নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী দাখিল মাদরাসা ও শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা দাখিল মাদরাসার今年 দাখিল পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী পরীক্ষার্থী শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার মাধ্যমিক, মাদরাসা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান মোট ১৮৩টি, আর এই দুই প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস না করায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষার ফলের সংক্ষিপ্ত চিত্র
পেড়লী দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৮৬ সালে, প্রথম দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯৯০ সালে এবং ১৯৯৩ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। মাদরাসাটিতে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী ও সুপারসহ ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারি রয়েছেন। ইতিহাসের অন্যান্য বছরে এখানে সাধারণত ভালো ফলাফল হলেও এবারের ফলাফল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৮ জনের একজনও পাস করতে পারেনি।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ
ফলপ্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ফলের ওপর প্রশ্ন তুলেছেন। পেড়লী মাদরাসার এক পরীক্ষার্থী তুষ্মি খানম অভিযোগ করেছেন যে তিনি বিদ্যালয়জীবনে নিয়মিত ভালো ফল করেছেন এবং পরীক্ষায়ও ভালো করেছেন, তবুও ইংরেজি বিষয়ে তাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। তিনি ফলের ওপর প্রশ্ন তুলে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
“আমি বিদ্যালয়জীবনে নিয়মিত ভালো ফলাফল করেছি এবং পরীক্ষাও ভালো দিয়েছি। কিন্তু ফলাফল-এ ইংরেজিতে আমাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে; তাই আমি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করব।” — তুষ্মি খানম
তুষ্মির মা রুমা বেগম বলেন, তার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই মেধাবী এবং নিয়মিত ভালো করেছে; পরীক্ষায় ভালো করেও তাকে ফেল দেখানো নিয়ে তারা বিস্মিত।
মাদরাসা সুপার ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া
পেড়লী দাখিল মাদরাসার সুপার আশরাফুল জাম্মান বলেন, অন্যান্য বছর এখানে ফলাফল ভালো হলেও এবার ফল অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। তিনি জানান যে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনও ভালো মেধার ছাত্র-ছাত্রী আছে এবং যারা ফল সম্পর্কে সন্দিহান তারা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করবেন।
অন্যদিকে আফরা দাখিল মাদরাসায় তদন্তে গেলে সেখানকার ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় দেখা যায় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই। স্থানীয় এক ব্যক্তি মাধ্যমে মাদরাসার সুপার আতিকুর রহমানকে ডেকে আনা হলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বর্তমানে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
নড়াইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন, সম্প্রতি নড়াইলে যোগদান করেছেন। তিনি বলেন, পেড়লী ও আফরা দাখিল মাদরাসার কোনো পরীক্ষার্থী এবারের দাখিল পরীক্ষায় পাস করেনি। তিনি বলেন প্রতিষ্ঠান দুইটি পরিদর্শন করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হবে এবং ভবিষ্যতে ভালো ফলাফলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য প্রতিকার
এ ধরনের ফলাফল শিক্ষাক্ষেত্রে প্রশ্ন উত্থাপন করে—কাগজে থাকা কর্মী-সংখ্যা ও বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে ফাঁক, শিক্ষক-গুণগত মান, পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বা প্রশাসনিক ত্রুটি—যেভাবেই হোক বিষয়গুলো তদন্তের দাবি বাড়াচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এই ফলাফলের প্রভাব পড়তে পারে শিক্ষার্থীদের শিক্ষামান ও অভিভাবকদের স্কুলে আস্থা হারানোর মাধ্যমে।
- প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে জেলা শিক্ষা অফিস দ্রুত পরিদর্শন করবে এবং কারণ অনুসন্ধান করবে।
- যাদের উত্তরপত্র নিয়ে সন্দেহ আছে, তাদের পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
- আফরা মাদরাসার ক্ষেত্রে ভবন ও কার্যক্রম সম্পর্কিত অবস্থা যাচাই করে পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম সচল করার পথ খোঁজা হবে।
| বিবরণ | সংখ্যা / অবস্থা |
|---|---|
| নড়াইলের মাধ্যমিক, মাদরাসা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান | ১৮৩টি |
| পেড়লী দাখিল মাদরাসায় শিক্ষক-কর্মচারি | ১৭ জন |
| পেড়লী মাদরাসার এবারের দাখিল পরীক্ষার্থী | ১৮ জন (সবারই অকৃতকার্য) |
নড়াইল জেলা পর্যায়ে দ্রুত তদন্ত না হলে স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন শঙ্কা প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা। শিক্ষা কর্মকর্তারা এখন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে থাকলে ফের সঠিক রূপে শিক্ষা কার্যক্রম সচল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।