নড়াইল, কালিয়া: নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীতে গোসল করতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নিখোঁজ হওয়া রিয়াদুল ইসলাম (৮) নামে এক শিশুর মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কাজিবাছা নদী থেকে স্থানীয়রা নদীতে ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন এবং পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও পরিবারের আচরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রিয়াদুল ইসলাম কালিয়া উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের সাবেক শিমুল মোল্যার ছেলে। ঘটনার দিন মঙ্গলবার নয়—গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটি নবগঙ্গা নদীতে গোসল করতে নামে এবং এরপর আর ফিরে আসে না। ওই পরিবারের লোকজন শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিষয়টি জানিয়ে কালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
মরদেহ উদ্ধারের সময় ও স্থান
Saturday দুপুর ও বিকেলের সময়ে নয়—সন্ধ্যার আগেই খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কাজিবাছা নদীতে স্থানীয়রা শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ সংবাদপ্রাপ্ত মুহূর্তে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে এবং পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট থানা সূত্র জানায়।
“মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট থানা আইনগত ব্যবস্থা নেবে,”
কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলীর বরাত দিয়ে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
নদীমুখের এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ছোট শিশু নদীতে সাঁতার কাটা বা গোসল করার সময় পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান না থাকাকে তারা দায়ী করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, বহু পরিবার তাদের ছোটদের নিয়ে নদীতীরে সময় কাটাতে যান এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় ঘটনা ঘটছে। পরিবারের লোকজন এখনও শোকে আবদ্ধ ও ঘটনার প্রাক্কালে ঘটকের বিশেষ তথ্য জানায়নি।
- নিখোঁজ তারিখ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট (বেলা ১১টার দিকে)
- ডায়েরি: পরিবার শুক্রবার, ২১ আগস্ট কালিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন
- মরদেহ উদ্ধারের তারিখ ও স্থান: শনিবার, ২২ আগস্ট বিকেল — খুলনা বটিয়াঘাটা উপজেলার কাজিবাছা নদী
তদন্ত প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ওসি ইদ্রিস আলী জানিয়েছে, পুলিশ ঘটনার বিস্তৃত তদন্ত করবে এবং তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় ময়নাতদন্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টতা আনাই হয়নি; ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের সম্মতিতে ও স্থানীয় অভিমত অনুযায়ী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নদীপথে শিশুদের নিরাপত্তা: স্থানীয় বাস্তবতা
নদী-নালায় ছোটদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান না থাকায় খেলাধুলা বা গোসল করতে নেমে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এলাকাবাসী বলছে, ঋতু এবং ছুটির সময় শিশুদের নদীতীরের ভিড় বেড়ে যায় এবং বহু পরিবারেই বাচ্চাদের উপর পর্যাপ্ত নজরদারি করা হয় না।
এই ধরনের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকর্মীদের পক্ষ থেকে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে—বিশেষ করে শৈশবকালের বেসরকারি নিরাপত্তা বিষয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা স্থানীয়দের সঙ্গে আরও ঘনিষ্টভাবে কাজ করবে যাতে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
টেকনিশিয়ান ও আইনগত দিক
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| নিখোঁজের তারিখ | ২০ আগস্ট |
| ডায়েরি দায়ের | ২১ আগস্ট, কালিয়া থানা |
| মরদেহ উদ্ধার | ২২ আগস্ট, কাজিবাছা নদী (বটিয়াঘাটা) |
| পুলিশ বক্তব্য | তদন্ত চলছে; পরিবারকে জানানো হয়েছে |
ঘটনার পরবর্তী আইনি কাগজপত্র ও ময়নাতদন্ত সংক্রান্ত তথ্য পুলিশ বা পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম তা অনুসরণ করবে।
এদিকে, স্থানীয়দের দাবি—নদীতে গোসল ও শিশুরা খেলাধুলা করার জায়গাগুলো নিরাপদ করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা দরকার। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা কর্মসূচি, তাত্ক্ষণিক সহায়তা এবং তল্লাশির সুসংহত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।