পরিবেশ নড়াইল নড়াইল (63)

নড়াইলে নদীতে পাট জাগ: চিত্রা ও নবগঙ্গা আর ব্যবহার উপযোগী নয়

নড়াইলের চিত্রা ও নবগঙ্গা নদীতে গত কয়েক বছরে যত্রতত্র পাট জাগ দেওয়ার ফলে নদীর পানিতে ব্যাপক দূষণ হয়েছে; দেশি মিঠাপানি মাছের প্রজনন বন্ধ হয়ে একাধিক প্রজাতি মাছ লোপ পেয়েছে। কৃষকরা অন্য কোনো বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে নদী জাগ দিচ্ছেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নড়াইলে নদীতে পাট জাগ: চিত্রা ও নবগঙ্গা আর ব্যবহার উপযোগী নয়
©অলংকরণ ঝর্ণা বিশ্বাস / we-news.com

নড়াইল জেলা শহরের প্রাণদ্বয়ের মতো বিবেচিত চিত্রা ও নবগঙ্গা নদী দুটো আজ আগের মতো আর ব্যবহার উপযোগী নেই। নদীর তীরে পাট চাষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা নিয়মিতভাবে নদীতে পাট জাগ দিচ্ছেন; তার ফলে পানির রং কুচকুচে কালো এবং দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে গেছে। ফলশ্রুতিতে দেশি মিঠাপানির মাছের বংশ সংকুচিত বা একেবারে লোপের পথে, বলছেন স্থানীয়রা।

পাট জাগ এবং সমস্যার সূত্র

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, পূর্বে পাট জাগ দেওয়ার জন্য খাল, পুকুর বা নিকটস্থ বিল ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেগুলো ভরাট বা ধ্বংস হওয়ায় এখন পাট জাগ দেওয়ার জন্য অন্য কোনো জায়গা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে নদী ও খালে পাট স্তূপ করে তা পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে। পচা পাটের আঁশ ও জৈব বর্জ্যের কারণে নদীর পানি দ্রুত দূষিত হচ্ছে।

জেলা শহরের নবগঙ্গা ও চিত্রা নদীর তীরে গেলে দেখা যায়—মাছ ধরার নৌকা নেই, জেলেদের জালও নেই। যে নদী এককালীন কাচের মতো স্বচ্ছ ছিল, তা এখন কুচকুচে ও দুর্গন্ধযুক্ত; স্থানীয়রা বলছেন এটি ব্যবহার উপযোগী নয়।

জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যর ওপর প্রভাব

স্থানীয়রা বিভিন্ন দেশি মিঠাপানি মাছের নাম উল্লেখ করেছেন—চিংড়ি, রিঠা, চেলেন্দা, চাপিলা, টাটকিনি, পদ্মা বাউশ, ভেটকি, বাতাসী, বাচা, সরপুঁটি, পাবদা, বোয়াল, আড়, চিতল, রুই ও কাতলা। তাদের দাবি, এই মাছগুলো এখন নদী থেকে একেবারেই হারিয়ে গেছে বা অত্যন্ত কম পাওয়া যায়। মাছের প্রজনন বন্ধ হওয়ার মূল কারণ হিসেবে তারা পচা পানির কারণে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়াকে উল্লেখ করেছেন।

“পানি নষ্ট হচ্ছে জেনেও বাধ্য হয়ে আমরা নদীতে পাট জাগ দিচ্ছি; আশপাশে পাট জাগ দেওয়ার মতো অন্য কোনো পানির ব্যবস্থা নেই,”

আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে তলনিকে স্রোতের অভাব। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজান থেকে পানি আসা কমে যাওয়ায় নদীগুলোই নাব্যতা হারিয়েছে এবং অগভীর হয়ে পড়েছে। ফলে পচা পাটের প্রভাব খুব দ্রুত দেখা দিচ্ছে।

কখন সবচে esরীকারি—বছরের কোন সময়?

স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার মাস নদীর মিঠাপানি মারাত্মকভাবে দূষিত থাকে। দীর্ঘদিন এই দূষণ চলার ফলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়।

সময়কাল প্রভাব
জুন–সেপ্টেম্বর শীর্ষ স্তরে দূষণ, মাছের প্রজনন ব্যাহত

কৃষকের চাপ ও ফরোয়াড লজিক

কৃষকেরা জানাচ্ছেন, বিলে বা ডাঙায় পাট জাগ দিলে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে এবং আঁশের মান কমে। নদীতে জাগ দিলে আঁশের রং ও মান ভালো হওয়ায় আর্থিক কারণে তারা নদীব্যবহারই বেছে নিচ্ছেন। অর্থাৎ পরিবেশগত ক্ষতির সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনজীবিকা লিঙ্ক থাকা অবস্থায় তারা বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ হারাচ্ছেন।

  • পরিবেশগত ক্ষতি: পানিতে জৈব দূষণ ও দুর্গন্ধ, অক্সিজেন কমে যাওয়া।
  • জীববৈচিত্র্য হারানো: দেশি মিঠাপানি মাছের বংশ বিপন্ন বা লোপপ্রায়।
  • সামাজিক প্রভাব: জেলে ও মাছ ধরার পেশার লোকদের আয় কমে যাওয়া, গ্রামীণ পরিবেশে পরিবর্তন।

প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ও বিষয়টির জটিলতা

জেলা প্রশাসন ঘটনার কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে যে এই সংকট কাটাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কী ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে—বিকল্প স্থাপনা তৈরি, পরিবহন ভর্তুকি, নিষেধাজ্ঞা বা বাস্তবায়ন—সেগুলি সংক্রান্ত বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এক্ষেত্রে কয়েকটি বাস্তবসম্মত ও জরুরি পদক্ষেপ সম্পর্কে স্থানীয়রা এবং পরিবেশকর্মীরা আলোচনা করেছেন যে তা দ্রুত নেওয়া দরকার—পাট জাগ দেওয়ার জন্য বিকল্প স্থাপনা তৈরি, নদী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, স্থানীয় কৃষকদের আর্থিক সহায়তা বা ভর্তুকি ও সচেতনতা বৃদ্ধি।

কীভাবে এগোবেন স্থানীয়রা?

স্থানীয়রা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, মৎস্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। নদীর দূষণ বন্ধ না হলে শুধুমাত্র মাছই নয়, পুকুর-খাল ও পানীয় জলের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়বে—এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি।

ছোট পরিবর্তনগুলোই দ্রুত ফল দিতে পারে—পাট জাগের জন্য নির্দিষ্ট অভিন্ন স্থাপনা, নিষ্কাশন ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস ও জাগ-স্থল পরিবহন ভর্তুকি। যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে এমন দাবি করা হচ্ছে।

নদী সামলানো ও পুনরুদ্ধারের কাজ সময়সাপেক্ষ; তবু দ্রুত নিয়ম-কানুন প্রণয়ন, বিকল্প ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া চিত্রা ও নবগঙ্গার হারিয়ে যাওয়া রূপ ফিরিয়ে আনা কঠিন।

ঝর্ণা বিশ্বাস
ঝর্ণা এআই পরিবেশ সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ঝর্ণা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

63নড়াইল

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো নড়াইল, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব