চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বুধবার সকাল ১০টায় প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ অভিযান শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে চলছে বলে অভিযোগ করা অনিয়মিত ও অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন এবং পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।
পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রস্তুতি বিঘ্নিত হচ্ছে
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দিন-রাত অনিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ রাখতে সমস্যা হচ্ছে এবং পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলেন, এটি তাদের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে পালন করা ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবি হিসেবে রয়েছে—পরীক্ষার সময় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও আশপাশের এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত লোডশেডিং বন্ধ করা এবং লোডশেডিংয়ের একটি নির্দিষ্ট ও প্রকাশ্য সময়সূচি প্রদান। একই সঙ্গে সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।
- পরীক্ষার সময় পলিটেকনিক ও আশপাশে লোডশেডিং বন্ধ;
- লোডশেডিংয়ের স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য সময়সূচি প্রকাশ;
- সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অবিরাম বিদ্যুৎ সরবরাহ;
- বারঘরিয়া এলাকায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ;
- পলিটেকনিকের বিদ্যুৎ সরবরাহ পিডিবি বা নেসকোর আওতায় আনার দাবি।
জেলার সার্বিক ক্ষতিও তুলে ধরা হয়েছে
শিক্ষার্থীরা কেবল তাদের পড়াশোনা নয়, পুরো জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা ও গৃহস্থালীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও প্রভাবিত হচ্ছে বলে দাবি করেন। বিক্ষোভে বক্তব্য রাখা শিক্ষার্থীরা—মাসুম বিল্লাহ, রিপন আলী ও আব্দুর রহিম—জোর দেন দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আরও তীব্র কর্মসূচি নেওয়া হবে।
“পরীক্ষার প্রস্তুতির এই সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লেগে গেলে আমরা পড়াশোনা করতে পারি না; ফলাফলও ব্যাহত হচ্ছে,” — ছাত্র প্রতিনিধিরা।
বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে একটি সাতবিধীয় স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে উপরে genannten দাবি ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগকে জরুরি দৃষ্টি দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
| প্রতিক্রিয়াকারী পক্ষ | জরুরি দাবি |
|---|---|
| পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা | পরীক্ষাকালীন লোডশেডিং বন্ধ, নির্দিষ্ট সময়সূচি, সন্ধ্যা-রাত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ |
| স্থানীয় ব্যবসা ও সেবা প্রতিষ্ঠান (দাবি উল্লিখিত) | জেলা ও গ্রামাঞ্চলে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ |
শিক্ষার্থীদের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, পলিটেকনিকের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পিডিবি কিংবা নেসকোর আওতায় আনতে প্রশাসনকে চাপ দেবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীদের অসুবিধা ও অব্যাহত পরীক্ষার সময় তা যে পরিমাণ উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, তা থেকে বোঝা যায়—সমাধান না হলে এই সমস্যার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা আছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে দ্রুত সমন্বয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও স্মারকলিপির বিষয়বস্তুর প্রেক্ষিতে এখন নজর থাকবে—কীভাবে জেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের দাবি মেনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।