বিদ্যালয়ের সরাসরি পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিয়মিত মনিটরিং ছাড়া ফলাফল বদলানোর সম্ভাবনা কম।

এই ঘাটতি ও পরীক্ষার ফলের কারণে স্থানীয়ভাবে আগামী কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতাই গুরুতর মনোযোগ আকর্ষণ করবে—না হোক তবে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত হবে।

ফারহানা রহমান
ফারহানা এআই শিক্ষা সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ফারহানা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

31পঞ্চগড়

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো পঞ্চগড়, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব