সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
টানা তিনদিন বন্ধ থাকার পর হবিগঞ্জ জেলার শিল্পাঞ্চলের গ্যাস সরবরাহ শনিবার থেকে আবারও কার্যকর হয়েছে। জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেড জানিয়েছে যে জেলার ছোট-বড় ১৭১টি শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ এখন মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে। ফলে কয়েক দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় যে বিরূপ প্রভাব তৈরি হয়েছিল তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে ও কারখানাগুলো আবার ক্রমিকভাবে উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কেন সমস্যাটি তৈরি হয়েছিল
জালালাবাদ গ্যাসের কর্মকর্তা ও শিল্পখাতের সঙ্গে কথা বললে জানা গেছে, গ্যাস সংকট চলছিল প্রায় ২০ দিন ধরে। সংকট শুরুতে ছিল চাহিদার তুলনায় গ্যাসের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত। কম চাপ থাকা অবস্থায় অনেক কারখানা সীমিত পরিসরে তবু কোনোভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু গত বুধবার থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে কিছুদিন কারখানায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্নভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে জেলার প্রায় সব কটি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ঠাঁই পায়।
কর্তৃপক্ষ ও শিল্পপতিদের বক্তব্য
"হবিগঞ্জ লাইনে এখন গ্যাসের সরবরাহ মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে। আশা করি, অব্যাহত থাকবে, যদি এলএনজি সরবরাহ ঠিক থাকে,"
— জালালাবাদ গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন-দক্ষিণ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
"শনিবার সকাল থেকেই হবিগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোর লাইনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। সরবরাহ অব্যাহত থাকলে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো ধাপে ধাপে উৎপাদনে ফিরতে পারবে,"
— জালালাবাদ গ্যাসের শাহজিবাজার ব্যবস্থাপক খালেদ গনি।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদেরও একই সুর। পাইওনিয়ার ডেনিম লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাব্বি জানান যে শনিবার থেকে তাদের কারখানায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে এবং মেশিন চালু করে উৎপাদন স্বাভাবিক করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সায়হাম স্পিনিং মিলসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিয়াকত হোসাইনও বলেছেন, সকাল থেকেই তাদের কারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, যদিও কয়েকদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় ক্ষতি হয়েছে।
প্রভাব ও উদ্বেগ
গ্যাস অকেজো থাকার কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকা কয়েকটি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কর্মস্থলে বসিয়ে রাখা হয় এবং অন্যত্র তাদের ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের মধ্যে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া গ্যাসের অভাবে অনেক কারখানার ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ভিন্ন মাত্রার সংকট দেখা দেয়। ফলে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই বড় অঙ্কের উৎপাদন ও রপ্তানি আয়ের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন এবং কয়েকটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের ক্রয়াদেশ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তাও দেখা দিয়েছিল।
- সময়কাল: গ্যাস সংকট চলছিল প্রায় ২০ দিন, গত বুধবার থেকে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
- প্রভাবিত কারখানা: জেলার ১৭১টি ছোট-বড় শিল্পকারখানা সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে।
- বর্তমান অবস্থা: শনিবার থেকে গ্যাস সরবরাহ মোটামুটি ভালো, ধাপে ধাপে উৎপাদন পুনরারম্ভের প্রস্তুতি চলছে।
তথ্যসূত্র ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ সরবরাহ স্বাভাবিকতার খবর দেয়া সত্বেও তারা শর্ত দিয়েছেন যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে যদি এলএনজি সরবরাহ ঠিক থাকে। অর্থাৎ জ্বালানির ভিন্ন কোনো অনিশ্চয়তা থাকলে আবারও একই রকম সংকট দেখা দিতে পারে। এছাড়া উৎপাদন বন্ধ থাকার সময় যে আর্থিক চাপ—বেতন, বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ—করতে হয়েছে, তা পুনরায় স্থিতিশীল করতেও সময় লাগবে; মালিক ও শ্রমিক উভয়েরই ক্ষতি নিরসনে পরিকল্পনা দরকার।
| সূচক | বর্ণনা |
|---|---|
| প্রভাবিত কারখানা | ১৭১টি ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান |
| সঙ্কটের দৈর্ঘ্য | প্রায় ২০ দিন ক্ষীণ সরবরাহ; গত ৩ দিন মোট বন্ধ |
| বর্তমান অবস্থা | শনিবার থেকে গ্যাস সরবরাহ মোটামুটি ভালো |
জেলার ছোট-বড় শিল্পখাত দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারলে শ্রমিকদের কর্মসংস্করণ রক্ষা ও রপ্তানি চাহিদা পূরণে সুবিধা হবে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য জ্বালানি সরবরাহের নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।