বাংলাদেশ নড়াইল সদর নড়াইল (63)

২০ শতকে ২৬০ গাছ: নড়াইলে ননীফল চাষ করে মাসে আয় এক লাখ—রবিউলের গল্প

নড়াইল সদর উপজেলার ধাড়ীয়াঘাটার যুবক রবিউল ইসলাম ২০২১ সালে ২০ শতক জমিতে ননীফল লাগিয়ে এখন সংসার ও এলাকায় আশার আলো দেখাচ্ছেন। কম খরচে পরিচর্যা ও ভালো বাজারজাতকরণের ফলে মাসে আয় করছেন প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা।

২০ শতকে ২৬০ গাছ: নড়াইলে ননীফল চাষ করে মাসে আয় এক লাখ—রবিউলের গল্প
©অলংকরণ সাবরিনা হক / we-news.com

নড়াইল সদর উপজেলার ধাড়ীয়াঘাটা গ্রামের কৃষি উদ্যোগী রবিউল ইসলাম ননীফল চাষ করে স্থানীয়ভাবে ও নিজের পরিবারের জীবিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। ২০২১ সালে তিনি ভারত থেকে ননী ফলের সারিগুলো এনে বাড়ির পাশে ২০ শতক জমিতে বাগান গড়ে তুলেন। বর্তমানে ওই বাগানে আছে প্রায় ২৬০টি গাছ, যার আনুমানিক মূল্য স্থানীয় হিসেবে বলা হচ্ছে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা.

রবিউলের আয় ও চাষপ্রণালী

সূত্র জানায়, রবিউল তার বাগান থেকে প্রতি মাসে আনুমানিক এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করছেন। তিনি আফ্রিকান ও ইন্ডিয়ান—উভয় জাতের ননী ফল চাষ করছেন এবং স্থানীয় বাজার ও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। কম খরচে পরিচর্যা এবং উপযোগী বাজারজাতকরণ তার আয়কে বাড়িয়েছে বলে এলাকাবাসী ও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন।

  • বাগানের পরিমাণ: ২০ শতক জমি
  • গাছের সংখ্যা: ২৬০ টির কাছাকাছি
  • আনুমানিক মূল্য: ২০–২২ লাখ টাকার সমমূল্য
  • মাসিক আয়: প্রায় ১–১.৫ লাখ টাকা

কেন জনপ্রিয় ননীফল?

ননী ফলকে ঔষধি গুণসম্পন্ন বলা হয়। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ননী কিছু রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করছেন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফসলের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের হওয়ায় তরুণ কৃষকদের মধ্যে এই ফসলটি বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

“উচ্চমূল্যের এই ফল চাষে তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। তাই প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বাজারজাতকরণে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”

এছাড়া নড়াইল সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান সূত্রে জানানো হয়েছে,

“ক্যান্সার প্রতিষেধকসহ শরীরে ইমিউনিটি বাড়ানোর কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখে ননী ফল। কম খরচ, ভালো দাম আর সম্ভাবনাময় বাজার—সব মিলিয়ে ননী ফলের বাণিজ্যিক চাষ হয়ে উঠছে লাভজনক একটি উদ্যোগ।”

স্থানীয় প্রভাব ও চাহিদা

রবিউলের সফলতার খবরে তার গ্রামের তরুণরা ননী ফল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, চিকিৎসাগত গুণের পাশাপাশি বাজারজাতকরণ সহজ হলে এ ফসল অনেক পরিবারে আয়সংস্থান করে দিতে পারে। কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত—দুই ভাবে চাহিদা বাড়ছে বলে জানা যায়।

চ্যালেঞ্জ ও সহায়তা

তবে চাষ বাড়াতে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। সঠিক প্রযুক্তি, বপন প্রক্রিয়া, রোগ-নিয়ন্ত্রণ এবং স্থিতিশীল বাজার দর স্থাপন না হলে নতুন চাষিরা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কৃষি বিভাগ সূত্রে বলা হয়েছে, তারা প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বাজারজাতকরণে উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে—তবে এর ব্যাপকতা বাড়াতে কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বর্ণনা তথ্য
জমি ২০ শতক
গাছ ২৬০টি (আনুমানিক)
আনুমানিক মূল্য ২০–২২ লাখ টাকা
মাসিক আয় প্রায় ১–১.৫ লাখ টাকা

নিষ্কর্ষ

নড়াইলের এই ছোট উদ্যোগটি দেখায়, সঠিক পরিকল্পনা ও কৃষি বিভাগীয় সহায়তা থাকলে সীমিত জমিও লাভজনক বাণিজ্যিক উদ্যোগে পরিণত হতে পারে। রবিউলের গল্প অন্য তরুণদেরও নতুন ধাঁচে কৃষি উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ করছে। ভবিষ্যতে বাজারজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের সম্ভাব্যতা নিয়ে কাজ করলে এই সেক্টরটি জেলায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

কীভাবে আগ্রহী হলে যোগাযোগ করবেন

স্থানীয় কৃষি বিভাগে যোগাযোগ করে ননীফল চাষের বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। আগ্রহীদের জন্য কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও বাজার সংযুক্তির সুযোগ রয়েছে।

সাবরিনা হক
সাবরিনা এআই বাংলাদেশ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি সাবরিনা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

63নড়াইল

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো নড়াইল, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব