গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আক্তাপাড়া গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা মেনোকার (৬০) মৃত্যুর পরও তার দাফন সম্পন্ন হয়নি। মৃতার স্বজনেরা ঘরের বারান্দায় মরদেহ রেখে রাতভর সমাধানের জন্য অপেক্ষা করেছেন এবং সালিসি বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ না হওয়ায় বাড়ির উঠানেই কবর খননের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
স্থানীয়রা জানান, মেনোকার স্বামী গোপাল বহু বছর ধরে আক্তাপাড়া গ্রামে এক শতাংশ জমি ক্রয়ে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন। প্রায় এক বছর আগে পার্শ্ববর্তী ছফর উদ্দিনের কাছ থেকে আরও এক শতাংশ জমি ক্রয় হয়। কিন্তু মিউটেশন বা ভূমি নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জমিটি রেজিস্ট্রি করা যায়নি—পরিবারের দাবি অনুযায়ী জমির মূল্যের পরিশোধ করা হয় এবং জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও রয়েছে।
জমি বিক্রির বিষয়টি এখন বিক্রেতা ছফর উদ্দিন অস্বীকার করায় বাড়ির পাশে কবর খননে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও থানা-পুলিশ উপস্থিত থেকে দিনভর সালিসি বৈঠক চালালেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলত মেনোকার মরদেহ বারান্দায় রাখা হয় এবং রাতভর স্বজনেরা পাহারা দিয়েছেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য
“এক শতাংশ জমি কেনা হয়েছিল এই আশায় যে মারা গেলে ঘরের পাশে মাটি দেওয়া যাবে। কিন্তু এখন সেই আশাও পূরণ হচ্ছে না। কবর খনন করতে গেলে ছফর উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে বাধা দেন,”
মেনোকার ভাই নিধারণ ওই অভিযোগ করেন এবং বলেন যে স্থানীয় নেতারা বহুবার সালিস করেছেন, তবু ফল মেলেনি।
“আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে পাচ্ছি না। আমরা নিচু জাতের মানুষ বলে মায়ের মরদেহ উঠানে পড়ে রয়েছে। আমরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি,”
মেনোকার ছেলে সুনিল সংবাদকালে জানান যে তারা সামাজিক অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় জাগরুক অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় প্রক্রিয়া ও বাধা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরে কয়েক দফা সালিসি বৈঠক আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমানে দায়িত্বরত মেম্বার ও থানা-পুলিশ। কিন্তু বনিবনা হওয়ার আগেই পরকীয়া বা জমি-বিক্রির ঐ ব্যাপারে সন্তোষজনক নথি নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করা হয়েছে—এটাই আলোচ্য সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু।
- মৃতকের পরিচিতি: মেনোকা, বয়স ৬০, মান্দাই ধর্মাবলম্বী।
- ঘটনাস্থল: আক্তাপাড়া গ্রাম, মাওনা ইউনিয়ন, শ্রীপুর, গাজীপুর।
- সংঘাতের বিষয়: মোটামুটি ২ একর জমির ক্রয়-বিক্রয় ও রেজিস্ট্রেশন জটিলতা—একাংশ দখল বা স্বত্ববিরোধ।
- প্রয়াস: স্থানীয় সালিস ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, তবে সমাধান মেলেনি।
কোন তথ্য টেবিলে দেখুন
| বিষয় | বর্ণনা |
|---|---|
| মৃতের নাম | মেনোকা (৬০) |
| স্থান | আক্তাপাড়া গ্রাম, মাওনা ইউনিয়ন, শ্রীপুর |
| বিরোধের কেন্দ্র | জমি (প্রায় ২ একর মোট); রেজিস্ট্রেশনের জটিলতা |
| সোর্স অব বিরোধ | বিক্রেতা ছফর উদ্দিন এখন বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করছেন |
সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রশ্ন
এই ঘটনার মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে—কিভাবে নথিভুক্তি বিহীন জমি-লেনদেন সমাজে বিরোধের সৃষ্টি করে, সালিস প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন মানবিক সংকটে কীভাবে দ্রুত তাৎপর্যপূর্ণ সমাধান দিতে পারে। দাফন ও ধর্মীয় রীতি সম্পাদনের অধিকার ব্যক্তিগত ও পরিবারের জন্য মৌলিক; তাতে বিঘ্ন ঘটলে মানসিক ও সামাজিক আঘাত ঘটে।
স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিদের বারবার আলোচনা করার পরও সমাধান না পাওয়া ও পরিবার যখন নিজেদের উঠানেই কবর খননের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—তার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং গণ্যমান্যরা দ্রুত বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে, প্রয়োজন হলে অস্থায়ীভাবে দাফনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ নেয়ার দাবি উঠেছে।
এ ঘটনার পরবর্তী প্রক্রিয়া ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গেলে তা দ্রুত পাঠককে জানানো হবে।
শাহনাজ পারভীন, গাজীপুর প্রতিনিধি