চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মতবিনিময় সভা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী।
সভায় আলোচনা করা হয় ডেঙ্গু রোগের বিস্তার রোধে কতৃক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। অংশগ্রহণকারীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের উপর আলোচনা চলে।
“ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।”
অংশগ্রহণকারী প্রধান কর্মকর্তারা
| নাম | পদবী/প্রতিষ্ঠান |
|---|---|
| উজ্জ্বল কুমার ঘোষ | উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার ও পৌরসভা প্রশাসক |
| ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দিন | সিভিল সার্জন |
| মারুফ আফজাল রাজন | সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার |
| মো. আব্দুল মতিন | জেলা শিক্ষা অফিসার |
| মো. খাইরুল ইসলাম | চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, সহ-সভাপতি |
| রফিকুল ইসলাম | টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি |
| ফেরদৌস সিহানুক (শান্ত) | মডেল প্রেসক্লাব, সভাপতি |
সভায় নির্ধারিত মূল উদ্যোগ
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি: নগর ও গ্রামাঞ্চলে নিয়মিত পরিষ্কারের মাধ্যমে মশার আশ্রয়স্থল কমানো।
- প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস: বাড়ি-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস ও আদালতসহ সৃষ্ট জমে থাকা পানি অপসারণ করা।
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি: জনগণকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে নিয়মিতভাবে অবহিত করা।
- দপ্তরগুলোর সমন্বয়: স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা ও প্রশাসনিক দপ্তর সমন্বিতভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।
সভায় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধি ও অন্যান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সিভিল সার্জন ও জেলা শিক্ষা অফিসারসহ অংশগ্রহণকারীরা বিশেষত স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম দ্রুত কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এতে সন্তানেরা ও তাদের অভিভাবকরা ডেঙ্গুর ঝুঁকি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন হলে ছড়ানোর হার কমানো সম্ভব হবে বলে তারা জানান।
চিকিৎসা নিশ্চিত করাটা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সভায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে রোগ বিস্তারের অন্যতম মূল কারণ হচ্ছে মশার প্রজননক্ষেত্র। অতএব শুধু চিকিৎসা সেবা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়—বিরামহীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ঘরে বাইরে জমে থাকা পানির উৎস খুঁজে বের করে তা দূর করা জরুরি।
স্থানীয় ব্যবসায় সংগঠন ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয়ে সচেতনতা কর্মসূচি হাতে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। জেলা প্রশাসনও এই উদ্যোগগুলোর সময়সীমা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করবে বলে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সরাসরি যেকোনো নতুন নির্দেশনা বা বাস্তবায়িত কর্মসূচি সম্পর্কে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তবে অধৈর্যতার সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও ঘর-সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে ও জমে থাকা পানি সরিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অংশ নেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।