চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি গ্রামীণ দাখিল মাদ্রাসার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে স্থানীয় শিক্ষা কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন তথ্য উঠে এসেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের বিশ্লেষণে জানা গেছে, জেলার চারটি দাখিল মাদ্রাসায় মোট ২৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল; তাদের মধ্যে মাত্র ১৬ জনই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন—তবে অংশ নেওয়া প্রত্যেকেই অকৃতকার্য হয়েছেন।
কোন মাদ্রাসায় কী ফলাফল?
ফলাফল বিশ্লেষণে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
| মাদ্রাসার নাম (উপজেলা) | নিবন্ধিত | পরীক্ষায় অংশ নেয় | পাস | অনুপস্থিত |
|---|---|---|---|---|
| গোপীনাথপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসা (গোমস্তাপুর) | ১৬ | ১৪ | ০ | ২ |
| ব্রজনাথপুর দাখিল মাদ্রাসা (গোমস্তাপুর) | ৪ | ০ | ০ | ৪ |
| বকুলতলা দাখিল মাদ্রাসা (নাচোল) | ৫ | ২ | ০ | ৩ |
| নাটোর দাখিল মাদ্রাসা (শিবগঞ্জ) | ১ | ০ | ০ | ১ |
স্থানীয় উদ্বেগ ও প্রশাসনিক তাৎপর্য
প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, একদিকে কিছু মাদ্রাসায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার হার উচ্চ—কিছু প্রতিষ্ঠানে নামমাত্র শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও কাদের পরীক্ষা দেয়া হলো না। অন্যদিকে যে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয়েছে, সেখানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে কেউই পাস করতে পারেনি। এই দুই দিকই প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতি, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীবৃন্দের নিয়মিত উপস্থিতি এবং বিদ্যালয় প্রশাসনের তদারকির উপর প্রশ্ন তোলে।
স্থানীয় শিক্ষাবিদরা মনে করেন, নামমাত্র শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে পাঠদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা ও প্রশাসনিক তদারকিতে ঘাটতি রয়েছে। তারা বলছেন, এসব মাদ্রাসার পাঠদান সুষ্ঠু হচ্ছে কি না, অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সম্পর্কে যথাযথ প্রস্তুতি দেওয়া হচ্ছে কি না এবং কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমিকভাবে মান নিরীক্ষণ করছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থতা
আক্রান্ত মাদ্রাসাগুলোর সুপারদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সামাজিক যোগাযোগে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী—গোপীনাথপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসার সুপার রায়হান উদ্দীন বহুবার ফোন করেও কল রিসিভ করেননি। একইভাবে বকুলতলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার সুলতান আহম্মেদ এর মোবাইলও বন্ধ ছিল। ফলে প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব হয়নি।
“পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দু'টি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থী পাস না করাটা জেলার জন্য খুবই ডিসক্রেডিট।”
এ মন্তব্যটি করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা, যিনি ফলাফলের এই ঘটনা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সূত্রে জানা গেছে, অন্য দুটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীরা নিবন্ধন করে পরীক্ষায় কেন অংশ নেয়নি—তার কারণ জানার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে কথা বলা হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
এ ধরনের ফলাফল শুধুমাত্র সংখ্যাতাত্ত্বিক উদ্বেগ নয়; এটি গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার স্বাধীনতা ও মান নিয়ন্ত্রণের অভাবকে উন্মোচন করে। মাদ্রাসা শিক্ষায় বিশ্বাস করে বহু পরিবার রয়েছে; সেখানে যদি মৌলিক পাঠদান ও পরীক্ষামূলক প্রস্তুতির মান না থাকে, তবে ওই এলাকার শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের দিকে প্রভাব পড়তে পারে।
- স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত তদন্ত করে পরীক্ষা-ভিত্তিক সংস্কার প্রণয়ন করতে হবে।
- মাদ্রাসাগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষক-অধ্যক্ষদের মান যাচাই জরুরি।
- অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ জোগাতে হবে।
এ ঘটনায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা কোথাও পদক্ষেপ নেবেন কি না, তা নিয়ে স্থানীয়রা নজর রাখছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলেই পরবর্তী করণীয় স্পষ্ট হবে।