পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপি—র এক কর্মকর্তার নির্বাহী সিদ্ধান্তে পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন বিএনপি-র সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল খালেক-কে দলীয় সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে ঘুষ দাবির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত ১০ আগস্ট এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযোগ ওঠার সূত্র ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনাটি কেন্দ্র করে অভিযোগ করেছেন মোলানীপাড়া জামে মসজিদের মুঈন বা মুয়াজ্জিন মো. হাসনুর রশিদ। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হলে তিনি মসজিদ কমিটির সঙ্গে তার নাম তালিকাভুক্তির জন্য আলোচনা করেন এবং কমিটি নাম পাঠানোর আশ্বাস দেয়।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, মসজিদের দুই মুসল্লি— মো. আব্দুল খালেক ও মো. আইবুল হক প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে দরায় তা কমিয়ে বলা হয় ১০ হাজার টাকা দিলেই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে তালিকাভুক্ত করা হবে না বলে জানানো হয়।
অভিযোগপূর্ণ ঘটনার এক পর্যায়ে রাত আনুমানিক ১টা৯ মিনিটে অভিযুক্ত নেতা আব্দুল খালেকের ছেলে সাজ্জাদুর রহমান আকাশসহ কয়েকজন হাসনুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে মসজিদের চাবি ফেরত চান—এমনটিও অভিযোগে উল্লেখ আছে। পরে হাসনুর জানতে পারেন, তার নাম বাদ দিয়ে অন্য তিনজনকে তালিকাভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে।
তদন্ত ও দলীয় সিদ্ধান্ত
ঘটনার পর প্রতিকার চেয়ে গত ৭ আগস্ট হাসনুর রশিদ رسمیভাবে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করেন।
তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় উপজেলা বিএনপি ১০ আগস্ট থেকে আব্দুল খালেককে সব সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সিদ্ধান্তটি পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বাবু স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, "পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলীয় সব কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো" এবং সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদানের সরকারি উদ্যোগ নেয়া হওয়ায় নাম তালিকাভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। অভিযোগে ওঠা ঘুষ দাবি স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে—এমন আশঙ্কা এলাকাবাসীর মধ্যে আছে। অভিযোগকারী হাসনুর রশিদ নিজেকে দীর্ঘদিনের দলের পরিবারভুক্ত সদস্য ও দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবার আবেদন করেছেন।
উপজেলা বিএনপির পদক্ষেপ অভিযোগ তদন্তের খোলনলগ্ন স্বীকৃতি যদিও তা দলের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ধরা হবে, তবে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা এড়াতে অভিযোগের চুড়ান্ত অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় জবাবদিহি দাবি করা হচ্ছে।
কী হবে পরবর্তী পদক্ষেপ
চিঠিতে বলা হয়েছে সাময়িক অব্যাহতির নির্দেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রযোজ্য। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত ফলাফল এবং আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কিভাবে গ্রহণ হবে—এ বিষয়ে দলীয় উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত হওয়া বাকি।
- অভিযোগ দায়ের: ৭ আগস্ট — লিখিত অভিযোগ পঞ্চগড় জেলা/উপজেলা বিএনপিতে
- দলীয় সিদ্ধান্ত: ১০ আগস্ট — আব্দুল খালেককে সাময়িকভাবে অব্যাহতি
- জরিমানা/চূড়ান্ত ব্যবস্থা: দলীয় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের পর নির্ধারিত হবে
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৭ আগস্ট | মো. হাসনুর রশিদ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন |
| ১০ আগস্ট | উপজেলা বিএনপি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সাময়িক অব্যাহতি ঘোষণা করে |
এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত বিকাশকারী বা প্রবাসী কোনো তদবিরের উল্লেখ নেই; অভিযোগ অনুসন্ধান এখনো চলছে এবং দলীয় সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্টরা এর প্রতিক্রিয়া জানাবেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ইস্যুটি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলেও সামাজিক আস্থার ক্ষতি সম্পর্কে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পঞ্চগড় সদর ইউনিয়ন, মোলানীপাড়া এলাকা এবং মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা/উপজেলা বিএনপির সিদ্ধান্তের পরও স্থানীয় পর্যায়ে সম্পর্কিত পক্ষগুলোর অনাগত প্রতিক্রিয়া গুরুত্ব বহন করে।