নড়াইলের লোহাগড়ায় অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন দেওয়ান (৭১)। তাঁর অভিযোগ, গত বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলা থেকে মোটরসাইকেলে বের হওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে ধরে মারধর করে রাস্তার পাশে একটি ঘরে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও ব্যাংকের চেকের পাতা দাবি করেন।
ঘটনার সূত্র ও পরিবারের দাবি
নাজিম উদ্দিনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রামচন্দ্রপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান মনি (৫৬), মিরাজ শেখ (৫৮), ইমরান (৪৫) ও আরও অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন। ওই সময় তাঁর মোটরসাইকেলের চাবি ও মুঠোফোনও নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তদন্তকারীর নথিতে আছে। পরে মোবাইল ফোনে তাঁর ছেলে সৌরভ দেওয়ান এবং আত্মীয় হাবিবুল ইসলামের কাছে মুক্তিপণ দাবি পাঠানো হয়।
“পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও ব্যাংকের চেকের পাতা দাবি করেন।”
পরিবারের আরেক দাবি—সৌরভকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মনিরুজ্জামান মনিকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা, পরে ১৪ জুলাই আরও দেড় লাখ টাকা প্রদান করা হয়; মোট দুই দফায় পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হলেও সৌরভকে বিদেশে পাঠানো হয়নি এবং টাকাও ফেরত পাওয়া যায়নি। এ ব্যপারে পরিবারের পর্যবেক্ষণকে ভিত্তি করে ২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।
পুলিশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া
ঘটনার দিন নাজিম উদ্দিনের ছেলে যখন বিষয়টি লোহাগড়া থানায় জানান, ওই থানা পুলিশ, উপপরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডল নেতৃত্বে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুলিশ আটককৃত ব্যক্তিরা কিছুই না করেই মোটরসাইকেলের চাবি ও মুঠোফোন স্বপরিবারে ফেরত দিলেও, অভিযোগ অনুযায়ী তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও দুটি অলিখিত ডেমি দলিল ফেরত দেওয়া হয়নি। পরিবারের আশঙ্কা, সেই কাগজপত্র ব্যবহার করে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা বা বিভ্রান্তিকর নথি তৈরি করা হতে পারে।
- ১২ আগস্ট: বিকেল পাঁচটায় নাজিম উদ্দিনকে অপহরণ ও আটকে রাখার অভিযোগ।
- ১৪ জুলাই ও আগে: পরিবার জানান—মোট দুই দফায় মোট পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
- ২৭ জুলাই: আরেকটি ঘটনার কথা দাবি করা হয়েছে—রাত নয়টায় অভিযুক্তরা বাড়িতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে উল্লেখ আছে।
- ২ আগস্ট: লোহাগড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
- ১৫ আগস্ট: নাজিম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ উত্থাপন করেন।
অভিযুক্তদের অবস্থান ও পুলিশের মন্তব্য
অভিযুক্ত ইমরানসহ অন্যরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “নাজিম উদ্দিনকে অপহরণসহ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক কবিরুল ইসলাম মণ্ডল ঘটনার প্রাথমিক বিচার-বিবেচনায় বলেছেন, টাকা-পয়সা পাওনা নিয়ে নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিরোধ ছিল এবং ঘটনার দিন দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। পুলিশের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় আইনগত কর্মযজ্ঞ চলছে।
| তারিখ | ঘটনা/প্রসংগ |
|---|---|
| ১২ আগস্ট | অপহরণ-আটকের অভিযোগ; পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি |
| ১৪ জুলাই ও তার আগে | পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী দুই দফায় মোট পাঁচ লাখ টাকা প্রদানের দাবি |
| ২ আগস্ট | লোহাগড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) |
| ১৫ আগস্ট | নাজিম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ উত্থাপন |
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে—বিশেষ করে প্রবীণ ও ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয়ে সতর্কতা বাড়ছে। পুলিশ যে তদন্ত করছে এবং যে প্রাথমিক তথ্য তারা দিয়েছে, তা বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে; তবু পরিবারের আশঙ্কা—অলিখিত ও স্বাক্ষরবিহীন ডকুমেন্টের অপব্যবহার—নিয়মিত নজরদারি ও শক্ত ব্যবস্থা দাবি করছে।
ঘটনাসমূহ এখনও চলছে এবং লোহাগড়া থানার শুরু করা অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়ের ও তদন্তের আরও তথ্য পেশ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নড়াইলের স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই ধরনের ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকর্তা পরিবারের সদস্যরা।