শ্রীপুর স্টেশনে ইঞ্জিন বিকল — যোগাযোগে বিঘ্ন
গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ঢাকাগামী বলাকা কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে শতাধিক যাত্রী কয়েক ঘণ্টা আটকে পড়েন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা-এর দিকে স্টেশনে প্রবেশের পর ট্রেনটির ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সেটি আর এগোতে পারেনি।
শ্রীপুর স্টেশনে আটকে থাকা যাত্রীরা ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঘটনার তথ্য রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পরে বিকল্প ইঞ্জিন পাঠিয়ে ট্রেনটি গন্তব্যের দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা করা হয়।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও স্টেশন মাস্টারের বক্তব্য
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ কেউ বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যে বেরিয়ে পড়লেও অনেকেই ট্রেনেই আটকে ছিলেন। জারিয়াগামী এক যাত্রী আ. রহিম বলেন:
“সকালে ঢাকা থেকে ট্রেনে উঠেছি। যাব জারিয়া। শ্রীপুরে এসে ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে আটকা পড়েছি। ট্রেনে অনেক যাত্রী আটকা পড়েছেন। কখন বাড়ি ফিরতে পারব জানি না।”
শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শামীমা জাহান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
“সকালে ৮টার দিকে বলাকা কমিউটার ট্রেনটি শ্রীপুর স্টেশনে প্রবেশ করে। পরে ট্রেনটির ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে ট্রেনটি আটকা পড়ে। বিষয়টি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিকল্প ইঞ্জিন এসে ট্রেনটিকে গন্তব্যে নিয়ে যাবে।”
ঘটনার সময়রেখা ও পরবর্তী পরিস্থিতি
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা নিম্নরূপ:
- সকাল ৮:00 — ঢাকা থেকে আসা বলাকা কমিউটার ট্রেন শ্রীপুর স্টেশনে প্রবেশ করে।
- প্রবেশের পর কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেনটির ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়।
- বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ট্রেনটি স্টেশনে আটকা ছিল এবং অনেক যাত্রী স্টেশনে ছিলেন বা ট্রেনে আটকে ছিলেন।
- রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায় — বিকল্প ইঞ্জিন পাঠিয়ে ট্রেনটি গন্তব্যে পাঠানো হবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্টেশন | শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন, গাজীপুর |
| ট্রেন | বলাকা কমিউটার (ঢাকা-জারিয়া) |
| সময়সূচী | ইঞ্জিন বিকল: সকাল ৮টা এরপর; স্টেশনেই আটকে ছিল বিকেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত |
স্থানীয়দের জন্য রেল যোগাযোগের বিঘ্ন রুটে ভোগান্তি সৃষ্টি করলেও রেল বিভাগ জানায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে অন্য ট্রেনগুলোর চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি ও অতিরিক্ত ভ্রমণ ব্যয় হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল।
স্থানীয় প্রভাব ও সতর্কতামূলক প্রয়োজন
শ্রীপুর স্টেশন জলবিন্দু এলাকাজুড়ে কর্মসূত্রে এবং দৈনন্দিন যাতায়াতকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এমন দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। দীর্ঘক্ষণ ট্রেনে কিংবা স্টেশনে আটকে থাকা বিশেষত শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়।
রেলওয়ের সরাসরি মেরামত প্রস্তুতি ও বিকল্প ইঞ্জিন দ্রুত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত—এমনটাই দাবি করেছেন অভিভাবক ও নিয়মিত যাতায়াতকারীরা। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পূর্বাভাস ও জরুরি বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার পরিকল্পনা_local পর্যায়ে কার্যকর হলে ভোগান্তি কমে আসবে বলে স্থানীয়দের মত।
এই ঘটনায় আরেকটি বিষয় হলো দ্রুত যোগাযোগ ও তথ্য প্রদানের প্রয়োজন; অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করলেও প্রকৃত সময়সূচি বা বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি—এও স্থানীয়দের উদ্বিগ্ন করেছে।
ওই দিন বিকল্প ইঞ্জিন এসে ট্রেনটি গন্তব্যে পাঠানো হয়েছে বলে রেলওয়ে জানালেও উদ্ধার ও মেরামতির দ্রুততার ওপর ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলের নির্ভরতা নির্ভর করবে।
প্রতিবেদক: শাহনাজ পারভীন, গাজীপুর প্রতিনিধি, WE NEWS