নড়াইল সদর উপজেলার দুইটি দাখিল মাদ্রাসার এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি—এ সংবাদ জেলা শিক্ষা পরিমণ্ডলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রথম প্রতিষ্ঠানটি হলো তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী দাখিল মাদ্রাসা, যেখানে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ১৮ এবং শিক্ষক ছিলেন ১৭; আর দ্বিতীয়টি সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে কার্যত বন্ধের পথে থাকা আফরা দাখিল মাদ্রাসা, যেখানে এ বছরও পাসের হার শূন্য রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা ও সার্বিক ফলের পটভূমি
যশোর বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী নড়াইল জেলা থেকে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৮ হাজার ২৬২ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। জেলায় মোট ৪০৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যার মধ্যে সাধারণ বোর্ডে ৩৭০, মাদ্রাসা বোর্ডে ১৬ এবং কারিগরি বোর্ডে ১৮ জন। মোট ১৮৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেবল এই দুটি দাখিল মাদ্রাসাতেই শূন্য পাস রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের পরিস্থিতি
পেড়লী দাখিল মাদ্রাসা ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৯৩ সালে এমপিওভুক্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ২৫০ ছাত্রছাত্রী ও ১৭ শিক্ষক রয়েছেন। প্রতিবেদক মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেন, সেখানে পাঠদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। মাদ্রাসার সুপার আশরাফুল জামান ফলপ্রকাশ জনিত বিপর্যয়ের বিষয়ে বলেন প্রতিষ্ঠানীয় সমাবেশ ও খাতা পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে সমস্যা নির্ণয় করা হবে।
“অন্যান্য বছর ফল ভালো হলেও এবার খুবই খারাপ হয়েছে… যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফলে সন্দেহ আছে, তাদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন করা হবে,”
দুই মাদ্রাসার পরিস্থিতি ও ফল দেখে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পেড়লী মাদ্রাসার একজন শিক্ষার্থী তুষ্মি খানম বলেছেন তিনি প্রাথমিক সমাপনীতে বৃত্তিযোগ্য ছিলেন এবং ক্লাসে প্রথম সারির শিক্ষার্থী; অথচ এবার অকৃতকার্য দেখায় তিনি হতবাক। এক অভিভাবক রুমা বেগমও তার মেয়ের পরীক্ষার ফল সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন।
- পেড়লী দাখিল মাদ্রাসা: ১৮ পরীক্ষার্থী—রেজাল্ট: শূন্য পাস
- আফরা দাখিল মাদ্রাসা: ভবন জরাজীর্ণ, কার্যত প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনিশ্চয়তা—রেজাল্ট: শূন্য পাস
- নড়াইল জেলায় মোট পরীক্ষার্থী: ৮,২৬২; জিপিএ-৫: ৪০৪
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পেড়লী মাদ্রাসার সুপার আশরাফুল জামান বলছেন খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন পুনঃনিরীক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। অন্যদিকে আফরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আতিকুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন থেকে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত সংকটে—এমপিওভুক্ত নয় বলে মাদ্রাসাটির কার্যক্রম সমানভাবে সচল নয়। প্রতিবেদকের দেখা অনুযায়ী আফরা মাদ্রাসার ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে এবং সেখানে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল না।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ তুলেছেন—পরীক্ষা শেষে মেধার খাতায় অকৃতকার্য দেখানো হলে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তারা খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বচ্ছ তদন্ত ও ফলাফলের যৌক্তিক ব্যাখ্যা চাচ্ছেন। স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান।
| বিষয় | সংখ্যা/অবস্থা |
|---|---|
| মোট পরীক্ষার্থী (নড়াইল জেলা) | ৮,২৬২ |
| জিপিএ-৫ প্রাপ্ত | ৪০৪ |
| পাশ হয়নি এমন প্রতিষ্ঠান | পেড়লী দাখিল, আফরা দাখিল |
এই ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও অভিভাবকদের মধ্যে অস্থিরতা রয়েছে। আগামী দিনে খাতা পুনর্নিরীক্ষণ ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ কী সিদ্ধান্ত দেয়, সেটাই প্রাথমিকভাবে নির্ধারণী হবে যে শূন্য পাসের পেছনে অসাধুতা আছে নাকি প্রশাসনিক বা মূল্যায়নগত কোনো ভুল।