হবিগঞ্জ জেলা শিল্প ক্ষেত্র দ্রুত সংকটাচৃত হচ্ছে। গত ২০ দিন ধরে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে জেলার গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে জেলা জুড়ে মোট ১৭১টি শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং প্রায় ১,৫০,০০০ (দেড় লাখ) শ্রমিক-কর্মকর্তা বর্তমানে অলস সময় কাটাচ্ছেন—স্থানীয় ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলি এ তথ্য জানিয়েছে।
কারখানায় বন্ধের কারণ ও প্রভাব
কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার পেছনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গ্যাস বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত একটা প্রধান কারণ। জেলা শিল্পাঞ্চলের কিছু কলকারখানা—বিশেষত রপ্তানিমুখী উৎপাদন—পুরোপুরি গ্যাসভিত্তিক। সেগুলোতে গ্যাস না থাকায় উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
"আমাদের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ২০ মেগাওয়াট। কিন্তু বুধবার বিকেল ৩টা থেকে সরবরাহ শূন্য। একেবারে শাটডাউন করে দেওয়া হয়েছে। এখন কারখানায় কাজ করা তিন হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।"
জেলার বিভিন্ন শিল্পপার্ক ও বড় প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন বন্ধ থাকায় দৈনিক ক্ষতি কোটি টাকার ঘরে পৌঁছাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষতি হচ্ছে রপ্তানি আয় থেকে; ফলে বর্ষায় রপ্তানি চেইনেও প্রভাব পড়তে পারে।
কোন প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা প্রভাবিত
প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবেদনে মোটকথা যেসব নোট উল্লেখ করা হয়েছে:
- রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো—বস্ত্র, স্পিনিং, ফেব্রিক্স সহ—পুরোপুরি বন্ধ;
- টায়ার ও কয়েকটি পাওয়ার প্ল্যান্টটিকে কেবলমাত্র সীমিত বা স্থগিত রাখা হয়েছে;
- শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও কাজের অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে;
- বৃহত্তর ক্ষতি প্রতিদিনের ভিত্তিতে শত কোটি টাকারও ওপরে হতে পারে বলে অংশেক সংগঠিত হিসাব উঠে এসেছে।
যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) আবুল হোসেন জানান, পার্কে ছয়টি ইউনিটের মধ্যে কয়েকটি ইউনিট রপ্তানিমুখী এবং গ্যাসহীন থাকায় সেগুলোই এখন বন্ধ। অন্য এক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের কথায়, "আমাদের দৈনিক ৩০ মেগাওয়াট গ্যাসের চাহিদা। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ কম ছিল। এক তৃতীয়াংশ বা এক চতুর্থাংশ পাওয়া যেত। বুধবার দুপুর থেকে গ্যাস সরবরাহ একেবারেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।"
| বিষয় | হিসাব |
|---|---|
| প্রভাবিত কারখানা | ১৭১ |
| প্রভাবিত শ্রমিক/কর্মকর্তা | ১,৫০,০০০+ |
| প্রতিদিন আনুমানিক ক্ষতি | কোটি-শতকোটি টাকার স্তরে (সংস্থাগুলো হিসাব দিচ্ছে) |
শ্রমিক ও কোম্পানির বক্তব্য
বিভিন্ন কারখানার সূত্রে জানা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ছাঁটাই না করলেও কার্যত বাড়তি ছুটির মাধ্যমে কর্মী উপস্থিতি সীমিত রাখছে; অন্যরা আংশিক বেতন নিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করছে। বাদশা পাইওনিয়ারের এক মহাব্যবস্থাপক জানান, তাদের কারখানার দৈনিক অনুমোদিত গ্যাসের চাহিদা ছিল ১৩.৬ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ কিছুদিন ধরে মাত্র ৩ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করছিল—যা দিয়ে উৎপাদন করা প্রায় অসম্ভব।
স্থানীয় শিল্প প্রতিনিধিরা দাবি করছেন, গ্যাস সরবরাহ পুনর্বহাল না হলে আন্তর্জাতিক অর্ডার বাতিল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে শ্রম বাজার ও রপ্তানি সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কেন দ্রুত সমাধান জরুরি
অর্থনীতিক ও সামাজিক দিক বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে—গ্যাস সংকট ঝটপট সামাল না দিলে:
- রপ্তানির আয় হ্রাস পাবে, জেলার অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে;
- শ্রমিকদের আয়-সূত্র থেমে গেলে ভোক্তা দাবি হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় ব্যবসা চেইনে প্রভাব পড়বে;
- দীর্ঘমেয়াদে শিল্প বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
এ মুহূর্তে জেলা প্রশাসন, গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প মালিকদের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সংবাদ সংগ্রহের সময় লক্ষ্য করা যায়নি।ffected
হবিগঞ্জের শিল্প ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তার প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় রপ্তানিতেও চাপ বাড়াবে—কাজেই দ্রুত সমাধান দাবী করছে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক উভয় পক্ষই।