গাজীপুর—টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় গত শনিবার সড়ক দুর্ঘটনায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার এক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ঢাকা—ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত ও বিক্ষোভ
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ঢাকা—ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করলে দ্রুতগতি একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় সে মারা যায়। আহত ও নিহতের পরিবার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও এলাকায় যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই—তাই তারা বিক্ষোভে নেমে দুর্ঘটনাবীমুখ বস্তুগত ব্যবস্থার দাবি তুলেছে।
রবিবার দুপুরে মাদ্রাসার প্রধান গেট ও গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। অবরোধের ফলে উভয় দিকে যান চলাচল দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন ঘটে এবং দুরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন সারি বাঁধে, বহু যাত্রী ও চালক ভোগান্তিতে পড়েন।
শিক্ষার্থীদের দাবি
- নিরাপদ পথ পারাপারের জন্য স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড ও মাদ্রাসার সামনের এলাকায় ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি।
- দুর্বল পর্যবেক্ষণ ও দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) স্থাপন।
- দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনিশ্চিত ঘোষণা।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আশরাফুল ইসলাম জানান, “ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের জন্য পুলিশ কাজ করছে।”
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের আচরণ
ভাগ্যের সহায়ক হিসেবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পুলিশ ট্যাবল আছে এমন বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারি শুরু করে দ্রুত পরিস্থিতি শিথিল করার চেষ্টা করে। স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃপক্ষ ঘটনার সত্যতা ও নিহতের পারিবারিক সহায়তার বিষয়ে পরে পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।
| ঘটনার ধাপ | তারিখ ও সময় |
|---|---|
| সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু | শনিবার (প্রত্যক্ষ সূত্র অনুযায়ী) |
| ক্ষোভের সৃষ্টি ও বিক্ষোভের ঘোষণা | শনিবার রাত—রবিবার সকাল |
| মহাসড়কে অবস্থান ও অবরোধ | রবিবার দুপুর |
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় প্রভাব
স্থানীয়দের অভিযোগ, গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড ও মাদ্রাসার সামনের সড়কটি ব্যস্ত ও দুর্ঘটনাবহ। নিরাপত্তার তামিল না থাকায় এলাকায় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের বারবার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ফুটওভারব্রিজ ও গতিরোধক নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
অবরোধের ফলে যানজট ও ভোগান্তি সৃষ্টি হলেও অনেক স্থানীয়ও শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। অপরদিকে ব্যবসায়ী এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের ক্ষোভও দেখা গেছে। প্রশাসন ও জেলা সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুততম সময়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এই ঘটনার পর শেখানো অংশ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ফাটল ছাড়া পায়রা উদ্যোগ এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিলে চলাচলকারীদের এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।
এই প্রতিবেদন স্বরূপ ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়ার আপডেট সংগ্রহ করা হবে এবং প্রয়োজনে আরও তথ্য পাঠকের কাছে তুলে ধরা হবে।
প্রতিবেদন: গাজীপুর প্রতিনিধি, WE NEWS