শুক্রবার সকাল থেকে শহরের নানান মোড়ে অভিযান
দিনাজপুরে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার লক্ষ্যে দিনভর র্যালি ও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের রামনগর মাঠ থেকে র্যালিটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অভিযান উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমটি আয়োজন করে দিনাজপুর পৌরসভা, সহযোগিতা করেছে নাইস প্রকল্প। র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রশাসক ও ডিডি-এলজি শেখ হাফিজুর রহমান, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকরা।
উচ্ছেদ অভিযান এবং রাস্তা-ড্রেইন পরিষ্কার
প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে রামনগর মোড়, ছয়রাস্তা মোড় ও ঘাষিপাড়া মোড়সহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে অবৈধভাবে রাস্তা ও ড্রেন দখল করে গড়ে তোলা দোকানপাট ভেঙে ফেলা হয়। অভিযান চলাকালীন পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সচেতনতা সৃষ্টির কল্যাণে তাদের কাছে ট্রেড লাইসেন্স এবং নির্ধারিত স্থানেই বর্জ্য ফেলায় উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পৌর প্রশাসক শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা। তিনি ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেন ট্রেড লাইসেন্স মেনে ব্যবসা ব্যবসা পরিচালনা করতে এবং রাস্তা দখল না করতে। কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান চালানো হবে।
"একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স মেনে ব্যবসা করা, রাস্তা দখল না করা এবং নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
স্থানীয় অংশগ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা র্যালি চলাকালীন প্ল্যাকার্ড ও বিবৃতি প্রদর্শন করে শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় তাদের ব্যাপক ইচ্ছা প্রকাশ করে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অভিযানকে সাধুবাদ জানান এবং দাবি করেন প্রশাসনকে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে হবে যাতে দীর্ঘমেয়াদে শহর দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন থাকে।
সংগঠনের ভূমিকা ও সহযোগিতা
র্যালি ও অভিযানে নাইস প্রকল্পের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়। পৌরসভার সার্বিক আয়োজনে কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হওয়ায় প্রশাসনিক ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
কী ঘটানগুলো সম্পন্ন হয়েছে
- রামনগর মাঠ থেকে র্যালি বের করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ।
- রামনগর মোড়, ছয়রাস্তা মোড় ও ঘাষিপাড়া মোড়ে উচ্ছেদ অভিযান।
- রাস্তা ও ড্রেনের ওপর গড়ে তোলা অবৈধ দোকানপাট ভাঙা।
- বিন্যাসবিধি ও ট্রেড লাইসেন্স মেনে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান।
তথ্যসূত্র ও পরবর্তী দিকনির্দেশ
পৌর প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযানের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ও প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগ থাকলে শহরকে দীর্ঘমেয়াদে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।
| প্রধান অতিথি | জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম |
|---|---|
| পৌর প্রশাসক (উপস্থিত) | ডিডি-এলজি শেখ হাফিজুর রহমান |
| অয়োজক | দিনাজপুর পৌরসভা |
| সহযোগী | নাইস প্রকল্প |
অভিযান ও র্যালি শহরের সংগ্রামী জনজীবন ও পরিবেশ রক্ষায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার ও প্রশাসনিক নজরদারি না থাকলে পুনরায় একই অবস্থা ফিরে আসার আশঙ্কা থাকবে—এই কথা স্থানীয়রা এবং অংশগ্রহণকারীরা উভয়েই উল্লেখ করেছেন।