নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের ফুলদাহ গ্রামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে বিকৃত অনলাইন বাণিজ্যের অভিযোগে পুলিশ গত বুধবার অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ বা 'ইলিশ বাড়ি' নামের ভুয়া পেজ ও অ্যাপস দিয়ে ভোক্তাদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নিত এবং লেনদেনের পরই গ্রাহকদের নম্বর ও সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট ব্লক করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিত।
গ্রেফতারকৃতদের নাম-পরিচয় হিসেবে পুলিশ জানায়— আকিদুল ইসলাম (২২), আসমাউল শেখ (২১), ইমরান শেখ (২০), তৈয়বুর রহমান (২০) ও নীরব শেখ (১৯)। পুলিশ বলেছে, এই চক্রের মূলহোতা বলে ধরে নেয়া হচ্ছে আকিদুলকে; তার বিরুদ্ধে পূর্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১১টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ অভিযান ও উদ্ধার সামগ্রী
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী জানান, চক্রটির কার্যকলাপ নানা সময়ে নজরে আসে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও তদন্তের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে ফুলদাহ গ্রামে অভিযান চালানো হয় এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ছয়টি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন ফোন এবং মাদকসেবনের সরঞ্জাম।
“'ইলিশ বাড়ি' অ্যাপস এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তারা ভোক্তাদের প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিত; অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় যাচাই-বাছাই করা এবং অগ্রিম টাকা না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলছি,”
ওসি আরও জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অপরাধ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী মামলা করেছে পুলিশ এবং বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে সবাইকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চক্রের কাজের পদ্ধতি ও স্থানীয় প্রভাব
পুলিশকে দেওয়া তথ্যমতে, চক্রটি বিভিন্ন নামে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও অ্যাপসের মাধ্যমে প্রচারণা চালাত—চটকদার ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে ঝটপট তুলে ধরা ‘তরতাজা’ ইলিশ বিক্রির প্রলোভন দেখানো হতো। ক্রেতারা যোগাযোগ করলে ফোনে ওই অ্যাকাউন্টগুলো তাদের কাছে পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অগ্রিম পাঠাতে বলত। টাকা পাওয়া মাত্রই অ্যাকাউন্ট ব্লক করে, গ্রাহকের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিত।
স্থানীয়রা বলছেন এই ধরনের প্রতারণা শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে না, বরং এলাকায় মাদক, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে—কারণ প্রতারণার মাধ্যমে যোগ হওয়া অর্থ বারংবার অপরাধমূলক কাজে ব্যয় হতো বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
- গ্রেফতারকৃত: আকিদুল ইসলাম, আসমাউল শেখ, ইমরান শেখ, তৈয়বুর রহমান, নীরব শেখ।
- উদ্ধারকৃত সামগ্রী: ৬ স্মার্টফোন, ৩ বাটন ফোন, মাদক সেবনের সরঞ্জাম।
- আইনগত ব্যবস্থা: সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অপরাধ আইনে মামলা; আকিদুলের বিরুদ্ধে মাদক মামলাসহ মোট ১১টি মামলা পূর্বে দায়ের ছিল।
কীভাবে প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কমানো যায়
পুলিশি খবর ও অনলাইনের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সাধারণ নীতি অনুসারে, স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ:
- অজানা বা ভেরিফাই না করা পেজ/অ্যাপ থেকে পণ্য কেনার আগে বিক্রেতার পরিচয় ও পেজের সমালোচনা (রিভিউ) যাচাই করুন।
- অগ্রিম টাকা পাঠানো এড়িয়ে চলুন; ক্রয়-বিক্রয় ক্ষেত্রে কোরিয়ার বা ক্যাশ-অন-ডেলিভারি চর্চা থাকলে সে অপশন বিবেচনা করুন।
- সন্দেহজনক লেনদেনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের তালিকাভুক্ত লেনদেনের রসিদ ও চ্যাট লিপি সংরক্ষণ করুন; প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত থানায় অভিযোগ করুন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গ্রেফতার সংখ্যা | ৫ জন |
| উদ্ধার সামগ্রী | ৬ স্মার্টফোন, ৩ বাটন ফোন, মাদক সরঞ্জাম |
| আইনি ব্যবস্থা | সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অপরাধ আইন অনুযায়ী মামলা; মাদক মামলা (আকিদুলের বিরুদ্ধে পূর্বে ১১টি) |
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশে অনলাইনে প্রতারণা প্রতিরোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার দাবি উঠছে। বর্তমানে তদন্ত চলমান; পুলিশ ঘটনার আর্থিক পরিমাণ ও নজিরমূলক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নির্মাণ করছে বলে জানানো হয়েছে।
গ্রাম ও শহর মিলিয়ে অনলাইন বাজার দ্রুত প্রসার পেলেও প্রতারণির সুযোগও বাড়ছে—এজন্য ভোক্তাদের সচেতনতা ও শক্ততর আইনি রেসপন্স অপরিহার্য বলে স্থানীয়দের মতে।